রোহিঙ্গা ইস্যুতে জরুরি বৈঠকে বসছে নিরাপত্তা পরিষদ

চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করতে জরুরি বৈঠকে বসছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। মানবিক কারণে আগামীকাল বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এই বৈঠক ডেকেছে যুক্তরাজ্য ও সুইডেন। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হত্যা-নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগে মিয়ানমারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিয়ম মতে, নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশের যে কোনো একটি দেশ যদি কোনো প্রস্তাব বা সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেয়, তাহলে সেটি আটকে যায়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠকে কী প্রস্তাব দেয়া হবে, আর সে প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট আসতে পারে।

বলা হচ্ছে, চীন এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা সংকটে মিয়ানমার সরকারের গৃহীত সব ব্যবস্থাকে শতভাগ সমর্থন জানিয়ে আসছে। নতুন করে আজ মঙ্গলবার চীন নতুন করে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে চীন বিপক্ষে গেলেও নিরাপত্তা পরিষদের আরেক স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা সংকটের ব্যাপারে তাদের দীর্ঘ নীরবতা ভেঙেছে। তারা বলেছে, সহিংসতার মুখে যেভাবে রোহিঙ্গারা তাদের বাড়িঘর ছাড়া হয়েছে তাতে বোঝা যায় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে বেসামরিক মানুষকে নিরাপত্তা দিচ্ছে না।

তবে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নীরব ভূমিকার কারণে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার শিকার হচ্ছেন দেশটির নেত্রী অং সান সু চি। শান্তিতে নোবেল পাওয়া এই নেত্রী রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য কেন কিছু করছেন না তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে সহিংসতা শুরু হয়ে এখনো চলছে। রাখাইনে সেনাবাহিনীর অত্যাচার-নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান রাখাইন প্রদেশের সহিংসতার ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে সতর্ক করার পরই জরুরি বৈঠকে বসার ঘোষণা দিল সংস্থাটি। এর আগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ।

x

Check Also

যারা বন্দরের জন্য বিসর্জন দিয়েছেন তাদের সুবিধা নিশ্চিত করুন- সুজন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ২০নভেম্বর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত ...