‘ভালবাসা জয়ী হবে – সন্ত্রাসীরা হারিয়ে যাবে’ প্ল্যাকার্ডে ফিনসবারিতে বিশ্বাসের ঐক্যে বিদ্বেষ রুখবার প্রত্যয়

ফিনসবারি পার্ক মসজিদে হামলার প্রতিবাদে সম্মিলিত হয়েছে লন্ডন। বহুঃসংস্কৃতিবাদের ব্রিটিশ মূল্যবোধকে ঐক্যের সূত্র করেছে সেখানকার মানুষ। এক বিশ্বাসের প্রতি আরেক বিশ্বাসের বিদ্বেষকে রুখে দিতে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের নেতারা সম্মিলিত হয়েছেন। আর পরস্পরের বিশ্বাসে আস্থা রেখে লন্ডনবাসী এক কাতারে হেঁটেছেন শোকের মিছিলে

লন্ডনে মসজিদে হামলার প্রতিবাদ
সোমবার (১৯ জুন) রাতের শোকের মিছিল আর সমাবেশে লন্ডনের সাধারণ বাসিন্দাদের সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যক্তিরা অংশ নেন। মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান ক্রেসিডা ডিকও যোগ দেন সেই শোকের মিছিল-সমাবেশে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আক্রান্ত বিশ্বাসের প্রতি নিজেদের একাত্মতা প্রকাশে শত শত মানুষ জড়ো হন ফিনসবারি পার্ক মসজিদের সামনে। আক্রান্তদের উদ্দেশ্যে রেখে আসেন ফুল, রেখে আসেন নতজানু ভালোবাসা।  কিছু সময়ের নীরবতায় স্মরণ করা হয় হতাহতদের।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডন ব্রিজ ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে হামলায় মুসলিম-সম্পৃক্ততার অভিযোগের পর থেকেই ব্রিটেনে বেড়েছে ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণের মাত্রা। মসজিদ হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরাও জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন হামলাকারী সব মুসলিমকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছিলেন। ধর্মীয় বিদ্বেষ ও বিভেদের এই প্রেক্ষাপটেই সোমবার এক কাতারে শামিল হন বিভিন্ন ধর্মের মানুষ। লন্ডনের ফিনসবারি পার্ক মসজিদের সামনে গাড়ি হামলার পর থেকে একে ইসলামবিদ্বেষী হামলা বলে অভিহিত করে আসছেন মুসলিম নেতারা। মসজিদ পরিচালনায় যুক্ত মোহাম্মদ কোজবার শোকার্ত সম্মিলিত বিশ্বাসে একাত্ম হওয়া ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়ের জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ পারিবারিক ঐতিহ্য, স্বাধীনতা আর আভিজাত্যের প্রতি আঘাত এই হামলা।’

দেশটির মুসলিম কাউন্সিল একে ইসলামফোবিয়ার সবচেয়ে সহিংস বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। চরমপন্থী ও সন্ত্রাসীদের ইঙ্গিত করে তিনি এদিন বলেন, ‘সম্প্রদায়ভেদে মানুষে মানুষে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় তারা। ছড়িয়ে দিতে চায় বিদ্বেষের বিষ। চেষ্টা করে মানুষের মধ্যে আতঙ্কের আবহ সৃষ্টি করতে।’ বহুসংস্কৃতির এক নিদারুণ সহিষ্ণুভূমি ফিনসবারির প্রসঙ্গ টেনে তার সোচ্চার উচ্চারণ: ‘আমরা সম্মিলিত। ওরা আমাদের মধ্যে বিভক্তির বীজ পুতে দিতে চাইছে। স্পষ্ট করে তাদের বলছি, তারা সফল হতে পারবে না।’

সর্বস্তরের মানুষ ঘটনার নিন্দা জানান
আরব-জেউয়িশ ফোরামের চেয়ারম্যান এবং ব্রিটিশ রাব্বি হার্শেল গ্লাক বলেন, ‘গ্রেট ব্রিটেনে মুসলিম কমিউনিটির ওপর হামলার মানে এখানকার সব জনগণের ওপর হামলা। কারণ আমরা এক ইশ্বরের অধীনে থাকা এক জাতি। আমরা একসঙ্গে বাস করি, একসঙ্গে কাজ করি, পরস্পরকে সহযোগিতা করি।’  স্টেপনির বিশপ রেভ আদ্রিয়ান নিউম্যান বলেন, ‘একটি ধর্মবিশ্বাসের ওপর হামলার মানেই হলো আমাদের সবার ওপর হামলা।’

যে রক্ষণশীলেরা রাজনৈতিক কারণে বিভক্তির সূত্র ফেরি করেন, সুকৌশলে পার্থক্য করেন মানুষে মানুষে; সেই দলের প্রধানমন্ত্রীও বলতে বাধ্য হয়েছেন ব্রিটিশ ঐতিহ্যের সম্মিলনের চেতনার পক্ষে। হামলাকে মুসলিমদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা বলে স্পষ্ট স্বীকারেক্তি দিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানে লেখা এক নিবন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রুড বলেছেন, ‘গতরাতের হামলাটি ছিল সন্ত্রাসবাদ। ব্রিটেনে হওয়া নতুন এ হামলাটি শোক ও ক্ষোভে থাকা প্রত্যেক মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। অন্য যেকোনও সময়ের চেয়ে এটা গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা একসঙ্গে দাঁড়িয়েছি। যারা বিদ্বেষকে ব্যবহার করে আমাদের বিভক্ত করতে চাইছে তাদেরকে আমরা সুযোগ দেব না।’

শোক সমাবেশে অংশ নেওয়া মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ক্রেসিডা ডিক বলেন, ‘এ হামলা স্পষ্টতই মুসলিমদের ওপর হামলা।’ তিনি জানান, ফিনসবারি পার্ক এলাকায় এখন আরও অনেক বেশি পুলিশ মোতায়েন থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর আশেপাশে জোরালো নিরাপত্তা থাকবে।

পরে মুসুল্লিরা তারাবির নামাজ আদায় করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বিবিসির সাংবাদিক সিমন ক্লেমিসন জানান, হামলার ভীতি উপেক্ষা করে এদিন ওই মসজিদ প্রাঙ্গনে আসেন বহু ধর্মের বহু মানুষ।

x

Check Also

”ঐতিহ্যবাহী চিটাগাং স্টিলমিল হাই স্কুলের পূনর্মিলনী উৎসব-২০১৭”

হোসেন বাবলা :১৫ ডিসেম্বর(চট্ট্রগাম) নগরীর ৪০নং ওয়ার্ডস্থ উত্তর পতেঙ্গা ঐতিহ্যবাহী ইসপাত কারখানার পরিচালিত ”চিটাগাং স্টিলমিল ...