মুক্তধ্বনি আবৃত্তি সংসদ আয়োজিত “দুরনিলিমায় সৌদামিনির হিন্দোলে” আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন স্বাধীনতা যুদ্ধে আবৃত্তি শিল্পীরা যেমন সহযোগিতা করেছিল তেমনিভাবে বর্তমান সংকট পরিস্থিতিতে আবৃত্তির মাধ্যমে অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে

মুক্তধ্বনি আবৃত্তি সংসদ আয়োজিত “দুরনিলিমায় সৌদামিনির হিন্দোলে” অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তধ্বনি আবৃত্তি সংসদের, চট্টগ্রাম সভাপতি মোহাম্মদ মছরুর হোসেন। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্য অভিনেতা ও আবৃত্তি শিল্পী পীযুষ বন্দোপাধ্যায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফ্ফর আহমদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. জিনব্যোধি ভিক্ষু, সম্মিলিত আবৃত্তি জোট চট্টগ্রাম এর সাবেক সভাপতি রনজিৎ রক্ষিত, সম্মিলিত আবৃত্তি জোট চট্টগ্রাম সাধারণ সম্পাদক ফারুক তাহের, মুক্তধ্বনি আবৃত্তি জোট, চট্টগ্রাম সহ-সভাপতি এস.এম সোলাইমান সবুজ। সংগঠনের সদস্য রেহেনা আকতার এ্যানির সঞ্চালনায় মুক্তধ্বনি আবৃত্তি সংসদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহেদ হোসেন রনির স্বাগত বক্তব্য গতকাল ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শনিবার বিকেল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয় । অনুষ্ঠানে যারা আবৃত্তি করেন পীযুষ বন্দোপাধ্যায় (ঢাকা), রতন ঘোষ (কলকাতা), আজহারুল হক আজাদ (ঢাকা), মিলি চৌধুরী (চট্টগ্রাম), মাসুম আজিজুল বাশার (ঢাকা), সাহিনী সেনগুপ্ত (কলকাতা), মাসুম আজিজুল আহসান, সুস্মিতা সরকার ভট্টাচার্য, তামান্না সারোয়ার নিপা, সুলতান মাহামুদ শ্রাবণ, সুপর্ণা মজুমদার, সাদেকুল করিম, মৌসুমী হোসেন, বহ্নিশিখা গোস্বামী, শ্রাবণী দাশগুপ্ত, সেজুঁতি দে, মোহাম্মদ মছরুর হোসেন, লুবানা ফেরদৌসি সায়কা, মোঃ জাহেদ হোসেন রনি, বৃন্দ আবৃত্তি: জ্বলে শুধু এক শপথের ভাস্কর, গ্রন্থনা ও নির্দেশনা: মোহাম্মদ মছরুর হোসেন, পরিবেশনায়: মুক্তধ্বনি আবৃত্তি সংসদ, সার্বিক সহযোগিতায়: মহানগর যুবলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমন।
উদ্বোধক পীযুষ বন্দোপাধ্যায় বলেছেন আবৃত্তি শিল্পীরা মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল থেকে আবৃত্তি পাঠের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে অপ্রকাশিত অসংখ্য কবিতা মানুষের মাঝে আত্ম প্রকাশ পায়।
কমান্ডার মোজাফ্ফর আহমদ বলেছেন অতীতে আবৃত্তি শিল্পীদের দেশ স্বাধীনে যেমন ভূমিকা ছিল ঠিক তেমনই বর্তমানে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র চলতেছে সংস্কৃতিকর্মীদের সাংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে তা প্রতিহত করতে হবে।
ভারতীয় অতিথি রতন কুমার ঘোষ বলেছেন বাংলাদেশে যেভাবে আবৃত্তি সংস্থার মাধ্যমে আবৃত্তি চর্চা করা হয়। আমাদের ভারতবর্ষে সেভাবে কবিতা বা আবৃত্তির চর্চা হয়। শুধু বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলে যতগুলো সংগঠন রয়েছে আমাদের কলকাতায়ও ততগুলো সংগঠন নেই। কলকাতার চেয়ে ভারতের অন্যান্য বঙ্গে তেমন আবৃত্তি চর্চা হয়না। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক কর্মীরা এগিয়ে রয়েছে।
সভাপতি মোহাম্মদ মছরুর হোসেন বলেছেন আরো আঁধারের দূরত্বে যে মৃয়মান ছন্দ থেকে থাকে তা একদিন উৎক্ষিপ্ত স্বরভঙ্গিতে সামনের দিকে ধাবিত হয়। তার উচুঁনীচু সকল ভেদাভেদ বিলীন হয় স্বকীয়তার অনিমেষ ছন্দে। অভিকর্ষজ টানের যে নিয়ত ছন্দ সে ছন্দের চেয়ে অধিকাতর শক্তিশালী ছন্দনির্ভর আমাদের ভেতর মৌন আত্মার টান। দূরের আর্তনাদের শব্দ নিঃশব্দ যন্ত্রনার চিত্র আঁকে ক্রমাগত ক্রন্দনের সুর। সেই সুরের সিঁড়ি বেয়ে বাঙ্গালী জাতিকে অনেক অগ্নিগিরি পাড়ি দিতে হয়েছে। পৃথিবীর বয়সে সকল সভ্যতা তার দিক পেয়েছে সংগ্রাম আর মুক্তির নেশায়। আদর্শ প্রতিষ্ঠার ভালোবাসা তার একমাত্র অবলম্বন। সেইভাবে বাঙ্গালী জাতি তাঁর ভাষাকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। স্বাধীন সার্বভৌম ভূখণ্ড বেঁচে থাকার স্বপ্নকে বাস্তবতা দিয়েছে। ভাষার সংগ্রামে মুক্তির চেতানায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বগ্রামে স্বনামে প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠিত আমাদের কণ্ঠস্বর। প্রতিষ্ঠিত আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব। চেতনার অলংকার আমাদের ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধ।

x

Check Also

কুুতুপালং রোহিঙ্গা মুসলিম ক‘্যাম্পে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ বিতরণ কালে-এম এ মান্নান

মিয়ানমারে সর্বনিকৃষ্টতম এ জঘন্যতম বর্বরতা ও নির্মমতার প্রতিবাদ করা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের নৈতিক দায়িত্ব ও ...