বিল গেটসকে হটাতে জেফ বেজোসের আর বেশি দিন লাগবে না

আর মাত্র ৫০০ কোটি ডলার হলেই বিল গেটসকে হটিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির পদটি চলে যাবে অ্যমাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের দখলে।

সম্প্রতি মার্কিন সুপারমার্কেট চেইন হোল ফুডসকে কেনার ঘোষণা দেওয়ার পর শেয়ার বাজারের বদৌলতে রাতারাতি ১৮০ কোটি ডলারের মালিক হয়ে গেছেন বেজোস। ফরে তার সম্পদের পরিমাণ এখন দাঁড়িয়েছে  ৮৪৬০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বিল গেটসের তুলনায় ৫০০ কোটি ডলার কম।

সম্পদ বন্টনে অবশ্য জেফ বেজোস আর বিল গেটসের নীতি আলাদা। গেটস যেমন তার সম্পদ নিয়মিত দান করে আসছেন, অন্যদিকে বেজোস দানশীল না হয়ে আরও আগ্রাসীভাবে ব্যবসা বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

বর্তমানে বিশ্বের সেরা ধনী বিল গেটস বিশ্বের তৃতীয় ধনী ব্যক্তি ওয়ারেন বাফেটের সঙ্গে ‘গিভিং প্লেজ’ নামে একটি সংস্থা তৈরি করেছেন যে সংস্থার সদস্যদের উদ্দেশ্য জীবদ্দশায় তাদের অর্ধেক সম্পদ বিলিয়ে দেওয়া। এখন পর্যন্ত ১৫০ জন ধনী ব্যাক্তি এ সংস্থার সদস্য হলেও বেজোস এখনো তার নাম অন্তর্ভুক্ত করেন নি।

আগ্রাসী বাজরনীতির জন্য বরাবরই বিখ্যাত বেজোস। সামান্য বই বিক্রি দিয়ে ব্যাবসা শুরু করে এখন মানুষের জীবনের প্রয়োজনীয় সবকিছু বেচা কেনায় বিশ্বের অন্যতম সেরা মাধ্যমে পরিণত হয়েছে অ্যামাজন। বিশ্লেষকরা বলেন, মেধা, সৃজনশীলতা, দূরদর্শী বিনিয়োগ এবং সফল ও আগ্রাসী অধিগ্রহণের ফলেই অ্যামাজনকে আজকের উচ্চতায় তুলে এনেছে। এমনরকি বাজার মূলধনের দিক থেকে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার দৌড়ে একেবারে সামনের দিকেই রয়েছে অ্যামাজন।

১৯৯৪ সালে প্রথম ‘ক্যাডাব্রা’ নামে প্রথম যাত্রা শুরু করেন বেজোস। একবছর পরেই ১৯৯৫ সালে ‘অ্যামাজন.ডট’ কম নাম নিয়ে প্রথম অনলাইনে ব্যাবসা শুরু করেন তিনি।  দুই বছর পর ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বুকপেজেসকে কিনে নিয়ে বড় ধরণনের চমক দেন বেজোস। এটিই অ্যামাজনের প্রথম বড় কোনো অধিগ্রহণ। বুকপেজেস কিনে নেয়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যে ‘অ্যামাজন ইউকে’ নাম দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি এবং পরের বছরগুলোতে অনলাইনে বইয়ের পাশাপাশি গানের সিডি-ডিভিডি বিক্রি করে বিশাল মুনাফা করেন তিনি।

১৯৯৮ সালে অনলাইনভিত্তিক চলচ্চিত্র ডাটাবেজ আইএমডিবি ও জার্মানিভিত্তিক অনলাইন বুক শপ টেলিবুককে অধিগ্রহণ করে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। একই বছর ভারতেও যাত্রা শুরু করে অ্যামাজন।

১৯৯৯ সালে অন্যতম সফল ও বিচক্ষণ উদ্যোগ নেন বেজোস, যেটি অ্যমাজনের ব্যবসায় সুদুরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। সে বছর ২৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারে সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক অ্যালেক্সা ইন্টারনেট ইনকরপোরেটকে কিনে নেয় অ্যামাজন। এ অধিগ্রহণের ফলে অ্যালেক্সার ইন্টারনেট নেভিগেশন সার্ভিস ব্যবহার করে গ্রাহকদের বিভিন্ন সাইট ভিজিটের তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পায় প্রতিষ্ঠানটি। এ তথ্য ব্যবহার করে গ্রাহকদের জন্য ক্রয় সুপারিশ বিষয়ক সেবার উন্নয়ন ঘটায় অ্যামাজন। কোন গ্রাহকের পছন্দ কী, অ্যালেক্সার ডাটা বিশ্লেষণ করে তা সহজেই বুঝতে পারে অ্যামাজন। ফলে গ্রহাকের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাবসা করাটাও তাদের জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়।

অ্যামাজনকে বলা আগ্রাসী অধিগ্রহনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বহু প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করেছে তারা যারা অ্যামাজনের ব্যাবসা বিস্তৃতি ঘটিয়েছে, মুনাফা গুনোত্তর হারে বাড়াতে সাহায্য করেছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার সম্পন্ন হওয়া মোসুপারমার্কেট চেইন হোল ফুডস (ডব্লিউএমএম) অধিগ্রহণের ঘটনাটি অ্যামাজনের ইতিহাসে বৃহত্তম ও সবচেয়ে ব্যয়বহুল।

অ্যামাজন ছাড়াও মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিন-এর প্রধান নির্বাহীও বেজোস। এভাবে চলতে থাকলে বিল গেটসকে হটাতে জেফ বেজোসের বেশি দিন লাগবে না বেল মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

x

Check Also

বাংলাদেশ এখন ‘সাইনিং স্টার’ : সজীব ওয়াজেদ জয়

ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০১৭ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ...