অনলাইনকে আটকানোর জন্যই আইন | সরকারগুলো বোকার স্বর্গে, অনলাইন বর্তমান বিশ্বের অপ্রতিরোধ্য বিকল্প গণমাধ্যম , আটকানো অসম্ভব !

অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা মত প্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করবে বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। তিনি বলেন, নীতিমালায় শাস্তি এবং জরিমানার বিধান রাখায় সে জায়গাটা লঙ্ঘিত হচ্ছে। পত্রিকা এবং টেলিভিশনের মতোই সরকার এটিকে আটকাতে চাইছে। সোমবার ‘অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ২০১৭’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়। নীতিমালায় বলা আছে, ‘আইনের ১৯ ধারা লঙ্ঘন করলে অনধিক সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। এছাড়া কেউ সম্প্রচার আইনের বিধানাবলি, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা, জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা এবং কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশ বা নির্দেশনা অমান্য করলে অনধিক তিন বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।’
রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, পুরো পৃথিবীজুড়ে যে অনলাইন সাংবাদিকতা শুরু হয়েছিল তার একটি বড় জায়গা ছিল যে এটি মূল ধারার পত্রিকা, টেলিভিশন থেকে ভিন্ন। মূল ধারার মিডিয়ার ওপর সরকার সেন্সরশিপ আরোপ করতে পারে। যার থেকে বেরিয়ে অনলাইন মিডিয়া একটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্র তৈরি করে। যেটাকে আমরা অলটারনেটিভ মিডিয়া বলতে পারি। বিকল্প মাধ্যম এটা। তিনি বলেন, অনলাইন মিডিয়ার তিনটা দিক ছিল। প্রথম, যখন অনলাইন মাধ্যমটা আসে তখন ফেসবুক এসেছে, টুইটার এসেছে। মানুষ খুব উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে বন্ধুদের খুঁজছে। কানেক্ট হচ্ছে। খুব আনন্দ ছিল সবার মধ্যে। দ্বিতীয়ত, এটার যে ক্ষমতা আছে, স্যোশাল পাওয়ার হিসেবে যে একটা বড়ো জায়গা মানুষ সেটা টের পায়। যারা এক্টিভিস্ট তারা এটাকে নানাভাবে ব্যবহার করে তিউনেশিয়াতে, শাহবাগের গণজাগরণে, মিশরের তাহরির স্কয়ারে। সেসময় তারা স্যোশাল মিডিয়া, ফেসবুককে শক্তিশালীভাবে ব্যবহার করেন। তখন সরকারগুলো বোকার স্বর্গে ছিল। তারা চিন্তা করতে লাগলো এ ক্ষমতাকে কীভাবে ঠেকানো যায়। তারা এগুলা পারতো না।
তৃতীয়, পুরো পৃথিবীর সরকারগুলো বুঝে ফেলছে এটা একটা পাওয়ারের জায়গা। এটা আটকাতে হবে। পৃথিবীর দেশে দেশে সরকার বিভিন্ন অ্যাক্ট করছে, আইন করছে। বাংলাদেশ সরকারও জিনিসটা বুঝে গেছে। তাদের একটা আপার হ্যান্ড তৈরি হয়েছে। তারা কিছু এক্সপার্ট বানিয়েছে। বিভিন্ন সংস্থা ও এজেন্সির মধ্যে। তারা এখন আইনটা বোঝে এবং লোকদেরকে ধরে, এরেস্ট করে। আইসিটি অ্যাক্ট ৫৭ এ এরেস্ট করছে। অনলাইনে ফেসবুকে, টুইটারে কেউ কোনো কমেন্ট বা বক্তব্য দিলে সরকার যাতে ধরতে পারে, জেলে ঢুকাতে পারে তারই একটা কৌশল হিসেবে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখন বিষয়টি হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে ধরতে পারবে। কিন্তু লন্ডনে বসে কেউ কমেন্ট করলে, অনলাইন খুললে সরকার সেটা আটকাতে পারবে? সেখানে তো লন্ডনের আইন অ্যাপ্লাই হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, এটা আসলে স্বাধীনতার ভাব প্রকাশে অন্তরায়। সাংবাদিক-শিক্ষক যারা অনলাইনে মতপ্রকাশ করেন তাদের এই আইনের বিরুদ্ধে মাঠে নামা উচিত।

x

Check Also

শিশু কন্যা সামিন কে ফিরে পেতে পালক পিতা রায়হানের হৃদয় বিধারক আকুতি

হোসেন বাবলা ২৩নভেম্বর:চট্টগ্রাম আজ বৃহস্পতিবার(২৩নভেম্বর) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে পাচঁলাইশের এক মুসলিম পরিবারে পালক পিতা ...