সাফল্যের মূর্ত প্রতীক ইডেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০১৮-১৯ সেশনে কলেজ একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলবে, উদ্যোক্তা আবদুল আউয়াল

প্রতিবেদক( হোসেন বাবলা):০৫জানুয়ারী

২০০৯ সালর পূর্বের কথা: কুমিল্লা থেকে পড়া লেখা শেষ করে আবদুল আউয়াল চাকুরি করে তৃপ্তি পাচ্ছিলেন না। শুরু করেন ব্যবসা। ব্যবসায় বিভিন্ন পর্যায় পেড়িয়েও ছিলনা মানসিক প্রশান্তি, অথবা সফলতার হাত ছানি। সে ব্যবসায়ও ‘কি যেন নেই’ ভেবে ছেড়ে দেন ব্যবসা। আবারো ফিরে আসা নতুন করে শিক্ষকতায়। কিন্তু মন ভরে না। কিছু একটা বিলিয়ে দেয়ার প্রবল বাসনা অহেতুক ঘুরপাক খায় শিক্ষক আবদুল আউয়ালের মনে। স্বাভাবিকভাবে যা হচ্ছিল বিদ্যালয়ের পড়ালেখা তার চেয়ে আরো বেশি কিছু করা যেত সন্তানের জন্য। (সন্তান আবদুল আউয়ালের অথবা ইডেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হওয়া সকল শিক্ষার্থীই তাঁর সন্তানের মত) আর সকল সন্তানের মঙ্গল ভাবনায় মনে হতে থাকে- ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক শিক্ষা, আচরণিক শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বর্তমান প্রজন্ম। সামাজিক ইতিবাচক চেতনাহীন হয়ে যাচ্ছে তারা। শৃঙ্খলিত সুন্দর জীবনের মূল মন্ত্র থেকে ক্রমশঃ দূরে সরে যাচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। মানসম্মত শিক্ষা বঞ্চিত হচ্ছে তারা। দীর্ঘদিন থেকে ‘কিছু একটা অতৃপ্তির’ ভাবনাটি এবার বুঝি ধরতে পেরেছেন আবদুল আউয়াল। দু’য়ে দু’য়ে চার মিলে যাওয়ায় পরিবারের সঞ্চিত প্রায় সব অর্থ বিনিয়োগ করে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বাসনা জাগে তাঁর মনে। শুরু করেন সেই স্বপ্নের বীজ বোনা। নিজের সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করান। নতুন করে চাহিদা তৈরী হয় নিজ সন্তানের জন্য। সে চাহিদা অনুযায়ী নতুন স্বপ্ন তৈরী হয়। আর সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রয়োজনেই ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে গড়ে তোলেন ‘ইডেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। শুরুটা মসৃণ ছিলনা কখনো, কোন পথই মসৃণ থাকেনা। এগিয়ে চলাটা দুষ্কর- এটা মেনে নিয়েই শুরু করেন মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের এই কার্যক্রম। সময়ের বিবর্তনে ঘটে যাওয়া তথ্য-প্রযুক্তির বিপ্লবকে তিনি প্রয়োগ করেছেন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। প্রথম দিকে পুজির সীমাবদ্ধতা, ভালো শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে না পারা, আর্থিক সংকটসহ নানান চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে এগিয়ে গেছেন তিনি। তাঁর এই একাগ্রের মন্ত্রকে তাই স্যালুট জানানো যায় নির্দিধায়। ২০১১ সালের এই প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতার ঝুলিতে যুক্ত হতে থাকে সাফল্যের স্বীকৃতিগুলো। ২০১১ সালের শিক্ষা বর্ষে ইডেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১১ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ জন এ প্লাসসহ শতভাগ পাস প্রথম সাফল্য। এরপর পর্যায়ক্রমে ২০১২ সালে ইডেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পঞ্চম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষায় ২ জন এ প্লাসসহ মোট ১৫ জন পরীক্ষার্থীর সবাই, জেএসসিতে ৩ পরীক্ষার্থীর সবাই প্রশংসনীয় ফলাফলে উত্তীর্ণ হয়। ২০১৩ সালে পিইসিতে ১৫ পরীক্ষার্থীর ৩ জন এ প্লাসসহ সবাই পাস করে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখে। এই বছর জেএসসিতে ৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ জন ছাড়া সবাই পাস করে। ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে সাফল্য। ২০১৫ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথমবারের মতো ৮ শিক্ষার্থী মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, তাদের সবাই ভালো ফলাফল অর্জন করে শতভাগ পাশের সূচনা করে। একই বছর পঞ্চম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষায় ২৪ পরীক্ষার্থীর ৬ জন এ প্লাসসহ শতভাগ, জেএসসির ২৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫ জন এ প্লাসসহ শতভাগ পাশ করার কৃতিত্ব অর্জন করে। ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে এই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসিতে ৩৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এরমধ্যে ৫ জন এ প্লাস অর্জন করে। দুইজন অকৃতকার্য হলেও বাকিরা সবাই ভালো ফলাফল অর্জন করে। এই বছর পঞ্চম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষায় ৩৪ জনের মধ্যে ৮ জন এ প্লাসসহ শতভাগ পাশ, জেএসসিতে ৩৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫ জন এ প্লাসসহ শতভাগ পাশের ধারাবাহিক সফলতা ধরে রাখে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে পিইসি পরীক্ষায় ৩৪ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৮ জন এ প্লাসসহ সবাই পাশ করে। অন্যদিকে জেএসসিতে ৩৪ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাশের সাথে ৩ জন এ প্লাস অর্জন করে। চলতি ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নার্সারি-দশম শ্রেণি পর্যন্ত বর্তমানে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত আছে। ২০১৬ সনের ডিসেম্বর পর্যন্ত একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো ভাড়া বিল্ডিং এ।

জানুয়ারি ২০১৭ থেকে সুপরিসর ক্লাস রুম, খেলার মাঠ সমৃদ্ধ নিজস্ব ক্যাম্পাসে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ২০১৮-১৯ সেশনে কলেজ অর্থ্যাৎ একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ও শিক্ষা কার্যক্রম চলবে।
এমন ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য অভিভাবকরা ‘সাফল্যের মূর্ত প্রতীক’ হিসেবে অবহিত করেছেন ইডেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে। এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থী জেরিন এর অভিভাবক (মা) শারমীন বলেন, এখানে আমার সন্তানকে দিয়ে আমি একেবারেই নির্ভার ছিলাম। কেননা, এই প্রতিষ্ঠানে আমার সন্তানকে ভর্তি করার পর কোনো প্রাইভেট টিচার রাখতে হয়নি। প্রতিদিনই ক্লাস শেষে অতিরিক্ত ২-৩ ঘন্টা ধরে এসপিসিতে (স্পেশাল প্রাইভেট কেয়ার) থাকার ফলে আমার সন্তান ভালো রেজাল্ট করেছে। আরেক অভিভাবক (খালেদ হাসানের বাবা) জানান, আমি সারাদিনই চাকুরিতে থাকি। আমার স্ত্রীও। এখানে ইডেনের নিজস্ব ক্যাম্পাসে সারাদিনের স্কুল কার্যক্রম থাকার কারণে আমার সন্তানকে সারাদিন রেখে নিশ্চিন্তে অফিস করতে পারছি। মানসিক দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে পারছি।

জানা গেছে, ইডেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বর্তমানে জুনিয়র (নার্সারি থেকে ৪র্থ শ্রেণি) ও সিনিয়র সেকশনে (৫ম থেকে ১০ম শ্রেণি) পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে আবাসিক, অনাবাসিক ও সারাদিনের স্কুল ব্যবস্থাপনা থাকায় চাকুরিজীবী কিংবা দূরের যে কোনো ¯ম’ান থেকে শিক্ষার্থীদের এই প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করতে কোনো সমস্যা হয় না। রয়েছে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাও। নগরীর পাহাড়তলীর সরাইপাড়াস্থ ইডেন সিটিতে অবস্থিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সিসি টিভি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। রয়েছে ভিডিও লার্নিং ক্লাস : প্রতিটি শ্রেণি কক্ষে টেলিভিশন/প্রজেক্টর সেট করা হয়েছে। বোর্ড বই/পাঠ্য বই সমুহ ভিডিও/কন্টেন্ট আকারে ইডেন কর্তৃপক্ষ কনভার্ট/তৈরী করেছে। যাহা টিভি/প্রজেক্টরের পর্দায় ভিডিও আকারে প্রদর্শন করা হয়। শিক্ষার্থীরা মন্ত্রমুগ্ধের মত সে পাঠ আত্মস্থ করে। ক্লাসের পাঠ বুঝতে সহজ হয়। স্বল্প সময়ে পাঠ শেখা যায়। এই ভিডিও লার্নিং ক্লাস পাহাড়তলীতে ইডেনেই প্রথম চালু করার দাবি করতে পারে। সম্মানিত অভিভাবকদের এই ভিডিও লার্নিং ক্লাস পরিদর্শনের অনুরোধ জানাচ্ছি। এছাড়া কম্পিউটার প্রশিক্ষণ রয়েছে নিয়মিত পাঠের অংশ হিসেবে। ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ ছাড় ও বৃত্তি দেয়া হয় নিয়মিত। এছাড়াও নিয়মিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, ক্রীড়া ও বিজ্ঞান বিষয়ক বিশেষ আয়োজন থাকে বছর জুড়ে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বেশ কিছু পুরস্কার-সম্মাননা অর্জন করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। সফলতার সিঁিড় বেয়ে অনেক দূর যেতে হবে। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। ইডেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে এলাকার শ্রেষ্ট/সেরা স্কুল হিসাবে প্রতিষ্ঠা করাই কর্তৃপক্ষের প্রতিজ্ঞা। আর সে প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নে আবদুল আউয়াল ও তার সকল সহকর্মিদের আন্তরিক ও

ভিন্নধর্মী প্রচেষ্টা দেখলেই বুঝতে পারা যায় সফলতার সিঁিড় শ্রষ্টা তাদের জন্যই সৃষ্টি করেছেন।
প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা আবদুল আউয়াল বলেন, আমাদের জন্য বড় বাধা হচ্ছে সরকারি নীতির মধ্যে বেসরকারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত না করা। আরো অনেক বাধা আছে চলার পথে। প্রতিটা বাধাকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়ে অতিক্রম করে সফলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে ইডেন। এছাড়াও সরকার আমাদের যথাযথ নীতির মধ্যে আনতে চাইলেও অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভূমিতে ক্যাম্পাস না থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও অনুমোদন দিতে পারছে না। তবে এই সংকট ইডেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নেই।

ইডেনের নিজস্ব মালিকানায় বিশাল ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠিত। ইতোমধ্যে ডিজিটাল এটেন্ডেন্স, অটো এসএমএস, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নির্ভর শিক্ষাদান পদ্ধতি চালু করেছে ইডেন কর্তৃপক্ষ। এখানকার সকল কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়ে আসায় শিক্ষার মান যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি নিজস্ব ভূমিতে বিশাল ক্যাম্পাস শিক্ষার পরিবেশকে দারুণভাবে সমৃদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, সরকারিভাবে আমাদের গাইড করলে আমরা আরো বেশি সমৃদ্ধ হবো।

যদিও সরকারি বিভিন্ন প্রশিক্ষণে আমাদের শিক্ষকবৃন্দ আমন্ত্রণ পেয়ে থাকেন। আমরা এই প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বমানের সমৃদ্ধ মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি। সেরা মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে উঠুক ইডেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এই প্রত্যাশা আমাদেরও।

x

Check Also

চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ এর নির্বাচনে স্বাধীনতার পক্ষে বিপক্ষের লড়াই

আগামী ২২শে জানুয়ারী ২০১৮ইংরেজী, সোমবার রাঙ্গুনিয়ার উপশহর হিসেবে পরিচিতি ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজার ব্যবসায়ী বহুমুখী ...