বঙ্গবন্ধুর খুনীরা যে গর্তেই লুকিয়ে থাকুক তাদের সাজা দেয়া হবে : আনিসুল হক

২০ আগস্ট, ২০১৭ (বাসস) : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনীরা যে গর্তেই লুকিয়ে থাকুক না কেন তাদেরকে খুঁজে এনে সাজা কার্যকর করা হবে।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সহযোগিতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর তথ্য ও গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পথচলা ও প্রতিবন্ধকতা সংক্রান্ত এক সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে তিনি একথা বলেন ।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার সদসদ্যদের নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর দীর্ঘ একুশ বছরেও কোন সরকারই এই নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচারের জন্য কোন মামলা করেনি বরং ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বিচারের পথ বন্ধ করে রেখেছিল। শুধু তাই নয় হত্যাকান্ডে জড়িতদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। খুনীদের বিদেশী মিশনে চাকুরি দিয়েছে। খুনের আলামত নষ্ট করেছে। এর ফলে খুনীরা বিদেশে শক্তভাবে শিকড় বেঁধেছে এবং তাদের ফিরিয়ে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, খুনী নূর চৌধরী বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছে। তিনি কানাডায় অবস্থানের জন্য সেখানকার আদালতে আবেদন করে হেরে গেছে, এখন শুধু একটি গ্রাউন্ডে নূর চৌধুরী কানাডায় অবস্থান করছেন। সেটি হলো তিনি কানাডায় আবেদন করেছেন তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠালে ফাঁসি দেয়া হবে। কানাডায় যেহেতু মৃত্যুদ- নিষিদ্ধ তাই কানাডা বাংলাদেশকে বলেছে, তাকে ফেরত দিলে মৃত্যুদ- দেয়া যাবে না।
মন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, ‘এই শর্ত কি মানা সম্ভব? তাকে তো আমাদের উচ্চ আদালত মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। তারপরও সরকার তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
আনিসুল হক বলেন, কে এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। তাকে ফেরত আনার জন্য আদালতে রিভিউ করা হয়েছে এবং আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার বন্ধ করতে যারা আইন প্রণয়ন করেছিল বাংলাদেশের জনগণ তাদের শাস্তি দিবেন বলে আমার বিশ্বাস।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল আদালতে সবকিছুর বিচার হয় না। কিছু কিছু বিচার সমাজেও করতে হয়। কারণ সমাজেরও কিছু দায়িত্ব আছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার রহস্য উন্মোচনে আরো গবেষণা ও আলোচনা হওয়া উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা- প্রতিরোধ করতে অনেকেই তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা কেন ব্যর্থ হয়েছেন এ প্রশ্নের জবাব তাদেরকেই দিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত খুনী যাদের সাজা কার্যকর করা হয়েছে, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের জন্য আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।
মন্ত্রী বলেন, যারা পলাতক রয়েছেন, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের জন্য নতুন করে আইন প্রণয়ন করার প্রয়োজন নাই। তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের জন্য আদালতের আদেশ রয়েছে এবং সে আদেশ অনুযায়ী কয়েকজনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ।
মন্ত্রী বলেন, জিয়া পরিবার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার বিচার চায় না, তার কারণ তারা আইনের শাসনে বিশ্বাসী নয়।
আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্তে এসেছে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলেন কিন্তু তিনি মামলা দায়েরের আগেই মারা যাওয়ায় তাকে আসামী করা হয় নাই।
মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান এর সঞ্চালনায় সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সংসদ সদস্য বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন, দৈনিক জনকন্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায় এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্ট্রি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক আলোচনায় অংশ নেন।

x

Check Also

শিশু কন্যা সামিন কে ফিরে পেতে পালক পিতা রায়হানের হৃদয় বিধারক আকুতি

হোসেন বাবলা ২৩নভেম্বর:চট্টগ্রাম আজ বৃহস্পতিবার(২৩নভেম্বর) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে পাচঁলাইশের এক মুসলিম পরিবারে পালক পিতা ...