রোহিঙ্গা কূটনৈতিক ইস্যুতে ব্যর্থ হয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানা,ডা. শাহাদাত চট্টগ্রামে বিএনপি’র বিক্ষোভ সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:চট্টগ্রাম ১২ অক্োবর
নগর বিএনপি‘র সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে এই সরকার কূটনৈতিকভাবে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাবস্থায় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করতে পারে নাই, তাদের ওপর কোনরূপ বল প্রয়োগ ছাড়াই কূটনৈতিকভাবে সমাধান করেছিল। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কূটনৈতিক ব্যর্থতায় এবং নোবেল পুরস্কার না পাওয়ার কারণে বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। কিন্তু কোন গ্রেফতারি পরোয়ানায় বিএনপিকে ধমিয়ে রাখতে পারবে না। বিএনপি’র নেতাকর্মীরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা শেষে দেশে আগমনের অপেক্ষায় আছে। দেশে ফিরে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে নির্দেশ দিবেন বিএনপি’র সকল স্তরের নেতাকর্মীরা রাজপথে পালন করতে বদ্ধপরিকর।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, ক্ষমতার মোহে আজ অন্ধ স্বৈরাচারী সরকার। নির্যাতন, নিপীড়ন যতই হোক না কেন বিএনপি’র কোন নেতাকর্মীকে রাজপথ থেকে সরানো যাবে না। আমরা এর আগেও স্বৈরাচার সরকার দেখেছি, সব স্বৈরাচারের পরিণতি কিন্তু ভয়াবহ। তাই আপনাদের পরিণতিও ঐ সকল স্বৈরাচারদের মতই হবে।

আজকের বিএনপি’র সমাবেশ ঘিরে চট্টগ্রামে মনে হচ্ছে যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব। তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, সমাবেশ ঘিরে এত পুলিশ কেন? রাস্তায় মিছিল করলে পুলিশি বাঁধা কেন? কিন্তু সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের অন্তঃকোন্দলে জড়িয়ে রাজপথে প্রকাশ্যে গাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিলেও আপনাদের ভূমিকা নীরব। আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, এই সরকার শেষ সরকার নয়। আপনারা জনগণের পক্ষে অবস্থান নিন। তিনি অবিলম্বে গতকাল যে সকল নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে এবং আজ যে সকল নেতাকর্মীকে আটক করেছেন তাদেরকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় বিএনপি কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করবে। তিনি অবিলম্বে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করার দাবি জানান। তিনি অদ্য ১১ অক্টোবর বুধবার বিকেলে নগরীর নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের সম্মুখে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে নগর বিএনপি’র বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, বাংলাদেশের জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধান প্রতিপক্ষ মনে করে বলেই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক হয়রানীমূলক মামলা দিয়ে বিপর্যস্ত করার ব্যর্থ চেষ্টায় লিপ্ত সরকার। এজন্যই সরকার চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে আদালতকে ব্যবহার করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করিয়েছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিরোধী দলগুলোকে উৎখাত করতে পারলেই দেশের মানুষ ভয় পেয়ে যাবে বলে বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি কোন রক্তচক্ষুকে ভয় পায়না। তিনি বলেন এই সব বেল্কিবাজি করে কোন লাভ নেই, জনগন জেগে উঠেছে। শেখ হাসিনা আপনার পতনের ঘন্টা বেজে উঠেছে। এবার আর শেষ রক্ষা হবেনা।
চট্টগ্রাম মহানগর জৈষ্ঠ সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে ভোটার বিহীন নির্বাচন উল্লেখ করে বলেন গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে একক নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিএনপি সহ সরকার বিরোধী দলগুলোকে প্রথম সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে সরকার তা নিশ্চিহ্ন করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেননগর বিএনপি’র সহ সভাপতি আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মো: মিয়া ভোলা, সৈয়দ আজম উদ্দিন, আলহাজ্ব মো: আলী, সবুক্তগীন সিদ্দিকী মক্কি, মো: আশরাফ চৌধুরী, সৈয়দ আহমেদ, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, মো: ইকবাল চৌধুরী, এস এম আবুল ফয়েজ, যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দিন, মো: শাহ আলম, এসকান্দর মির্জা, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান, কাউন্সিলর আবুল হাশেম, মনজুর আলম মঞ্জু, আনোয়ার হোসেন লিপু, টিংকু দাশ, গাজী মো: সিরাজ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, মহানগর, থানা, ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

x

Check Also

গাজীপুরে আবাসিক হোটেলে অভিযান ১৬ জনের কারাদণ্ড

মুহাম্মদ আতিকুর রহমান (আতিক), গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি ঃ গাজীপুরে দুটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ১৬ ...