কিংবদন্তী অভিনেতার জন্মদিনে নানা আয়োজন

আগামীকাল ২৩ জানুয়ারি চিত্রনায়ক রাজ্জাকের ৭৬তম জন্মদিন। মারা যাওয়ার পর এ কিংবদন্তী অভিনেতার জন্মদিনটি ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদ্‌যাপনের উদ্যোগ নিয়েছে তার পরিবার এবং চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে দোয়া মাহফিল আর এতিম ও গরিবদের মধ্যে খাবার বিতরণ।

আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা বনানীতে রাজ্জাকের কবর জেয়ারত করবেন বলে জানিয়েছেন ছোট ছেলে সম্রাট। জোহর নামাজের পর এতিম ও গরিবদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হবে। গুলশান আজাদ মসজিদে আসর নামাজের পর দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে বেলা সাড়ে ১১টায় বনানীতে রাজ্জাকের কবর জিয়ারত করার পর বিএফডিসিতে স্থাপিত রাজ্জাকের স্মৃতিফলকে ফুল দেওয়ার উদ্যেগ নিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। এরপর সংগঠনটির কার্যালয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেক কাটা হবে। বিকেলে বিএফডিসি মসজিদে মিলাদ মাহফিল হবে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘দিনটি আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব। নায়করাজ রাজ্জাকের জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজন থাকছে। এতে তার সহকর্মী, সিনিয়র শিল্পী ও পরিচালকেরা অংশ নেবেন।

এদিকে নায়করাজের জন্মদিন উপলক্ষ্যে গান গাইলেন গায়ক, সুরকার সংগীত পরিচালক সুমন কল্যাণ। ‘তুমি সূর্য, তুমি আলো/আঁধারের পথে আগুন জ্বালো/কালের যাত্রী তুমি, তোমার নাই তো শেষ/তুমি নায়করাজ কোটি প্রাণের রেশ’-এমন কথায় নায়করাজ রাজ্জাককে গানের সুরে বাঁধলেন সংগীতশিল্পী সুমন কল্যান। গানটির কথা লিখেছেন আবু সায়েম চৌধুরী। এটি প্রযোজনা করেছে লেজার ভিশন।

উল্লেখ্য, চলচ্চিত্রের বরেণ্য পরিচালক ও প্রযোজক চিত্রনায়ক রাজ্জাক ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি ভারতের দক্ষিণ কলকাতার নাকতলায় জন্মগ্রহণ করেন।  ষাটের দশকের মাঝের দিকে তিনি চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। সত্তরের দশকেও তাকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রধান অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হত।

তিনি শুধু অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি একাধারে প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্র অঙ্গনে ভূমিকা পালন করেছেন। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্বরসতী পূজা চলাকালীন সময়ে মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের জন্য তার গেম টিচার রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাকে কেন্দ্রীয় চরিত্রের (নায়ক) জন্য বেছে নেন। এরপর থেকে তিনি কলকাতার মঞ্চ নাটকে জড়িয়ে পড়েন। নায়ক রাজ প্রায় ৩০০টি বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র। সেরা অভিনয়ের জন্য এ কিংবদন্তি নায়ক তিনি বেশ কয়েকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৭৬, ১৯৭৮, ১৯৮২, ১৯৮৪, ১৯৮৮ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পান। এছাড়া তাকে ২০১৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়। ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট তিনি মারা যান।

x

Check Also

জিতের বিপরীতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি : মিম

এবার কলকাতার সুপারস্টার জিতের বিপরীতে অভিনয় করবেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম। সম্প্রতি ...