গ্রাহকের কাছে বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগের বকেয়া পাওনা প্রায় ৬ কোটি টাকা ; বাড়ছে বিল খেলাপীর সংখ্যা

( বান্দরবান প্রতিনিধি ) :
বান্দরবানে লাগামহীন ভাবে বেড়ে চলেছে বিদ্যুতের গ্রাহকদের বকেয়া বিলের পরিমাণ। বকেয়া আদায়ে বিদ্যুত বিভাগের নমনীয় মনোভাবের কারণে বকেয়ার পরিমান নিয়ন্ত্রনে আনা যাচ্ছেনা বলে ধারনা করা হচ্ছে। জেলা সদর, রোয়াংছড়ি, থানচি, রুমাসহ চারটি উপজেলায় বর্তমানে বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ছয় কোটি টাকা। এই পরিমান বকেয়া অতীতের সকল রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে। শুধু সরকারি, আধা-সরকারি বিভিন্ন দফতরের কাছেই বকেয়া রয়েছে ২ কোটি ৪১ লাখ ৭ শত টাকা। বেসরকারি পর্যায়ে এই বকেয়ার পরিমাণ ৩ কোটি ৪০ লাখ ৫ শত টাকা। এই টাকা আদায়ে শতাধিক নোটিশ দেয়া হয়েছে খেলাপী গ্রাহকদের। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও বিপুল অংকের এই বকেয়া আদায় হচ্ছেনা বলে জানায় স্থানীয় বিদ্যুত বিতরণ বিভাগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, তুলা উন্নয়ন র্বোড এবং টিএন্ডটি’র মতো সরকারি দফতরগুলো রয়েছে বকেয়ার শীর্ষে। এর মধ্যে শুধু জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কাছেই বিদ্যুত বিভাগের পাওনা দাড়িয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার ওপর। তার পরের অবস্থানে আছে তুলা উন্নয়ন র্বোড। সরকারী এই দফতরের বকেয়া প্রায় ১০ লাখ টাকা এবং টিএন্ডটির বকেয়া প্রায় ৫ লাখ টাকা অতিক্রম করেছে। তবে সেক্ষেত্রে বেসরকারি পর্যায়ের বকেয়ার পরিমান নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তা। বেসরকারি বকেয়ার কোন তালিকা প্রস্তুুত না থাকায় তা দেখাতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বকেয়া টাকা আদায়ে বিদ্যুত বিভাগের কর্মকান্ড চলছে অনেকটা শামুকগতিতে। দিনের পর দিন গ্রাহকের বকেয়া বেড়ে চললেও বকেয়া আদায়ে কঠোর হচ্ছেনা স্থানীয় দফতর। ফলে বাড়ছে বিল খেলাপীর সংখ্যা। তবে সঠিক সময়ে বিলের কপি গ্রাহকদের কাছে না পৌছানো, ব্যবহৃত ইউনিটের চেয়ে কম ইউনিট দেখিয়ে বিল প্রস্তুত করার ফলে বকেয়ার পরিমাণ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহকরা।

গ্রাহকরা বলছেন- বিদ্যুত ব্যবহারের বিপরীতে বিল প্রস্তুতে কোনো সমতা নেই। বিদ্যুত বিভাগ যেনতেনভাবে মনগড়া বিল তৈরি করছে। ফলে অনেকেই বিল পরিশোধ করছেন না নিয়মিত। গ্রাহকদের দাবি সঠিক সময়ে বিলের কপি হাতে পেলে তাদের বিল পরিশোধ করতে অনেক সহজ হয়।

শহরের মধ্যমপাড়া এলাকার বাসিন্দা মংপ্রু মারমা বলেন- গত মাসে বিল পরিশোধের র্নিধারিত শেষ সময়ের কয়েক ঘন্টা আগে বিলের কপি হতে পাই। অল্প সময়ে প্রস্তুতি না থাকায় বিল পরিশোধ করতে পারিনাই। সঠিক সময়ে বিল হাতে পেলে আমার কোন বকেয়াই হতো না।

বান্দরবান বাজারের মুদি দোকানদার আহমদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুতের লোকজন কখনোই মিটার দেখতে আসেন না। মিটার না দেখে মনগড়া বিল আমাদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো মাসে ব্যবহারের চাইতে কম আবার কোনো মাসে বেশি পরিমাণে বিল তৈরি করছে বিদ্যুত বিভাগ। এই অসম বিল পরিশোধ করতে গিয়ে বকেয়ার ফাঁদে পড়ছি নিজেদের অজান্তেই। আবার এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ করেও কোনো কাজ হয়না বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী চিংহ্লা মং মারমা পর্যাপ্ত জনবলের সীমাবদ্ধতার কথা জানান। তিনি বলেন পুরো জেলা মিলে মিটার রিডার রয়েছেন মাত্র দুই জন। এই দুজনের পক্ষে সবার বাড়ি গিয়ে মিটার দেখে বিল প্রস্তুত করা সম্ভব হয়না। তাই এভারেজ বিল প্রস্তুত করা হয়। তবে কেউ দফতরে এসে অভিযোগ জানালে বিলে সামঞ্জস্যতা আনা হয়।

বকেয়া বিল আদায় বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান বিদ্যুত বিভাগের র্নিবাহী প্রকৌশলী চিংহ্লামং বলেন- বকেয়া বিল আদায়ে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রযেছে। প্রায় প্রতিদিনই বকেয়ার দায়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। সরকারী বেসরকারী সবধরনের গ্রাহকদের নিয়মানুসারে তাগাদা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বকেয়ার তালিকায় শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরকে ছয় বার নোটিশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এখনো বকেয়া শোধ করেনি। নোটিশ পাওয়ার পরও যারা বিল পরিশোধ করেনি শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বান্দরবান জেলা সদরসহ তিনটি উপজেলা রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচিতে বিদ্যুতের সর্বমোট গ্রাহক রয়েছেন ১৪ হাজর ৬ শত জন। এর মধ্যে শুধু জেলা সদরেই গ্রাহকের সংখ্যা ১১ হাজার। জেলায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা ৮ মেগাওয়াট।

x

Check Also

১২ দিনব্যাপী ১৫ অক্টোবর থেকে চিটাগাং লাইফ স্টাইল এক্সপোজিশান-২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এর উদ্যোগে ...