মাদক ও ইয়াবা প্রতিরোধ করা না গেলে ভিশন২০৪১ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হোসেন বাবলা: ১৫ জুলাই,চট্রগ্রাম ঃ
বর্তমানে দেশে যুব সমাজের অধঃপতনের অন্যতম কারণ সর্বনাশা মাদক ইয়াবা। সেই মাদক ইয়াবার বিস্তার রোধ ও ভয়াল থাবা থেকে রক্ষার জন্য জোড়ালোভাবে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম । এছাড়া দেশব্যাপী অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিস্তার রোধ, জঙ্গী ও সন্ত্রাস দমন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলা তদন্ত প্রভৃতির পাশাপাশি অপরাধী চক্র চিহিৃত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসছে। মাদক বিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামও অবিরাম গোয়েন্দা তৎপরতা ও আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এরই ফলশ্র“তিতে র‌্যাব-৭, বিগত ১ জানুয়ারি ২০১৬ হতে ১৫ জুলাই ২০১৭ পর্যন্ত সর্বমোট ১,১৮,৫৩,৮৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, এর পাশাপাশি ৩৩,৫১৯ বোতল ফেন্সিডিল, ২,২৯০ বোতল বিদেশী মদ ও বিয়ার, ৪,৫৭,৩৫২ লিটার দেশীয় তৈরী মদ, ৪১০.৭০০ কেজি গাঁজা, ০২ কেজি ৪০০ গ্রাম আফিম, ০১ কেজি ২০০ গ্রাম হেরোইন, ৮৭,৮০,০০০ পিস ব্যানসন এন্ড হেজেস সিগারেট আটক এবং এ সংক্রান্তে মাদক ব্যবসা ও মাদক পাচারের সাথে জড়িত মোট ৩৪৫ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে। একই সাথে বিভিন্ন অভিযানে উল্লেখিত সময়ে ৩৪১ টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র (একে-২২/একে-৪৭/এসএমসি/চায়নিজ রাইফেল- ১৪টি, বিদেশী পিস্তল-৬০টি, বিদেশী রিভলবার-০৯টি, ওয়ানশুটার গান/এলজি/বন্দুক/এয়ারগান-১৫৪টি, শর্টগান-০৪টি, এসবিবিএল-৯১টি, ডিবিবিএল-০৩টি, রাইফেল-০৬টি) উদ্ধার করেছে। এছাড়াও, মোট ৮২ টি ম্যাগাজিন, ৫,৬৬০ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গুলি/কার্তুজ, ১৭টি ককটেল, ১৯টি রকেট ফ্লেয়ার এবং বিপুল পরিমান বোমা তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহন করেছে। কিছু সংখ্যক ক্ষেত্রে মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং কিছু অপরাধীদের সাজা হয়েছে।

এখানে বিশেষভাবে উলেলখ্য যে, দেশের সকল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক এ যাবৎকালের আটককৃত ইয়াবা চালানের মধ্যে প্রথম সর্ববৃহৎ চালান ২৮ লক্ষ গত ১৫ জানুয়ারী ২০১৬ চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র উপকুল হতে উদ্ধার করা হয়, ২য় সর্ববৃহৎ চালান ২০ লক্ষ গত ১৬ এপ্রিল ২০১৭ চট্টগ্রামের পতেঙ্গা গভীর সমুদ্র এলাকা হতে উদ্ধার করা হয় এবং ৩য় সর্ববৃহৎ চালান ১৫ লক্ষ গত ২৩ জুন ২০১৭ চট্টগ্রামের পতেঙ্গা বহিঃনোঙ্গর সমুদ্র এলাকা হতে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম কর্তৃক উদ্ধার করা হয়।

মাদক উদ্ধারে ব্যপক সফলতা অর্জনের পাশাপাশি মাদক নির্মূলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদক বিরোধী সচেতনতা মূলক সামাজিক আন্দোলন আজ সময়ের চাহিদা। তাই শুধুমাত্র মাদক জব্দ ও আসামী আটক করলেই চলবে না বরং একই সাথে মাদকের বিরুদ্ধে জনগনকে সম্পৃক্ত করে সমাজে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এরই প্রেক্ষিতে ১৫ জুলাই মাদক বিরোধী কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম কর্তৃক উদ্ধারকৃত বিভিন্ন ধরনের বিপুল মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ কার্যক্রম গ্রহন করা হয়েছে।

উক্ত অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, এমপি, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহম্মেদ,ভুমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, স্থানীয় জন সিটি মেয়র ও নগর আঃ লীগ সাঃসম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিন, চট্রগ্রাম ১১ এর সাংসদ এম.আব্দুল লতিফ,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন স্তরের সাধারণ মানুষ এবং ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন সময়ে আটককৃত ৩৫,৭০,০০০ ইয়াবা, ২০০ কেজি গাঁজা, ৭,১৮১ বোতল ফেন্সিডিল, ২০০ বোতল বিদেশী মদ এবং বিয়ার ধবংস করা হয়। ধ্বংসকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ১৭৯ কোটি ২৭ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা।

অনুষ্টানে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,মাদক ও ইয়াবা প্রতিরোধ করা না গেলে বর্তমান সরকারের ভিশন২০৪১ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নহে বলে জানান।তিনি দেশ ব্যাপি অপরাধবোধ লোকদের চিহৃত করে তাদের ব্যাপারে আইনী পদক্ষেপ নিতেও নির্দেশ দেন।
পরে তিনি নিজ হাতে মাদকদ্রব্যের অংশ বিশেষ ধ্বংস করেন। তিনি সেখান থেকে চট্রগ্র্রামের উপজেলা আনোয়ারায় নব-নির্মিত ফায়ার সার্ভিসের শুভ উদ্বোধন করেন

x

Check Also

সেনাবাহিনী অংশ নেয়ায় ত্রাণকাজে সমন্বয় এসেছে : ওবায়দুল কাদের

কক্সবাজার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ (বাসস): সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল ...