শাস্তি মুক্ত বিদ্যালয় পরিবেশ তৈরিতে ও শিশু সুরক্ষায় শিক্ষকদের ইতিবাচকতা মানসিকতা সম্পন্ন হতে হবে । আবিদা আজাদ

বিষয় ঃ শাস্তি মুক্ত বিদ্যালয় পরিবেশ তৈরিতে ও শিশু সুরক্ষায় শিক্ষকদের ইতিবাচকতা মানসিকতা সম্পন্ন হতে হবে ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শাস্তি ও নির্যাতন বন্ধে সরকারী আইন বাস্তবায়নে করণীয় শীর্ষক মমতার এ্যাডভোকেসী সভায় : আবিদা আজাদ
শাস্তি মুক্ত বিদ্যালয় পরিবেশ তৈরিতে ও শিশু সুরক্ষায় শিক্ষকদের ইতিবাচকতা মানসিকতা সম্পন্ন হতে হবে । পাশাপাশি শিশুর সুরক্ষিত শৈশব নিশ্চিত করতে শিশুর প্রতি যে কোন রকম শারীরিক ও মানসিক শাস্তি,সহিংসতা,যৌন নিগ্রহ পরিহার করে শিশু স্বাস্থ্য সহ শিশুর যথাযথ বেড়ে উঠা নিশ্চিত করতে হবে ।শিক্ষকদের সাথে ১৩ নং ওয়ােের্ডর সমন্বিত এ্যাডভোকেসী সভায় এ কথা গুলো বলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৯,১০ ও ১৩ নং ওয়ার্ডের (সংরক্ষিত) মহিলা কাউন্সিলর ও সমাজ ভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কমিটির সভাপতি জনাব আবিদা আজাদ । সেভ দ্যা চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ এর কারিগরী ও আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত বেসরকারী সংস্থা মমতা কর্তৃক বাস্তবায়িত মমতা শিশুদের শারীরিক ও অবমাননাকর শাস্তি হতে সুরক্ষা প্রকল্পের আয়োজনে ১৩ নং ওয়ার্ডের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গত ১৭ অক্টোবর ,২০১৭ মঙ্গলবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শাস্তি ও নির্যাতন বন্ধে সরকারী নির্দেশনা বর্তমান অবস্থা ও করনীয় শীর্ষক এ্যাডভোকেসী সভা আমবাগানস্থ টাইগার পাস বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় । মমতা পিপিএ্ইচপি প্রকল্পের ব্যাবস্থাপক ও মমতার সহকারী পরিচালক (সমন্বয় ) কামরুন নাহার পারভীনের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন টাইগার পাস বহুমূখী উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সভাপতি ও ১৩ নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডের এনজিও কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক সাইদুল কবির বাহার । সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মমতা পিপিএইচপি প্রকল্পের মনিটরিং ও ডুকোমেন্টশান অফিসার মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান । এরপর ভিডিও প্রেজেন্টশনের মাধ্যমে মমতা পিপিএইচপি কার্যক্রম তুলে ধরেন মমতার পিপিএ্ইচপি প্রকল্পের ব্যাবস্থাপক কামরুন নাহার পারভীন । এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মমতার হেলথ এ্যাডমিনিস্ট্রেটর জনাব মির্জা মোহাম্মদ এরশাদ । মমতা পিপিএ্ইচপি প্রকল্পের ব্যাবস্থাপক ও মমতার সহকারী পরিচালক (সমন্বয় ) কামরুন নাহার পারভীন এ্যাডভোকেসী সভার মূল বক্তব্য পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন । তার উপস্থাপনায় তিনি উল্লেখ করেন য়ে, শাস্তি ও নির্যাতন বন্ধে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ ১৯৮৯ এর অনুচ্ছেদ-৩(১), ১৯(১), ৩৭(১), ৩৭(২), ৩৭(৩) অনুসারে শিশুদের শারীরিক শাস্তি প্রদান নিষিদ্ধ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তির হার আশংকাজনক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় ব্লাস্ট এবং আসক যৌথভাবে ১৮ই জুলাই ২০১০ ইং তারিখে রিট পিটিশন নং-৫৬৮৪/২০১০ দায়ের করে । এরই পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট ১৩ই জানুয়ারি ২০১১ইং তারিখে এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন। রায়ের সঠিক বাস্তবায়নে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর শিক্ষা মন্ত্রালয় কর্তৃক ৯ আগস্ট, ২০১০ সালে ( নং : ৩৭,০৩১.০০৮.০২.০০.১৩৪.২০১২-৪৫১) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক শাস্তি বন্ধকরন প্রসঙ্গে একটি পরিপত্র জারী করা হয়। পরবর্তীতে ২১ এপ্রিল,২০১১ সালে (৩৭,০৩১.০০৪.০২.০০.১৩৪.২০১০-২৫১) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি রহিতকরণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১১ জারী করে।সর্বশেষ প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয় ১২ মে,২০১৬ ( স্মারক নম্বর: ৩৮.০০.০০০০.০০৮,৩১.০২৭.১৬-৩১০) প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদেরকে শারীরিক শাস্তি প্রদান বন্ধকরণ প্রসঙ্গে আরো একটি পরিপত্র জারী করে। পাশাপাশি তিনি ২০১৬ সালে পরিচালিত একটি গবেষনার পরসংখ্যান সেখানে উপস্থাপন করেন যেখানে বলাহয় , ৬৯% পিতা-মাতা,অভিবাবক মনে করেন যে নিয়মানুবর্তিতার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি প্রয়োজন, ৫৫% মনে করেন যে শাস্তি শিশুকে ভালো পথে নিয়ে যায়, ২৭% মনে করেন যে শাস্তি ছাড়া শিশুরা বখে যায়, ২৫% মনে করেন যে শাস্তি দেয়ার ফলে শিশুরা শিক্ষকদের কথা শোনে। এই পরিপ্রেক্ষিতে এবং আইন ও রায় বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সকলের কি করণীয় তা নির্ধারনে আজকের আলোচনা আয়োজন করা হয়েছে। এরপর শুরু হয় মুক্ত আলোচনা । এতে বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসায়ে নুরয়িার সুপার মাওলানা মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান,ইসলামাবাদ এতিমখানা বালিকা বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষক নাসরিন আকতার এবং বিদ্যালয়ে ইতিবাচক চর্চা ও বিদ্যালয়ে ইতিবাচক ব্যাবস্থাপনা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন টাইগার পাস বহুমূখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক । ষভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সাইদুল কবির বাহার বলেন শিক্ষকরা জাতির মহান সেবক ও কর্ণধার । শিক্ষকরা যদি আন্তরিক হন এই আইন বাস্তবায়ন হবে অচিরেই । তিনি ১৩ নং ওয়ার্ডের সম্মানিত কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন হিরনের পক্ষে সবার প্রতি ধন্যবাদ ঞ্জাপন করেন সভায় সবার সতস্ফূর্ত অংশগ্রহনের জন্য । সভায় ১৩ নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডের সকল স্কুল মাদ্রাসা প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন ।

x

Check Also

ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ)হচ্ছে মুসলিম মিল্লাতের ঐক্যের প্রতীক,সূফি মিজান

হোসেন বাবলা:১৯নভেম্বর বন্দর নগরীতে নগর গাউছিয়া কমিটির উদ্যোগে পবিত্র মাহে রবিউল আউয়াল উপলক্ষে স্বাগত জানিয়ে ...