আপীল করলেই গৃহকর সহনীয় করার চেষ্টার উদ্যোগ নিব… সংবাদ সম্মেলন মেয়র নাছির--আইনের উদ্ধে কিছুই করার নাই


বাবুল হোসেন বাবলা:১৮অক্টোবর
নগরীর ইমারত ও জমির পঞ্চবার্ষিকী মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ১৮ অক্টোবর বুধবার, দুপুরে নগরভবনে কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব মো. আবুল হোসেন,প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, ছাড়াও প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু, মো. গিয়াস উদ্দিন, হাসান মুরাদ বিপ্লব, মো. ইসমাইল বালী, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিসেস আঞ্জুমান আরা বেগম, আবিদা আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন নগরীর ইমারত ও জমির পঞ্চবার্ষিকী মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে লিখিত বক্তব্যের পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। মেয়র বলেন, একটি আইনী কাঠামোর মধ্য দিয়ে আমি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এর দায়িত্বভার গ্রহণ করি এবং সরকারী বিধিবিধানের আলোকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসন পরিচালনা ও নাগরিক সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করি।

কর্পোরেশনের সকল কাজ সরকারী বিধিবিধান দ্বারা নির্দিষ্ট করা রয়েছে। সিটি কর্পোরেশন সমূহের (কর) বিধিমালা ১৯৮৬ এর ২১ বিধি, স্থানীয় সরকারদ (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের আলোকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভূমি/ইমারত ও জমির পঞ্চবার্ষিক মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া শুরু করি এবং আগষ্ট ২০১৭ এ সিটি কর্পোরেশন এর সাধারণ সভায় উক্ত অ্যাসেসমেন্ট অনুমোদনের মাধ্যমে প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ হয়। আইনী বাধ্যবাধকতা ছাড়াও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় স্থাপিত নতুন স্থাপনাকে কর ও রেইট এর আওতায় আনা, কর্পোরেশনে সম্মানীত নাগরিকদের কাংখিত সেবা প্রদান এবং এই নগরীকে বিশ্বমানের নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য রাজস্ব বৃদ্ধির উপায় হিসেবে এই অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম প্রক্রিয়া শুরু করি। তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে সম্পন্ন করা এই অ্যাসেসমেন্টে সর্বমোট ১,৮৫,২৪৮ টি হোল্ডিং এর বিপরীতে প্রস্তাবিত বার্ষিক কর ও রেইট ৮৫১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা এর মধ্যে নতুন ২৮৭০২ টি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে কর ও রেইট ৪৭ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা। ২০০৮-০৯ হতে ২০১১-১২ ইং সন পর্যন্ত এবং তৎসময় হতে ২০১৫-১৬ ইং সন পর্যন্ত কোয়ার্টারলি অ্যাসেসমেন্ট সহ পূর্বতন অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী ধার্যকৃত মোট দাবীর পরিমাণ ছিল ২০০ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা। বর্তমান অ্যাসেসমেন্ট হতে নতুন হোল্ডিংয়ের বিপরীতে ধার্যকৃত কর ও রেইট বাদ দিলে মোট দাবীর পরিমাণ প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ পূর্বের অ্যাসেসমেন্টের তুলনায় বর্তমানে দাবীর পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৪ গুণ। উপরন্ত সিটি কর্পোরেশন কর তফসিল ২০১৬ অনুযায়ী ইমারত ও জমির উপর কর ৭%, ময়লা নিষ্কাশন রেইট ৭%, সড়ক-বাতি ৫% ও স্বাস্থ্য কর ৮% অর্থাৎ সর্বমোট ২৭% কর ও রেইট নেওয়ার বিধান থাকলেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীর সুবিধার্থে পূর্বের ন্যায় ১৭% এবং কোন কোন ওয়ার্ডে ১৪% কর আদায় করার সিদ্ধান্ত অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু এই শহরের ক্রমবর্ধমান জনগণকে সেবা প্রদান ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ব্যয় বেড়েছে অনেক বেশি। উদাহরণ স্বরূপ ২০০৯-১০ অর্থবছরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বাবদ ব্যয় ছিল ৭১ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই খাতে ব্যয় ১৯১ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা।

২০১০-১১ আর্থিক সনে পরিচালনা ও উন্ন্য়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সড়ক বাতি ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় ছিল ১৭৮ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা। ২০১৬-১৭ আর্থিক সনে এই ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে ৫৬৭ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকায় উন্নীত হয়। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, এই বিপুল ব্যয় বেসরকারী খাতে পরিশোধিত ট্যাক্স ও রেইট এর অবদান কতটুকু? সর্বশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পরিচালনা ও উন্নয়ন খাতে ৪৫৩ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ের বিপরীতে সম্মানীত বেসরকারী করদাতাদের অবদান ছিল মাত্র ২৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা এবং সরকারী-বেসরকারী অবদান ছিল মাত্র ৪০ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা। অনুরূপভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ৭৯ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ের বিপরীতে বেসরকারী হোল্ডিং থেকে আদায় হয় মাত্র ১৮ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা। আলোকায়ন ও বিদ্যুৎ খাতে ৩৪ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হলেও সর্বমোট আদায় হয় মাত্র ২০ কোটি ২ লক্ষ টাকা। যার মধ্যে বেসরকারী আদায় মাত্র ১০ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা। ১৯৯৪-২০১৫ ইং পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ধার্যকৃত কর ও রেইটের বিপরীতে আদায়ের হার ছিল ২১.১৫ ভাগ। আমার ২ বৎসর দায়িত্বকালীন সময়ে এই আদায়ের হার ৩১.৫০ ভাগ। সিটি কর্পোরেশনকে কাংখিত সেবা প্রদানে সক্ষম প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার মানসে কর্পোরেশনের প্রাপ্য কর ও ফি পরিশোধ করার ইতিবাচক মনমানসিকতা সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা উন্নয়ন বান্ধব চিন্তাচেতনার দিকে অগ্রসর হতে পারি। তদুপরি বর্তমানে ধার্যকৃত করের বিষয়ে কারো কোন আপত্তি থাকলে আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা তা নিষ্পত্তি করব। কর সম্পর্কিত নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে সম্মানীত করপ্রদানকারীগণ আপত্তি দাখিল করতে পারেন এবং অ্যাসেসমেন্ট রিভিউ বোর্ড শুনানী গ্রহণপূর্বক আপত্তি নিষ্পত্তি করবেন এবং রিভিউ বোর্ডের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত। আমি আশা করি রিভিউ বোর্ড নাগরিকদের অসুবিধা বিবেচনাপূর্বক মূল্য বা কর ও রেইট সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসবেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস রিভিউ বোর্ডের সিদ্ধান্তে সকলেই খুশি হবেন।

আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি যে, বিধি অনুযায়ী সম্মানীত মুক্তিযোদ্ধা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সমূহ বিশেষ সুবিধা পাবেন। আমি রিভিউ বোর্ডের মাধ্যমে আরো কিছু বাড়তি সুবিধা সম্মানীত নাগরিকদের দিতে চাই। যেমন- দরিদ্র ও আদিবাসীদের জন্য ন্যূনতম কর ধার্য করা, ব্যাংক ঋণ থাকলে তা সমন্বয় এবং নি¤œ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বিশেষ ছাড়। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এবং অপপ্রচার ও গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে আইনের মধ্যে থেকে ধার্য্যকৃত মূল্য এবং কর ও রেইটের বিষয়ে সর্বোচ্চ সুবিধা গ্রহণপূর্বক অ্যাসেসমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহবান জানান।

তিনি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আইনের উব্ধে আমি যেতে পারবো না। কেউ গৃহকর নিয়ে অপরাজনীতি করলে আমার করার কিছুই নাই।এছাড়া কর দিতে পারবেন না এমন কাউকে ট্যাক্সের আওতায় আনা হবে না। তিনি চূড়ান্তভাবে ধার্যকৃত কর ও রেইট পরিশোধ করে এই শহরকে পরিকল্পিত বসবাস উপযোগী বিশ্বমানের সুন্দর ও নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার অনুরোধ জানান।শহরের এক ইঞ্চি রাস্তাও ভাঙ্গা বা অকেজো থাকবে বলে জোর গলায় ঘোষনা দেন।

x

Check Also

ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ)হচ্ছে মুসলিম মিল্লাতের ঐক্যের প্রতীক,সূফি মিজান

হোসেন বাবলা:১৯নভেম্বর বন্দর নগরীতে নগর গাউছিয়া কমিটির উদ্যোগে পবিত্র মাহে রবিউল আউয়াল উপলক্ষে স্বাগত জানিয়ে ...