শাকিবের দুই কারণের ব্যাখ্যা দিলেন অপু

অপু বিশ্বাসকে পাঠানো তালাক নোটিশে দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন শাকিব খান।

কারণগুলো হলো, অপু তাদের সন্তানকে কাজের লোকের কাছে রেখে ‘কথিত’ বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে ভারতে বেড়াতে গিয়েছিলেন, এবং অপু তার (শাকিবের) কোনো নির্দেশ মেনে চলেন না।

তালাক নোটিশে উল্লেখিত কারণগুলোর প্রসঙ্গে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস বলেন, ‘যে দুটি কারণ দেখিয়ে আমাকে ডিভোর্স লেটার পাঠানো হয়েছে সেসব সত্যিই আমার কাছে বোধগম্য নয়।’

আজ বুধবার ৬ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিস্ময়সূচক কণ্ঠে নায়িকা বলেন, ‘আমার শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ থাকায় আমি আব্রামকে রেখে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম। যদিও জয়কে নিয়েই আমার ভারত যাওয়ার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু তাকে দেখাশোনার জন্য আমার বাসায় সেলিনা আক্তার (শেলী) নামে যে মেয়েটি থাকে তার ভারতীয় ভিসার মেয়াদ ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে একদিনের জন্য আমি একাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার জন্য ভারতে যাই। এবং ডাক্তার দেখানোর পরদিনই আবার ফিরে আসি।’

ভারতে যাওয়ার আগে শাকিবের এক কাজিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন জানিয়ে এই চিত্রনায়িকা বলেন, কিন্তু তিনি ওই সময় ব্যাংককে শাকিবের সঙ্গে ছিলেন। শারীরিক অবস্থা খারাপ না থাকলে আমি দ্রুত চলে যেতাম না। এটা ডিভোর্সের কোনো ইস্যু হতে পারে না। তাছাড়া একদিনের জন্য ভারত গেলেও আব্রামকে দেখাশুনা করার জন্য আমি বাসার কাজের মেয়েসহ আমার কাজিনকে রেখে গিয়েছিলাম।

বয়ফ্রেন্ড প্রসঙ্গে অপু বিশ্বাস বলেন, কথিত বয়ফ্রেন্ড বলে নায়ক বাপ্পিকে ঘিরে আমাকে নিয়ে যে মন্তব্য করা হচ্ছে এটা শুনে আমি বিস্মিত হয়েছি। আমি চিকিৎসা করাতে ভারতে গিয়েছিলাম, কোনো বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে না। এটা কেন সাজানো হচ্ছে আমি জানি না। আর বাপ্পির কথা এখানে কিভাবে এলো। বাপ্পি তো আমার জুনিয়র। আমাকে দিদি ডেকে সে সবসময়ই সম্মান করে।

যদিও হায়দরাবাদে ‘নোলক’ ছবির শুটিংয়ে থাকা শাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল বলে জানান। শাকিব বলেন, আমি আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আর কোনো কথা বলতে চাই না। ডিভোর্স সংক্রান্ত বিষয়ে আমার আইনজীবী যা বলার বলবেন। ছেলে আবরাম খান জয় প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, সে তো আমারই সন্তান। আমার সন্তানের ভালোর জন্য যা যা করার দরকার, আমি অবশ্যই তা করব।

শাকিবকে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ জানিয়ে অপু বলেন, না হলে আমার আর কোনো পথ থাকবে না। প্রয়োজনীয় যা করার সবই করতে হবে আমাকে।

অপু বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চাইছি। কারণ ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করার পর আজ আমাকে শাকিব তালাক দিতে চাইছে। আমি এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়াব। আমার সম্প্রদায় তো এখন আমাকে আর স্বাভাবিকভাবে মেনে নেবে না।

অপু বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সহনশীল ও সুবিবেচনাপ্রসূত মনের মানুষ। তার সহমর্মিতা অতুলনীয়। আমি দেশের একজন প্রথম শ্রেণির নাগরিক। শাকিবের একরোখা সিদ্ধান্তে আমার জীবন এখন বিপন্ন। প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপই এই দুর্বিষহ অবস্থা থেকে আমাকে মুক্ত করতে পারে। মানবাধিকার ও নারী সংগঠনগুলোকেও পাশে চান অপু।

তিনি বলেন, সেলিব্রেটি হলেও আমার সামাজিক মর্যাদা রয়েছে। ডিভোর্সের মতো একটি ন্যক্কারজনক সিদ্ধান্ত কখনো মেনে নেওয়া যায় না। অপুর কথায়, সংসারে ঝগড়া, ঝামেলা থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। শাকিবের সিদ্ধান্ত মেনে নিতাম যদি একই ধর্মের হতাম। আমাকে ও জোর করে ধর্মান্তরিত করেছে, বিয়ে করেছে। তাই তার এই অমানবিক সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেব না।

x

Check Also

ইতালিতে আনুশকাদের পারিবারিক পুরোহিত, তাহলে বিয়ে কি আজই

ইতালিতে কি বিয়ে করতেই গেলেন আনুশকা? এমন জল্পনায় শুক্রবার দিনভর সরগরম ছিল ইন্ডাস্ট্রি। সেই জল্পনা ...