রোডম্যাপ নিতে লন্ডনে খালেদা জিয়া

চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চলে গেলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দু’মাস ধরে তিনি বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করবেন।

সেখানে তারেকের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান ছাড়াও রয়েছেন প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান সিঁথি, তার দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানও।

চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা বলা হলেও নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা আর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের এ লন্ডন সফর নিয়ে কৌতুহল আর আগ্রহ বেড়েছে। রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

বলা হচ্ছে, চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি খালেদা জিয়া বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দলীয় বিষয় নিয়ে বসবেন।

অনেকেরই অভিমত, আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে কৌশল প্রণয়ন ও আগামীর কর্মপরিকল্পনা তথা রোডম্যাপ, বিশেষ করে দলের গতিপথ নির্ধারণ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা প্রায়ই বলে থাকেন, লন্ডনে থাকা দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের ইশারাতেই পরিচালিত হয় বিএনপি। তারা আরো বলেন, বিএনপিতে চেয়ারপারসনের পরের পদটিতেই রয়েছেন ছেলে তারেক রহমান। তাই পরোয়ানা নিয়ে যুক্তরাজ্যে থাকা ছেলের সঙ্গে গত একদশক ধরে প্রবাসেই দেখা করছেন মা খালেদা জিয়া।

তবে খালেদা জিয়ার এবারের লন্ডন সফরকে আরো গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে অভিজ্ঞ মহল। তাদের ভাষ্য, দলের নির্বাচনী রোডম্যাপ এখন দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির হাতেই। তাই সেই রোডম্যাপ আনতেই চেয়ারপারসন চলে গেছেন সেখানে। এমন আলোচনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রমতে, লন্ডন থেকে দেশে ফিরেই বিএনপি চেয়ারপারসন জাতির সামনে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেবেন। সেই সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে দলীয় অবস্থানের বিষয়টিও। এসব নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করবেন তারেক রহমানের সঙ্গে।

বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা তথ্য দিচ্ছেন, দলীয় প্রধানের লন্ডন সফর নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন কৌতুহল দেখা দিয়েছে তেমনি চাঙ্গাভাবও তৈরি হয়েছে। আগামী নির্বাচনে চল কোন পথে যাবে, কী হবে দলের অবস্থান, কারা হবে প্রার্থী এসব খোলাসা হবে। তাছাড়া আগামী ডিসেম্বরে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণসহ দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আর এসবের মধ্য দিয়েই বের হয়ে আসবে বিএনপির রাজনীতির আগামীর গতিপথ।

শুধু তাই নয়, দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, দলের স্থায়ী কমিটির শূন্যপদগুলো পূরণ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির কয়েকটি পদের পদায়ন আর গুরুত্বপূর্ণ জেলা কমিটি গঠনের ব্যাপারে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা হবে দলীয় প্রধানের। পাশাপাশি আসছে জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের চাওয়া-পাওয়ার ব্যাপারেও আলোচনা হতে পারে।

প্রসঙ্গত, গেল ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর চোখ ও হাঁটুর চিকিৎসা করাতে সর্বশেষ লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সে সময়ও দুই মাসের বেশি সময় সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটিয়েছিলেন। এবারও তিনি দুই ছেলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপন করে দেশে ফিরতে পারেন। এর মধ্যেই খালেদা জিয়া তার পা ও চোখের চিকিৎসা করাবেন। তার পায়ের সমস্যা আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। এর আগে চোখের অপারেশন করিয়েছিলেন লন্ডনেই।

x

Check Also

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে : আইনমন্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ (বাসস) : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ...