বান্দরবান শহরের ময়লা আর্বজনার ডাম্পিং ষ্টেশনের অভাবে দূষিত হচ্ছে নদীর নদীর পানি,স্বাস্থ্য ঝুঁিকতে হাজারো মানুষ

কৌশিক দাশ ( বান্দরবান প্রতিনিধি ):
বান্দরবান জেলা শহরের ময়লা নিষ্কাষনের জন্য নেই কোন পরিকল্পিত ব্যবস্থা। শহরের সব ময়লা নিয়ে রাখা হচ্ছে পৌরসভা এলাকার নদীর ধারের এক পাহাড়ে। সামান্য বৃষ্টির পানিতে এ ময়লা আর্বজনা ধুয়ে মিশে যাচ্ছে নদীতে আর এতে করে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি,আর এই নদীর পানি ব্যবহার করেই মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

চারিদিকে সবুজে ঘেরা বান্দরবান জেলা শহর। তার কোল ঘেশে বহতা সাংগু নদী। নদীর ধারে গড়ে উঠেছে হাজারো মানুষের বসতি।এসব মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহৃত আর্বজনা পৌরসভার পক্ষ থেকে নিষ্কাশনের জন্য নিয়ে যাওয়া হলেও জেলা শহরে কোন ডাম্পিং ষ্টেশন না থাকায় শহরের অদূরে নদীর ধারে পাহাড়ের উপর সড়কের পাশে যেনতেনভাবে ফেলে রাখা হচ্ছে। প্রতিদিন পৌরভার ময়লা আবর্জনার গাড়ী করে শহরের বিভিন্ন স্থানের ময়লা সংগ্রহ করে এই স্থানেই ফেলা হচ্ছে এই ময়লার স্তুুপ।কিন্তুু সঠিক তদারকি না থাকায় বৃষ্টির পানিতে পাহাড়ী ঢলে এসব আর্বজনা হারহামেশাই ধুয়ে চলে যাচ্ছে নদীর পানির সাথে, আর ময়লা আর্বজনা ও পানি একসাথে মিশে সৃষ্টি হচ্ছে নানান রোগব্যাধি ,আবার বিকল্প কোন পথ না থাকায় এই সাংগু নদীর পানি দিয়েই মিটানো হচ্ছে পুরো জেলা শহরের মানুষের পানির চাহিদা, এতে মারাত্বক পরিবেশ দুষনের পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে নানারকম রোগব্যাধি।

বান্দরবান শহরের কালাঘাটার বাসিন্দা অনিল বড়–য়া জানান, পৌরসভা দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার ওপরে যেনতেনভাবে ময়লা ফেলে যাচ্ছে, ময়লার গন্ধে ওই সড়কে চলাচল করা কষ্টকর।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, রোয়াংছড়ি বাসস্টেশান দিয়ে কেউ আর এখন কালাঘাটা আসতে চায়না , কারণ ওই সড়কে প্রচুর দুগন্ধ, আর যেনতেনভাবে পড়ে থাকা ময়লাগুলো প্রায় সময় দেখছি নদীর পানির সাথে মিশে যাচ্ছে ।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা জানান ,নদীর সাথে সরাসরি বর্জ্য সংযুক্ত থাকায় নদীর পানি দূষিত হবে এবং এ পানি ব্যবহার করলে মানুষ ধীরে ধীরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে। বান্দরবান সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা:সমীরন নন্দী বলেন, বান্দরবান একটি পর্যটন শহর কিন্তুু এই শহরে এভাবে অপরিকল্পিতভাবে ময়লা যেখানে সেখানে ফেলে রাখা সত্যিই কষ্টদায়ক। তিনি আরো বলেন, বৃষ্টির পানির সাথে প্রায়সময়ই ময়লা আর্বজনা গিয়ে নদীর পানির সাথে মিশে যাচ্ছে , এতে করে রোগব্যাধি বাড়ছে আর যদি শীঘ্রই এই ব্যাপারে একটি পদক্ষেপ নেয়া না হয় তাহলে কোন সময় মহামারি সৃষ্টি হলে তার সামাল দেয়া বান্দরবান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে সম্ভব হবে না।

এদিকে পৌর কৃর্তপক্ষ ময়লা নিষ্কাশনের ব্যবস্থাপনাটি সুষ্ঠু নয় বলে স্বীকার করে শীঘ্রই একটি ডাম্পিং ষ্টেশন তৈরী করার আশ্বাস প্রদান করেন। বান্দরবান পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী জানান, আমরা শীঘ্রই কয়েক একর জায়গা নির্দিষ্ট করে শহরের ময়লা আবর্জনা সংগ্রহের জন্য একটি ডাম্পিং স্টেশান নির্মাণ করবে এবং যাতে জনসাধারণের কোন অসুবিধা না হয় তার ব্যাবস্থা নেব।

স্থানীয় বাসিন্দরা জানান, শুধু আশ্বাস নয় সুস্থ পরিবেশ ও সুন্দর জীবনধারণের জন্য শীঘ্রই জেলা শহরের বর্জ্য অপসারনের জন্য একটি ডাম্পিং স্টেশান তৈরি এবং সঠিক তদারকির মধ্য দিয়ে একটি সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

x

Check Also

সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরীর কে হামলা,আটক-২

সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী সহ আরো দুই সাংবাদিক কে হামলা চালিয়েছে।এতে দুই অপরাধীকে আটক করে ...