সড়ক পরিবহন আইনে “সড়ক নিরাপত্তা তহবিল চাই” শীর্ষক এক আলোচনা সভা ঢাকা রিপোর্টার’স ইউনিটি মিলনায়তনে যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভা

ঢাকা সংবাদদাতা, ৭ ডিসেম্বর
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রায় ৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা দেওয়ার মহামান্য হাইকোর্টের রায়কে ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী বলে দাবী করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। আজ ৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে সেগুনবাগিছাস্থ ঢাকা রিপোর্টার’স ইউনিটির গোলটেবিল মিলনায়তনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ মামলার যুগান্তকারী রায় : সড়ক নিরাপত্তায় মাইল ফলক। প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনে “সড়ক নিরাপত্তা তহবিল চাই” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সরকারের সাবেক সচিব ভুইয়া সফিকুল ইসলাম, বুয়েট এক্সিডেন্ট রিসার্স ইনষ্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক মো. হারুন উর রশিদ, সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হানিফ খোকন, গণ আজাদী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ খান প্রমুখ।বাংলাদেশের সড়ক মহাসড়ক মৃত্যুকুপে পরিণত হয়েছে। এখানে প্রতিদিন সড়কে অসংখ্য তাজা প্রাণ ঝড়ছে। এমন কোন বাড়ী বা পাড়া মহল্লা পাওয়া যাবে না যেখানে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত নেই।

সড়কে চলছে সামগ্রিক বিশৃংখলা, অরাজকতা, নৈরাজ্য ও আইন অমান্য করার দৃষ্টতা। এহেন পরিস্থিতিতে সড়কে মৃত্যুর মিছিল চলছে। এই অপমৃত্যুর গণ মিছিল থামাতে তারেক মাসুদের পরিবার কর্তৃক দায়েরকৃত ক্ষতিপূরণ মামলায় মহামান্য হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন তা ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী। দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই রায় মাইল ফলক হিসেবে কাজ করবে। যারা সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে আস্ফালন করতো আজ তাদের বুকে কাঁপন ধরছে।
এই রায় বেপরোয়া পরিবহন খাতকে শৃংখলিত করতে ভুমিকা রাখবে বলে দাবী করেন বক্তারা।

সংগঠনের মহাসচিব মো, মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রভাবশালী মালিক-শ্রমিক নেতাদের চাপে প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইন-২০১৭ এর ধারা-উপধারা দূর্বল করে ফেলা হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের চিকিৎসা ও পূর্ণবাসনে “সড়ক নিরাপত্তা তহবিল” গঠনের দাবী জানিয়েছিলাম কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে তা রাখা হয়নি। আজ আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমানিত হয়েছে দুর্ঘটনায় হতাহতদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনে সড়ক নিরাপত্তা তহবিল গঠনের বিষয়টি অর্ন্তভুক্তির দাবী জানান।
সরকারের সাবেক সচিব ভুইয়া সফিকুল ইসলাম বলেন, সড়কে চাঁদাবাজী, ক্ষমতার অপব্যবহার, আইন প্রয়োগের শিতিলতা ও মালিক শ্রমিকনেতাদের বেপরোয়া মনোভাব এই সেক্টরকে বিপদজনক দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এখান থেকে বেড়িয়ে আসতে হলে আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরী।
এই জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দৃঢ় অঙ্গীকার।
বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, সঠিক অনুসন্ধানের মধ্যে দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার কারন নির্ণয় করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা না গেলে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য চ্যালেন্স হয়ে যাবে।

সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হানিফ খোকন বলেন, আমাদের মালিক ও শ্রমিক নেতারা চাদাবাজীতে ব্যস্ত, তাদের অনেকেই শতশত কোটি টাকার মালিক, গাড়ী-বাড়ী একাধিক প্লট-প্ল্যাটের মালিক। তাদের কায়েমী স্বার্থের কারনে এই সেক্টর দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। শ্রমিকরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে , মালিকরা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে চালকদের অতিরিক্ত ট্রিপ দিতে বাধ্য করছে এই কারনে সড়ক নিরাপত্তা ব্যহত হচ্ছে।

x

Check Also

বিজয়ে জম্ম নেওয়া মহিউদ্দিন বিজয়েই চির বিদায় চট্টগ্রাম…!

মরিতে চাই না আমি সুন্দর ভুবনে, বাচিঁতে চাই সর্বদা এই চট্টলায়….., আমি অহংকারী বীর চট্টলার ...