সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের নিরন্তর চেষ্টা সেনাবাহিনীর

বৃষ্টি যেন পিছু ছাড়ছে না। গতকাল সোমবার রাঙ্গামাটিতে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে আবারোপাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিযেছে। মানুষের মনে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। ঝুঁকিপূর্ণ কিছু এলাকা থেকেমানুষ সরে গেলেও অনেক স্থানে এখনো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। আকাশ মেঘলা বা বৃষ্টিআসবে এমন ভাব পরিলক্ষিত হলেই রাঙামাটি জেলাজুড়েই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এখন বৃষ্টিরসাথে সাথে বজ্রপাত হওয়ায় আতংক আরো বেড়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই নিরাপদ স্থানে খুঁজছে মানুষ।
গতকাল সোমবার রাঙামাটি, কাউখালীসহ আশে পাশের এলাকায় সকাল এগারটার পর পরই শুরুহয় বৃষ্টি। এই বৃষ্টি ছিল কখনও হালকা কখনও ভারী। একেকটি বৃষ্টির ফোঁটা যেন একেকটি বুলেটেরচেয়েও ভারী।
১৩ জুনের পাহাড় ধসের ঘটনায় সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ডিসি বাংলো, এসপি বাংলো, সিভিলসার্জন বাংলো, বিএফডিসি কমান্ডার বাংলো, পাসপোর্ট অফিস, বেতার ও টেলিভিশন কেন্দ্র কোনটিবাদ পড়েনি। ধস হয়েছে সমান তালে। তাই এখন বৃষ্টি হলেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল দেথাযায় বৃষ্টি শুরু হতেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে। পানির ¯্রােতের গতিপথপরিবর্তন করতে অনেকে বালুর বস্তা দিয়ে পানি নিরাপদ স্থানে ঠেলে দিয়ে নিজের দোকানসহঅন্যান্য স্থাপনা রক্ষা করেছে। সাধারণ মানুষ বলছে, রাঙামাটির বর্তমান যে অবস্থা তাতে চেয়ে বসেথাকার কোন সুযোগ নেই। বৃষ্টি হলে বৃষ্টির পানির সঙ্গে মাটি ধস হচ্ছে চোখের সামনে। তাইনিজেদের পৃচেষ্টায় ক্ষয়রোধের চেষ্টা করছেন সবাই।
যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি : রাঙামাটির সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ গতকাল পর্যন্তস্বাভাবিক হয়নি। দিনভর বৃষ্টি হওয়ায় সড়ক সংস্কারের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।খাগড়াছড়ির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জানা গেছে মঙ্গলবার বৃষ্টি না হলে ভারীযানবাহন ছাড়া হালকা যানবাহন রাঙামাটি থেকে চট্টগৃাম পর্যন্ত যেতে পারবে। গতকাল বিকেলেশালবাগান এলাকায় সরজমিনে দেখা যায় সেনাবাহিনী বেশ কয়েকটি বুলঢোজার ও এসকেভেটরনিয়ে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে মাটি কেটে রাস্তা তৈরির জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা : পাহাড় ধসের দুর্যোগের পর এবার আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ামানুষের মাঝে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশুদ্ধ পানি ওসচেতনতার অভাবে এই রোগ ছড়াতে পারে বলছেন চিকিৎসকরা। এই আশঙ্কা রাঙ্গামাটি জেলাস্বাস্থ্য বিভাগ আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে খুলেছে চিকিৎসা কেন্দ্র। স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি জেলাপুলিশের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে চিকিৎসা কেন্দ্র। চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনীও।এসব কেন্দ্রগুলোতে রোগীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রাঙামাটির সিভিল সার্জন শহীদ তালুকদারবলেন, আবহাওয়া ঠা–া হওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগ পরবর্তী সময়েডায়রিয়া আমাশয় রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সেসব রোগের কথা মাথায় রেখে পর্যাপ্ত ওষুধআনা হয়েছে। তিনি আরো জানান, রবিবার রাঙামাটিতে ১ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ৫০হাজার খাওয়ার স্যালাইন আনা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য ওষুধ আনা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্যবিভাগের যথেষ্ট প্রস্ততি আছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন। এছাড়া পুলিশ হাসপাতালের পক্ষথেকে চিকিৎসা ক্যাম্প খোলা হয়েছে। এখান থেকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে ওষুধ ও চিকিৎসা পাবেনরোগীরা।
খাদ্য সরবরাহ করছে পুলিশ বিজিবি সেনাবাহিনী : পাহাড় ধসের পর জেলা প্রশাসনের খোলা ১৭টিআশ্রয় কেন্দ্রে খাদ্য সরবরাহ করছে জেলা পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। কেন্দ্রভিত্তিকদায়িত্ব নিয়ে সকাল বিকেল খাদ্য সরবরাহ করছেন তারা।
দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক : রাঙামাটি শহরে দ্রব্যমূল্য পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে। অকটেন সরবরাহ বেড়েযাওয়ায় বাজারে কোন কিছুর সংকট নেই জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভোর ও সকালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসে ৪জনসেনাবাহিনীর সদস্যসহ ১১৫ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে রাঙামাটি শহর এলাকায় মারা যায়৬৯ জন, কাউখালী উপজেলায় ২১ জন, কাপ্তাই উপজেলায় ১৮ জন, বিলাইছড়ি ৩জন এবংজুরাছড়ি উপজেলায় মারা গেছে ৪ জন।

x

Check Also

ভয়াল ও বিভীষিকাময় রক্তাক্ত ২১শে আগস্ট নৃশংস গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে ৪৩নং আমিন শিল্পাঞ্চল আওয়ামী যুবলীগ, স্বেচ্ছা সেবকলীগ ও ছাত্রলীগের উদ্দ্যোগে আলোচনা সভা

ভয়াল ও বিভীষিকাময় রক্তাক্ত ২১শে আগস্ট নৃশংস গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে ৪৩নং আমিন শিল্পাঞ্চল আওয়ামী ...