হাইভোল্টেজ ম্যাচে রংপুরের রুদ্ধশ্বাস জয়

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরের বিগ বাজেটের দল ঢাকা ডায়নামাইটসকে হারিয়ে আসরে নিজেদের তৃতীয় জয় তুলে নিল আরেক বিগ বাজেটের দল রংপুর রাইডার্স। দিনের দ্বিতীয় খেলায় সাকিবের ঢাকাকে ৩ রানে হারায় মাশরাফীর রংপুর।

আসরে দুই দলের প্রথম সাক্ষাতে ঢাকাকে ১৪৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুড়ে দেয় রংপুর। জবাবে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে সব কয়টি উইকেট হারিয়ে ১৩৯ তুলে ঢাকা। এতে ৩ রানের জয় পায় গেইল-ম্যাককালাম-মালিঙ্গারা। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৯ রান ক্রিজে ছিলেন পোলারড। ছয় একটা মেরেও দিলেন কিন্তু শেষ রক্ষা হলনা। বোল্ড হয়ে ফিরে গেলে পেরেরার ম্যাজিকে জয় পায় ঢাকা।

এর আগে, মঙ্গলবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে রংপুরকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দুর্দান্ত শুরুর পর শেষদিকে পথ হারিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারের ১ বল বাকি থাকতেই ১৪২ রানে গুটিয়ে যায় রংপুর রাইডার্সের ইনিংস।

রংপুর রাইডার্সের হয়ে ২৮ বলে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন গেইল। এছাড়া মোহাম্মদ মিঠুন ২৬ বলে ২২, মাশরাফি ১১ বলে ১৫, থিসারা পেরেরা ৯ বলে ১৫, রবি বোপারা ১৩ বলে ১০ রান করেন। ম্যাককালাম ৮ বলে মাত্র ৬ রান করে আ্উট হন।

ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে সর্বোচ্চ ৫টি উইকেট নেন সাকিব আল হাসান। ৩.৫ ওভারে মাত্র ১৫ রান দেন ঢাকার অধিনায়ক। এছাড়া আফ্রিদি দুটি এবং একটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ আমির ও মোসাদ্দেক হোসেন।

ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে নিয়ে ইনিংস ওপেন করতে নেমে শুরু থেকে সাবধানী ছিলেন গেইল। দ্বিতীয় ওভারেই বিদায় নিতে পারতেন রংপুরের ওপেনার। নারিনের করা দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে তুলে মারতে গিয়ে আকাশে বল তুলে দেন এই জ্যামাইকান তারকা। তবে শর্ট থার্ডম্যানে সহজ ক্যাচ লুফে নিতে ব্যর্থ হন আবু হায়দার।

নতুন জীবন পেয়ে মোহাম্মদ আমিরের করা তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ঝড়ের আভাস দেন গেইল। নারিনের করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারের শেষ তিন বলে দুটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে দর্শকদের বিনোদিত করেন এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান।

আফ্রিদির করা পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে সঙ্গী ম্যাককালাম বোল্ড হয়ে ফিরে গেলেও দমে যাননি গেইল। একই ওভারের চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে রংপুরকে চাপমুক্ত করেন তিনি। এরপর আমিরের করা ষষ্ঠ ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে টানা চার হাঁকিয়ে দলের রানের চাকা সচল রাখেন গেইল। আফ্রিদির করা সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান।

গেইলের মারমুখী ব্যাটিংয়ে দিশেহারা হয়ে বোলিং আক্রমণে পরিবর্তন এনেই সফলতার মুখ দেখেন সাকিব। মোসাদ্দেক হোসেনের করা অষ্টম ওভারের প্রথম বলে মিডউইকেটে দুর্দান্ত এক ক্যাচ লুফে নিয়ে যেন আগের ‘অপরাধে’র প্রায়শ্চিত্ত করেন আবু হায়দার। ফলে গেইলের ঝোড়ো ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।

গেইল ফিরে যাওয়ার পরই রানের চাকা ‘স্লো’ হয়ে যায় রংপুর রাইডার্সের। সাকিব, আবু হায়দার ও পোলার্ডের আঁটসাট বোলিংয়ে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটি। প্রথম ৭ ওভারে ৭১ রান তোলা রংপুর পরের ৭ ওভার সাকল্যে করে ৪১ রান। ১৪তম ওভারের শেষ বলে মিঠুনকে মোসাদ্দেকের শিকার বানিয়ে ঢাকাকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন সাকিব।

বোপারা ও পেরেরা মিলে রংপুরের রানের চাকা সচল করার চেষ্টা চালান। তবে আমিরের করা ১৭তম ওভারের চতুর্থ বলে পেরেরা পয়েন্টে আবু হায়দারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলে সেই চেষ্টা বিফলে যায়। আমির, সাকিবদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ১৫০ রানের আগেই গুটিয়ে যায় রংপুরের ইনিংস। ইনিংসের শেষ ওভারের পাঁচ বলে একটি রানআউট-সহ চারটি উইকেটের পতন ঘটে রংপুরের; যার তিনটি যোগ হয় সাকিবের নামের সঙ্গে।

x

Check Also

চট্টগ্রামে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবসের বর্ণাঢ্য রেলী-কনর্সাট

মুঃবাবুল হোসেন বাবলা:১২ডিসেম্বর(চট্টগ্রাম) ”সবার জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট”এই শ্লোগানকে বাস্তবায়নে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও তথ্য -যোগাযোগ প্রযুক্তি ...