মিয়ানমারকে ‘চাপ’ দিচ্ছে ভারত, হাসিনাকে সুষমার ফোন

চলমান রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর টেলিফোন আসে বলে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব নজরুল ইসলাম গণভবন থেকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

সুষমা স্বরাজ  প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘ভারতীয় সরকার বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের ফেরত নেয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর চলা নির্যাতন বন্ধের জন্য মিয়ানমার সরকারের ওপর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গা সমস্যা কেবল বাংলাদেশের কোনো ইস্যু নয় বরং এই সমস্যা এ অঞ্চল ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক রূপলাভ করেছে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ কেবলমাত্র মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। মিয়ানমারকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, রোহিঙ্গা তাদের নাগরিক।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তার সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে অস্থায়ী ব্যবস্থা করার জন্য জমি বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু তাদের দীর্ঘ মেয়াদে অবস্থান বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই বড় ধরনে সমস্যার সৃষ্টি করবে।’

ফোনালাপকালে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।  এছাড়া সেখানে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের।

হর্ষবর্ধন শ্রীংলা রোহিঙ্গাদের জন্য পাঠানো ভারতীয় ত্রাণসামগ্রীর প্রথম চালানের কথা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ২৪টি পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।  এই ঘটনার পর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে।  এরপর প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে ছুটে আসতে থাকে রোহিঙ্গারা।  ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।  অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে আরও প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা।

২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে দেশটির উত্তর-পূর্ব রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা চালায় দেশটির সেনাবাহিনী।  সে সময় সহিংসতার শিকার হয়ে প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।  এর আগে ২০১২ সালের জুনেও রাখাইন রাজ্য সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আক্রান্ত হয়েছিল।  তখন প্রায় ২০০ রোহিঙ্গা নিহত হন।  ওই সময় দাঙ্গার কবলে পড়ে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।

x

Check Also

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চাইলেন সুকি

নেপিদো, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ (বাসস ডেস্ক) : মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু কি শরণার্থী সংকট ...