মন্ত্রিসভায় শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আইন অনুমোদন

ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭ (বাসস) : দেশের তরুণদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট আইন-২০১৭’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম শফিউল আলম বৈঠক শেষে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, নতুন আইনে ইনস্টিটিউটের কর্মকান্ড পরিচালিত হবে। সরকারের অন্যান্য প্রশিক্ষণ ও একাডেমিক ইনস্টিটিউটের মত এই ইনস্টিটিউটে একটি পরিচালনা বোর্ড ও একাডেমিক কাউন্সিল গঠিত হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ইনস্টিটিউট বিভিন্ন সময়ে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেবে। যুব উন্নয়নের ওপর কারিকুলাম প্রস্তুত ও গবেষণা পরিচালনা করবে এবং ডিগ্রি ও ডিপ্লোমা করবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ২১ সদস্যের একটি নির্বাহী পরিষদ ইনস্টিটিউট পরিচালনা করবে। ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে একটি একাডেমিক কাউন্সিল গঠিত হবে। ইনস্টিটিউট পরিচালনায় এই কাউন্সিল এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলকে সহায়তা দেবে।
শফিউল আলম বলেন, বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকান্ডের ওপর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় সরকারের বড় অর্জনগুলোর একটি হলো ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিকে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ কোটি ১৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৫৭টি বই বিতরণ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশের মোট ৩৪ দশমিক ৮৪৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রফতানি হয়েছে। যা বিগত বছরের এই সময়ের চেয়ে ১ দশকি ৭২ শতাংশ বেশি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় যা ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট ৮ লাখ ৯৪ হাজার ০৫৪ জন লোক চাকরির জন্য বিদেশ গিয়েছে। আগের বছরের চেয়ে যা ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিলো ১ হাজার ৪৬৫ মার্কিন ডলার ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১ হাজার ৬০২ ডলার।
২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিলো ৭ দশকি ২ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিলো ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন ৩৪১টি প্রকল্পের মধ্যে ৩১২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ব্যয় আগের বছরের চেয়ে ২০ হাজার ১৬২ কোটি টাকা বেশি হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, গতবছরের তুলনায় ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে গম, ভুট্টা, আলু, পেঁয়াজ, পাট সবজি, চিনি, মৎস্য, দুধ, ডিম ও কয়লার প্রকৃত উৎপাদন বেড়েছে। তাছাড়া গতবছরের তুলনায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিদ্যুতের উৎপাদন ও চাহিদা উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। ১০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৪ হাজার ৪৯৭ কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন ও ৫৪৩ সার্কিট কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে যানজট নিরসনে নগরীর ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসমূহের নির্মাণের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় এবং আশা প্রকাশ করা হয় যে, মাস রেপিড ট্রানজিট (এমআরটি)-৬-এর নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন হবে।
মন্ত্রিসভাকে রেলওয়ে, জাহাজ চলাচল সেক্টর, নদী খনন, নৌপরিবহন সেক্টর এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতি অঙ্গনের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
রিপোর্টে বলা হয়, এ বছর দেশের সশস্ত্রবাহিনী ও নতুন ব্রিগেড বিভাগ ও ব্যাটালিয়ন গঠন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য দুটি সাবমেরিনসহ যুদ্ধাস্ত্র ক্রয়ের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে।
রিপোর্টের উল্লেখ করা হয় যে, সরকার হাউজিং প্রকল্প এবং সকল জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণসহ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনেক নিয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মোট দুই হাজার ৯৭১টি হাউজিং ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। তাছাড়া জেলা পর্যায়ে ৪৫টি কমপ্লেক্ষের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রিসভাকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন কোম্পানী (বাপেক্স)-এর বর্তমান গ্যাস ফিল্ডের কাছে ভোলা জেলার শাহবাজপুরে একটি নতুন গ্যাস ফিল্ড আবিস্কারের কথা জানানো হয়। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এই নতুন ফিল্ডে প্রায় সাতশ’ বিলিয়ন কিউবিক ফুট গ্যাস রয়েছে। পূর্ববর্তী মজুদসহ মোট মজুদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন কিউবিক ফুট পর্যন্ত হতে পারে।

x

Check Also

ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ)হচ্ছে মুসলিম মিল্লাতের ঐক্যের প্রতীক,সূফি মিজান

হোসেন বাবলা:১৯নভেম্বর বন্দর নগরীতে নগর গাউছিয়া কমিটির উদ্যোগে পবিত্র মাহে রবিউল আউয়াল উপলক্ষে স্বাগত জানিয়ে ...