চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা তৃণমূল প্রতিনিধি সভায়-ওবায়দুল কাদের

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এম.পি বলেছেন, বিএনপি-জামাতের প্রধান শত্রু আওয়ামী লীগ নয়, ব্যক্তি শেখ হাসিনাকে তারা শত্রু মনে করে। কারণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। এই ঐক্য ধরে রাখা গেলে শেখ হাসিনার সমাদৃত ও প্রশংসিত অর্জনগুলোর কারণে আওয়ামী লীগের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। তৃণমূল ঐক্যবদ্ধ না হলে ২০০১ সারের চেয়েও খারাপ পরিণতি আমাদের জন্য অপেক্ষা করবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবার লুন্ঠন, খুন, খারাবি করবে, আওয়ামী লীগের শক্তির উৎস বাংলার জনগন তাই বিদেশে বসে শেখ হাসিনাকে হারানোর চক্রান্ত বাস্তবায়ন করা যাবে না। আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন থেকে নিতে হবে। দলভারী করার জন্য খারাপ লোকদের দলে টানবেন না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরুধী, আদর্শ বিরোধী কেউ দলে ঢুকে যাতে ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে তার জন্য সতর্ক থাকতে হবে। জনগণের কাছে যিনি গ্রহণযোগ্য তিনিই মনোনয়ন পাবেন।
আজ ১৬ জুলাই ২০১৭ (রবিবার) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম নগরির বাকলিয়াস্থ কে বি কনভেনশন হল-এ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।
জনাব ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, আমাদের পূর্বসূরীদের যেন আমরা ভুলে না যাই। অসচ্ছল নেতা-কর্মীদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেতা মোছলেম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এম.পি বলেন, বিএনপি সরকার দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। যথেষ্ট দূর্নীতি করেছিল বিএনপি কিন্তু ১/১১ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার করেছিল শেখ হাসিনাকে। খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ। বিদ্যুতের উৎপাদন এখন ১৬ হাজার মেগাওয়াট। উন্নয়নের যে ধারা দেখা যাচ্ছে তাতে বিশেষেকরা বলছেন ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে। তাই শেখ হাসিনার সরকার বার বার এই দেশে দরকার। যারা আন্দোলনের নামে খুন খারাবি করেছে তারা কোর্টের বারান্দায় থাকবে নাকি জেলে থাকবে তা মাননীয় আদারতের এখতিয়ারাধীন বিষয়। তবে ২০০১ সালের পর পাঁচ বছরের নিষ্ঠুরতার দাগ এখনও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গায়ে আছে। হাজার হাজার নেতা কর্মী হত্যা করার সময় বিএনপির বিবেক ও অনুভূতি কিছুই ছিল না।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ এম.পি বলেন, বিশ্বের অপরাপর গণতান্ত্রিক দেশের মতোই নির্বাচন কমিশনের অধিনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান সরকার নির্বাচন কালীন সময়ে সেই নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা দেবে। সাংবিধান রীতির ভেতরেই নির্বাচন হবে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আওয়ামী লীগের সাথে অনেকেই বেঈমানী করেছে কিন্তু কর্মীরাই এই দলকে ঠিকিয়ে রেখেছে। এ কারনেই আজ আওয়ামী লীগ একটি বৃহত্তম দল।
বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, তৃণমূরে েেনতা-কর্মীরা হচ্ছে সংগঠনের প্রাণ, তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বিশ্বস্থ, শেখ হাসিনার বিশ্বাস রয়েছে এই তৃণমূলের উপর। তৃণমূলের ঐক্যের কারনে শেখ হাসিনা অতীতে বহু বিপদ সঙ্কুল পথ পেরিয়েছে। ঐক্যবত্থ থাকলে আওয়ামী লীগকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না। পৃথিবীর যেখানেই আপনি যান না কেন খালেদা জিয়া আপনাকে বাংলার মানুষ আর ক্ষমতায় বসাবেনা। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা অহেতুক সমালোচনা করবেন না। এমপিরাও যাতে সংযত আচরণ করেন। দল-নৌকা আমাদের, নৌকাকে জিততেই হবে। শেখ হাসিনা মানে উন্নয়ন, অগ্রগতি, শেখ হাসিনা থাকলেই দেশ ভাল থাকবে।
বিশেষ অতিথি ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এম.পি বলেন, ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। সমন্বয়ের অভাব ছিল দক্ষিণ জেলায় মত পার্থক্য নেই। মূলনীতির আদর্শ ধারক করে দলকে ভালবাসতে হবে। মহান নেত্রী প্রশ্নে আমরা কোন ছাড় দিতে রাজী নই। ৭৫এর ১৫ আগস্ট শুধু বঙ্গবন্ধুকে খুন করা হয়নি, একই সাথে দেশের স্বাধীনতা ও চেতনাকে হত্যা করার প্রয়াস করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগকে নিয়ে মিথ্যাচার, পরে প্রমানিত হয় যে তা অপপ্রচার। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনাকে ধ্বংস করার জন্যই এই অপপ্রচার। আওয়ামী লীগই পারে বাংলাদেশের উন্নয়ন করতে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রতিনিধি সভা মূলত ঐক্যের সমাবেশ। আমরা এমপি ও দলীয় নেতা-কর্মীরা মিলে যদি এখন থেকে সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন জনগণের মাঝে সঠিকভাবে প্রচার করতে পারি এবং জোট সরকার আমলের চিত্রগুলো তুলে ধরা গেলে আগামী নির্বাচনে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৬টি আসন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে উপহার দিতে পারব। তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলের সকল স্তরে ঐক্য সুদৃঢ় করার আহবান জানান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ও উপদ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া।
বক্তব্য রাখেন, সামশুল হক চৌধুরী এম.পি, নজরুল ইসলাম চৌধুরী এম.পি, মোস্তাফিজুর রহমান এম.পি, ড. আবু রেজা মো: নেজাম উদ্দিন নদভী এম.পি।
উপস্থিত ছিলেন, সাবিহা মুছা এম.পি, জাতীয় কমিটির সদস্য এড: জসীম উদ্দিন আহমদ খান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, সহ-সভাপতি আবুল কালাম চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইদ্রিস, সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান মো: হাবিবুর রহমান, সহ-সভাপতি এড: এ কে এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সহ-সভাপতি এম এ সাঈদ, হাসিনা মান্নান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা মহিউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এড: জহির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ, শ্রম সম্পাদক খোরশেদ আলম, দপ্তর সম্পাদক আলহাজ্ব আবু জাফর, প্রচার সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী, কৃষি সম্পাদক এড: আবদুর রশিদ, শিক্ষা সম্পাদক বোরহান উদ্দিন এমরান, বন বিষয়ক সম্পাদক এড: মুজিবুল হক, ক্রীড়া সম্পাদক গোলাম ফারুক ডলার, তথ্য সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, কোষাধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান সিআইপি, ত্রাণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ হায়দার শাহীন, ধর্ম সম্পাদক আবদুল হান্নান চৌধুরী মঞ্জু, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো: নাছির, মহিলা সম্পাদিকা এড: কামরুন নাহার, সাতকানিয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল মোতালেব সিআইপি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য আবু সুফিয়ান, সাবেক চেয়ারম্যান নাছির আহমদ, মো: মুছা, মোস্তাক আহমদ আঙ্গুর, আনোয়ারুল ইসলাম খান শওকত, ওমর ফারুক, আয়ুব আলী, মাহবুবুর রহমান সিবলী, সৈয়দুল মোস্তফা চৌধুরী রাজু, এ কে আজাদ, শাহিদা আক্তার জাহান, লোহাগাড়া আওয়ামী লীগ সভাপতি খোরশেদ আলম, আনোয়ারা আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজী মোজাম্মেল হক, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল মান্নান, উপ-প্রচার সম্পাদক মওলানা নুরুল আবছার, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিজয় কুমার বড়–য়া, সাতকানিয়া সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন, বোয়ালখালী আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এস এম জহিরুল আলম জাহাঙ্গীর, পটিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর আলম, পটিয়া আওয়ামী লীগের রাশেদ মনোয়ার, নাছির উদ্দিন, চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ জুনু, লোহাগাড়া সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন হিরু, বাঁশখালী আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল গফুর, কর্নফুলী আওয়ামী লীগ সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রনি, চন্দনাইশ পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান খোকা, আবদুল্লাহ কবির লিটন, বাশখালী পৌর মেয়র শেখ সেলিম উল হক চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি চেমন আরা তৈয়ব, সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবনা, দক্ষিণ জেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি আবদুল হাকিম, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি: ইসলাম আহমদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের, চন্দনাইশ উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার, বোয়ালখালী পৌরসভা আওয়ামী লীগ আহবায়ক জহুরুল ইসলাম জহুর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কৃষকলীগ সভাপতি আতিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আতাউল করিম আতিক প্রমুখ।
প্রতিনিধি সভায় আওয়ামী রাজনীতিতে আজীবন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় প্রয়াত ও প্রবীণ নেতাদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক নুরুল ইসলাম চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক একেএম আবদুল মান্নান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা দীর্ঘকালনি সভাপতি, সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মরহুম জননেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী, প্রাক্তন সভাপতি মরহুম জাকেরুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মরহুম আতাউর রহমান খান কায়সার, দক্ষিণ জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রাক্তণ গণ পরিষদ সদস্য জনাব আবু ছালেহ-এর পক্ষে তাদের পরিবারের সদস্যগণ প্রধান অতিথির কাছ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।
এ প্রতিনিধি সভায় ৩ হাজার প্রতিনিধি ও ২ হাজার অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী পর্যবেক্ষণ কার্ড নিয়ে অংশ নেন।
সভার শুরুতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সভাশেষে মেজবানে আপ্যায়ন করা হয়।

x

Check Also

উত্তরা ইপিজেডে বাংলাদেশী গার্মেন্টস্ শিল্পে ৫৩ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ

বাংলাদেশী কোম্পানি দেশবন্ধু টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেড উত্তরা রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় ৫৩ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ...