হালিশহর মাইজপাড়া বধ্যভূমির জমি উদ্ধার ও সংরক্ষনের দাবীতে ছাত্রলীগের মানববন্ধন ১৯৭১ র '৩১ মার্চ হালিশহর মাইজপাড়ায় ইপিআর সৈন্যসহ প্রায় ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : ১৪ডিসেম্বর

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত গনহত্যার নিদর্শন হালিশহর মাইজপাড়া বধ্যভূমির জমি উদ্ধার, সংস্কার ও সংরক্ষনের দাবীতে সম্প্রতি মানববন্ধন করেছে হালিশহর থানা ছাত্রলীগ।

নগর ছাত্রলীগের যুগ্মসাধারন সম্পাদক গোলাম সামদানী জনির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগ নগর সা:সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, এসময় আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের হিমু, নগর ছাত্রলীগ নেতা আশেকুন নবী, নগর ছাত্রলীগের উপ-যোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান সহ প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নূরুল আজিম রনি বলেন,স্বাধীনতা যুদ্ধে হালিশহরের মাইজপাড়া বধ্যভূমিটি বাংলাদেশের প্রথম বধ্যভূমি। ১৯৭১ সালের ৩১ শে মার্চ হালিশহর মাইজপাড়া এলাকায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছিল শতাধিক নিরস্ত্র ইপিআর সৈন্যসহ প্রায় ২০০ জনের বেশি সাধারন মানুষ। পুরো এলাকায় পাক হানাদার বাহিনী ও স্থানীয় বিহারীরা সেদিন বাঙ্গালী নিধন অভিযানে ব্রাশফায়ারের গুলির পাশাপাশি তলোয়ার, ধামা, কিরিচ, বর্ষা ও বল্লম দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে মানুষ হত্যা করেছিলো। হত্যাকান্ডের পর স্থানীয় একটি ডোবায় সেদিন লাশ ফেলে রাখা হয়েছিলো।

ঐতিহাসিক ঐ ডোবাটি পরবর্তীতে বধ্যভূমি হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছিলো। এলাকাবাসী ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন দলিলাদি পাঠ করে আমরা জানতে পেরেছি বধ্যভূমিটির আয়তন ছিলো তখন দেড় গন্ডা জমি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ঐ বধ্যভূমিটি এখন দখল বেদখলের খেলায় দশ হাত জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের প্রথম বধ্যভূমিটি কোথায় তা এখন বর্তমান প্রজন্ম জানেনা। আমরা অতিসত্বর জেলা প্রশাসন সহ মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়কে অনুরোধ করবো এই ঐতিহাসিক বধ্যভূমিটির জায়গা উদ্ধার করুন, সংস্কার করুন ও সংরক্ষন করুন।
সভাপতিত্বের বক্তব্যে বলেন, ঐতিহাসিক বধ্যভূমির জায়গা দখল হয়ে গেছে কিন্তু কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই। দশ পনের হাত জায়গার উপর
একটি পুরানো দেয়াল দাড়িয়ে আছে কিন্তু তাও অযত্ন অবহেলা আর স্থানীয়দের ময়লা আবর্জনার ফেলার ডাষ্টবিনে পরিনত হয়েছে। এভাবে হয়ত ঐতিহাসিক বধ্যভূমিটি আর কিছুদিন তার স্মৃতি জানান দিবে। কিন্তু এই বধ্যভূমিটি সংরক্ষন না করলে আগামী প্রজন্ম জানবে না কিভাবে ১৯৭১ সালে হালিশহর ইপিআর ক্যাম্প দখলে নিয়ে পাক হানাদার বাহিনী পুরো এলাকায় গনহত্যা চালিয়েছিলো। আমরা অনতিবিলম্বে এই বধ্যভূমিটি সংরক্ষনের জোর দাবী জানাচ্ছি।

উপস্থিত ছিলেন ওমরগণি এম.ই.এস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন, হালিশহর থানা ছাত্রলীগ নেতা এ.কে আরিফ খান, মোঃ রিগান হাসিব, ১১ নং দক্ষিন কাট্টলি ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা এ আর অপু, মোঃ রুবেল, মোঃ মনির, মোঃ সামীম, মোঃ ইসমাইল, মোঃ সাকিব, বাদশা, সৈকত ভুইয়া, বকুল, ২৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা নওশাদ আলী, ইনরান খান, জাহাঙ্গীর, শরিফ, সৈকত ,তন্ময়, রাব্বী, রিমন, সাকিব, ২৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ শাহরিয়ার সুজন, মুহাম্মদ ওমর ফারুক রাফি, শাফায়েত উদ্দিন মিরাজ, মোঃ শাফায়াত রহমান প্রমুখ।

x

Check Also

শহীদ আসাদ দিবস আজ

  ঢাকা, ২০ জানুয়ারি, ২০১৮ (বাসস) : আজ শহীদ আসাদ দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে ...