বর্তমান সরকার শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষনে অঙ্গীকারাবদ্ধ, সিটি মেয়র শ্রমিকরা ৭১ সনে ২৩ মার্চ অস্ত্রবোঝাই সোয়াত জাহাজ ঘেরাও করে ইতিহাসে নজির স্থাপন করেন

সংবাদ দাতা:চট্টগ্াম

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বন্দরের শ্রমিক ও কর্মচারীদের অবদান অপরিসীম। তারা জীবন বাজি রেখে ১৯৭১ সনে ২৩ মার্চ অস্ত্রবোঝাই সোয়াত জাহাজ ঘেরাও করে ইতিহাসে নজির স্থাপন করেছেন। সেই শ্রমিকদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার কোন সুযোগ নেই।
মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী শ্রমিকবান্ধব। বর্তমান সরকার শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষনে অঙ্গীকারাবদ্ধ। তিনি আশা করেন, বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক কর্মচারী লীগ (সিবিএ)’র বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে ২০১০ সনে সম্পাদিত ১৪ দফা দাবী ও চূক্তির শর্ত বন্দর কর্তৃপক্ষ মেনে নেবেন। মেয়র শ্রমিকদের দাবী ও চূক্তির শর্ত বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বলেন, বন্দরের নীতি নির্ধারকগণ বিবেক দিয়ে শ্রমিকদের বিষয়গুলো বিবেচনায় আনলে শ্রমিক শ্রেণী তাদের অধিকার ফিরে পাবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনী আ(রা বলেন, বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বেড়েছে। এ সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে শ্রমিক শ্রেণীর ঘাম ও শ্রম রয়েছে। এ বন্দরে সক্ষমতা আরো বৃদ্ধিতে শ্রমিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি, বন্দরের স্বার্থ এবং শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষন করে বন্দরকে সচল রাখতে হবে।

১৩ নভেম্বর সোমবার, সকাল ৯ টা থেকে চট্টগ্রাম নগরীর নিমতলা বিমান চত্বরে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক কর্মচারী লীগ (সিবিএ)’র আয়োজিত বিশাল শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষনে মেয়র এ আহ্বান জানান। ২০১০ সনের ২২ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত দাবী ও চূক্তির শর্ত সমূহ বাস্তবায়নের দাবীতে অত্র সিবিএ আয়োজিত বিশেষ সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মো. মীর নওশাদ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর ২০১০ সনের দাবী ও চূক্তি সমূহ সাধারণ সভায় উপস্থাপন করলে সভায় উপস্থিত সকল শ্রমিক এ সংক্রান্ত বিষয়ে কর্মসূচি গ্রহণের দায়িত্ব সিবিএ’র নেতৃবৃন্দের উপর ন্যস্ত করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সফর আলী। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএ’র সভাপতি আবুল মনসুর, সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন খান, সাধারণ সভায় বন্দর ব্যবহারকারী সিবিএ’র সিনিয়র সহ সভাপতি হাজী মো. হাসান, মো. নুরুল আবছার, নুরুল আমীন ভূইয়া, দুলাল মিয়া, হাজী মো. আইয়ুব দোভাষ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উৎপল বিশ্বাস, আবু বক্কর চৌধুরী বাপ্পী, মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া, মো. জানে আলম সহ সিবিএ’র নেতৃবৃন্দ। মঞ্চে বন্দর সিবিএ’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক নান্না, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভার বিশেষ অতিথি জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সফর আলী বলেন, ডক শ্রমিক, মার্চেন্ট শ্রমিক, ল্যাসিং আনল্যাসিং, ষ্টীভিডোরিং শ্রমিক কর্মচারী সহ নানা শ্রেণীর শ্রমিক চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রম দেয়।

তাদের সম্মিলিত সংগঠন চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক কর্মচারী লীগ শ্রমিকদের স্বার্থে দাবী ও চূক্তিনামা উপস্থাপন করেছে। শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল, খাওয়া-দাওয়ার জন্য ক্যান্টিন এবং পর্যাপ্ত শৌচাগার প্রয়োজন। এ বিষয়গুলো গুরুত্ব্রে সাথে দেখার জন্য বন্দর কর্র্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান তিনি। জনাব সফর আলী দাবী বাস্তবায়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক কর্মচারী লীগ (সিবিএ)’র দাবী ও চূক্তির শর্ত সমূহের মধ্যে মালিক এসোসিয়েশনের ২/৩/২০১৭ তারিখের লিখিত সুপারিশ অনুযায়ী কর্মরত উইন্সম্যানদেরকে বন্দরের শ্রম শাখায় অন্তর্ভূক্তকরণ, কর্মক্ষেত্রে আঘাত প্রাপ্তদের সুচিকিৎসা করা এবং চিকিৎসাকালিন সময়ে দৈনিক জীবিকা ভাতা প্রদান, শ্রমিক কর্মচারীদের গ্রুপ ইনসুরেন্স বাস্তবায়ন করা, কার্গো বার্থে কর্মরত ডক শ্রমিকদের টনিজ ভিত্তিতে মজুরী দেয়া, শ্রমিকদের বর্ষাকালে রেইন কোর্ট প্রদান, শীতকালে গরম পোষাক প্রদান, কন্টেইনার বার্থ, কার্গো বার্থ, বহিঃনোঙর ও সিসিটি এবং এনসিটি কন্টেইনার বার্থসহ সর্বক্ষেত্রে তালিকাভূক্ত শ্রমিক কর্মচারী নিয়োগ, পোষ্য ওয়ারিশগণ এর ওয়ারিশ নিয়োগ, শ্রমিকদের তিন শীফ্ট চালু, জেনারেল কার্গো বার্থে ল্যাসিং আনল্যাসিং শ্রমিক নিয়োগ, বহিঃনোঙ্গরে বন্দরের পরিচয় পত্র প্রদান, বন্দরের অভ্যন্তরে পানি ও টয়লেট সুবিধা নিশ্চিতকরণ, শ্রমিকদের কাজের ঘন্টা দৈনিক ৮ ঘন্টা মেনে চলা, বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক কর্মচারী লীগকে আসবাবপত্রসহ অফিস বরাদ্দ করা, ইতিপূর্বে সম্পাদিত চূক্তির শর্ত এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ জারিকৃত সার্কুলার সমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করা ইত্যাদি ১৪টি দাবীনামা সভায় উপস্থাপন করা হয়।

x

Check Also

ভোগ দখলীয় মৌরশী সম্পত্তিতে সন্ত্রাসী দ্বারা জবর দখল ও মিথ্যা মামলা হয়রানী ও জান-মাল রক্ষায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ

  কাজী আহছান উল্লাহ গং, পিতা-মৃত মোঃ খলিল উল্লাহ, সাকিন-উত্তর সরাইপাড়া, কাজীর দীঘির পাড়, থানা-পাহাড়তলী, ...