মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে -এডভোকেট মোছাহেব উদ্দীন বখতিয়ার

কক্সবাজার উখিয়া কুুতুপালং রোহিঙ্গা মুসলিম ক্যাম্প পরিদর্শন ও ৫০ হাজার রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে আহলে সুন্নাত সমন্বয় কমিটি

কক্সবাজার উখিয়া কুুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে ৫০ হাজার রোহিঙ্গার মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আল্লামা এম এ মতিন বলেন, মিয়ানমারে সরকারী বাহিনী ও উগ্র মৌলবাদি বৌদ্ধরা রাখাইন রাজ্যে পরিকল্পিতভাবে জাতিগত নিধনের লক্ষ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যা করছে। কিশোরী-যুবতী নারীদের মা-বাবার সামনে গণধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যা করছে, বৃদ্ধ-শিশুদের কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করছে। সামর্থবান যুবকদের আগুনে পুড়িয়ে মারছে। পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বনিকৃষ্টতম এ জঘন্যতম বর্বরতা ও নির্মমতার প্রতিবাদ করা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। তিনি বলেন, মিয়ানমারের শান্তিতে নোবেল প্রাপ্ত নেত্রী অংসান সূচির শান্তি পদক আজ মুসলমানদের রক্তের লাল সাগরে ডুবে গেছে। পৃথিবীতে সব অত্যাচারী শাসকের পতন খুব দূর্ভাগ্যজনকভাবে হয়েছে। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের অন্তরে যে তীব্র অনল সৃষ্টি হচ্ছে, তাতে মিয়ানমারকে চড়া মূল্য দিতে হবে। এ মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যূনালের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। গতকাল ১৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকালে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আহলে সুন্নাত সদস্য সচিব এডভোকেট মোছাহেব উদ্দীন বখতিয়ার বলেন, রোহিঙ্গারা বর্তমান বিশ্বের সবচেযে নির্যাতিত ও রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠী। তিনি আরো বলেন, ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৪৩০ থেকে ১৭৮৪ সাল পর্যন্ত ২২ হাজার বর্গমাইল আয়তনের রোহাঙ্গা (আরাকান) স্বাধীন রাজ্য ছিল। রোহিঙ্গারা এ রাজ্যের স্থায়ী নাগরিক। মিয়ানমারের রাজা বোদাওফায়া এ রাজ্য দখল করার পর চরম বৌদ্ধ (মগ) আধিপত্য শুরু হয়। তারা বিভিন্ন সময় সরকারের মন্ত্রীও ছিল। পরবর্তীতে অন্যায়ভাবে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে, কিন্তু এটি চুড়ান্ত সমাধান নয়। বরং বাংলাদেশ আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে তাদের প্রতি সুবিচার। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সোচ্চার হতে হবে। তিনি আরো বলেন, কয়েকটি প্রভাবশালী রাষ্ট্র ক্ষুদ্রস্বার্থে রোহিঙ্গা গণহত্যায় প্রকাশ্যে বর্বর মিয়ানমার সরকারের পক্ষ নিয়েছে। যা বর্তমান বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে থাকবে। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না। মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত অসহায় রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য তিনি দেশী-বিদেশী সম্প্রদায়ের প্রতি আহবানও জানান।
ত্রাণ বিতরণের সময় আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআত কেন্দ্রিয় সমন্বয় কমিটির প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন, আল্লামা এম এ মান্নান, পীরে তরিকত হারুনুর রশিদ রেজভী, আল্লামা আবু সুফিয়ান আবেদী আল কাদেরী, মাওলানা মাসউদ হোসাইন আলকাদেরী, মাওলানা সৈয়দ মুজাফ্ফর আহমদ মুজাদ্দেদী, এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ড. সৈয়দ জালাল উদ্দীন আল-আজহারী, পীরজাদা গোলামুর রহমান আশরফ শাহ, মাসুম বিল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা রেজাউল করিম তালুকদার, অধ্যক্ষ মাওলানা ইদ্রিচ আলকাদেরী, অধ্যক্ষ মাহমুদ উল্লাহ নক্শাবন্দী, মাওলানা ফজলুল কবির চৌধুরী, মাওলানা গাজী মঞ্জুরুল করিম রেফায়ী, অধ্যক্ষ সালাহ উদ্দিন তারেক, অধ্যাপক সালাউদ্দীন তারেক, নঈমুল ইসলাম, আবু নাসের তৈয়ব আলী, নাসির উদ্দীন মাহমুদ, মাওলানা গিয়াসুদ্দীন নিজামী, মাষ্টার আবুল হোসেন, এনামুল হক ছিদ্দিকী, সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম, জসিম উদ্দীন ছিদ্দিকী, ছাদেকুর রহমান খান, জি.এম শাহাদত হোছাইন মানিক, এইচ এম শহীদুল্লাহ, নুরুল্লাহ রায়হান খান, মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম, নিয়ামত উল্লাহ মামুন, মুহাম্মদ মুজিব, আবদুল কাদের রুবেল, মুহাম্মদ রিয়াজ হোসাইন, হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ, সাইফুল ইসলাম নেজামী, মুহাম্মদ জাবের হোসাইন, নুরুল ইসলাম হিরু প্রমুখ।
আহলে সুন্নাত নেতৃবৃন্দ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন, নির্যাতনের ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের উপর বর্বর নির্যাতনের কথা শুনেন এবং তাদের সান্তনা প্রদান ও ত্রাণ প্রদান করেন। উল্লেখ্য- আহলে সুন্নাতের ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে ছিল বিশুদ্ধপানি, চাল, ডাল, মুড়ি, চিড়া, চিনি, লবণ, নিত্য প্রয়োজনীয় ঔষুধ ও নতুন-পুরাতন কাপড়।

x

Check Also

চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে গ্রামীণফোনের ক্যারিয়ার সেশন ও ডিজিটাল কার্নিভাল

[চট্টগ্রাম, ২০ নভেম্বর, ২০১৭] বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গ্রামীণফোনে ক্যারিয়ার গঠনের সম্ভাবনা ও সুযোগ নিয়ে এবং একইসাথে ...