‘একজন মানবিক প্রতিমন্ত্রী’ /~ ‘একজন মানসিক প্রতিবন্ধী’ – অনলাইন পত্রিকাগুলোর রকমারি শিরোনাম বাংলা ট্রিবিউনের মাসুমানা শিরোনাম প্রসঙ্গ

পাঠক টানতে বি গ্রেড অনলাইন পত্রিকাগুলোর আজব আজব শিরোনাম নির্ধারণ কারো অজানা নয়। দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় আমাদের মেইন্সট্রীম অনলাইনগুলোও এহেন কাজ থেকে বিরত নয়। তারাও প্রতিদিন প্রতিনিয়ত চমক লাগানো, তাক লাগিয়ে দেওয়া শিরোনাম নিয়ে হাজির থাকছেন পাঠকদের সামনে। তবে এই সংবাদটি অনলাইন পত্রিকার বহুমাত্রিক, রকমারি শিরোনাম সমগ্র নিয়ে নয় বরং একটি অনলাইনের আজকের একটি মাসুম, সরলা-অবলা শিরোনাম নির্ধারণ প্রসঙ্গে। শিরোনামটি পড়ে কারো বুঝার উপায় নাই আসলে সংবাদটি মুসা ইব্রাহীমকে নিয়ে। ছবিতে আছেন প্রতিমন্ত্রী আর শিরোনাম ‘একজন মানবিক প্রতিমন্ত্রী’ । শিরোনাম পড়ে যে কারো প্রথমে তো দৃষ্টি বিভ্রম হতে পারে যে ‘একজন মানসিক প্রতিবন্ধী’। দৃষ্টি বিভ্রম এড়িয়ে শিরোনামটি পড়তে পারলেও সংবাদের সাথে শিরোনামটি ওভাবে যাচ্ছে না। শিরোনামটি মাসুমানা- অবলা একটা কিছুকে ইঙ্গিত করছে অথচ কন্টেন্টের ভেতরে যাদের কথা বলা আছে – মুসা ইব্রাহীম ও শাহরিয়ার আলম তারা দুজনই বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত ব্যক্তিত্ব। এখানে এতটা মাসুমানা ও অবলা ভাবের শিরোনাম না করলেও কি চলতো না ?! বিচারের ভার পাঠকের উপর । 

 

পুরো সংবাদটি –

একজন মানবিক প্রতিমন্ত্রী (অডিও)

এভারেস্টজয়ী মুসা ইব্রাহীম ও তার দুই সহ-আরোহীকে ওশেনিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতে আটকে পড়ার পর তাদের উদ্ধার তৎপরতায় সম্পৃক্ত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম। শনিবার (১৭ জুন) রাত থেকে সোমবার (১৯ জুন) সকাল পর্যন্ত পুরো উদ্ধার প্রক্রিয়া তদারকি করেন তিনি। মুসা উদ্ধার হওয়ার পর তার কাছ থেকে এসএমএস পেয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরপরই তা ফেসবুকেও স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছেন। মুসা ইব্রাহীমকে উদ্ধারের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিমন্ত্রী কথা বলেন বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগে সফল হলে ভালো লাগে।’

মুসার সঙ্গে কথা হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘না, কথা হয়নি। আমাকে সে এসএমএস করেছে। আমি আর যোগাযোগের চেষ্টা করিনি। জব ডান। আই হোপ, হি ইউল বি অলরাইট।’

মুসা ইব্রাহীমকে উদ্ধারের তৎপরতায় কিভাবে সম্পৃক্ত হলেন— জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার পরিচিত উইমেন রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট কুঞ্জ, সাংবাদিক প্রণব সাহা ও আমার রাজনৈতিক অনুজ তানভির শাকিল জয় শনিবার রাত প্রায় ১২টার দিকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে তাদের কারও কাছেই বিস্তারিত তথ্য ছিল না। পরে আমি নিজেই উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মাউন্টেইনারদের সাইটগুলোর ঘেঁটে দেখি। একইসঙ্গে মুসার স্ত্রীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।’

গোটা প্রক্রিয়ায় অনেকটা সময় পেরিয়ে যায় কিনা, জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সবই ঘটেছে দ্রুতগতিতে। আমি বিষয়টি জানার পরই ইন্দোনেশিয়ায় আমাদের রাষ্ট্রদূতকে এসএমএস করি। তখন সবাই ঘুমে ছিলেন বলেই এসএমএস করি। আশা করছিলাম, সেহরির সময় উঠলে সাড়া পাব। এসময়ের মধ্যে আমি তথ্য পেতে মুসার ফেসবুক প্রোফাইল ভিজিট করি। ওখানেই দেখি, মুসার ভারতীয় এক সহযাত্রী একটি লিংক দিয়েছেন ১ জুন। সেখানে বলা ছিল, ওই লিংকে আপডেট তথ্য পাওয়া যাবে। সেই লিংকে গিয়ে দেখি, ২৪ ঘণ্টা আগে শেষবার লগইন করা হয়েছিল স্যাটেলাইট ফোনটি। আমরা তখন জানতাম ওদের চার্জ শেষ হওয়ার দিকে।’

মুসাকে উদ্ধারের প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানতে চাইলে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘ওখানে একটা ইন্টারেস্টিং ডিভাইস সিস্টেম ছিল। লোকেশন রিকোয়েস্ট করলে ওই ডিভাইস টেক্সট করে। মেসেজ পাঠালে বিশ মিনিট পর উত্তর পাওয়া যায়। আমার ধারণা, পাওয়ার সেভ করার জন্য বন্ধ থাকলেও প্রতি ২০ মিনিট পরপর ডিভাইসটি অটোমেটিক্যালি অন হয় বার্তা পাঠানোর জন্য। আমি বার্তা পাঠিয়ে রাখার পর তাদের কাছ থেকে ভোরের দিকে উত্তর পাই। সবটা বুঝে নিয়ে সেদিনই ভোরে হেলিকপ্টার যাওয়ার বিষয়টি ঠিক হয়, হেলিকপ্টার টেকঅফও করে। তবে ভুলে গেলে চলবে না, উঁচুতে আবহাওয়া দ্রুত পাল্টায়। এরপর তো সারাদিনই আমরা যোগাযোগের মধ্যেই ছিলাম। অবশেষে আজ (সোমবার) উদ্ধার হলো মুসা ও তার সহযাত্রীরা।’

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘মুসা তার দল নিয়ে পাহাড়ে উঠেছিলেন উত্তর দিক দিয়ে, আর হেলিকপ্টার গেছে দক্ষিণ দিক দিয়ে। দুটোই ইন্দো-পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গে সংযুক্ত, জায়গার নাম পাপুয়া। আমরা আগেই জেনেছি মুসার মাধ্যমেই তিনটা লোকেশন চেঞ্জ করে ট্রানজিট করে তারা সেখানে গেছে। এরই মধ্যে মুসার ভারতীয় সহযাত্রী তার দেশের সঙ্গে এসএমএসের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। আমিও যোগাযোগ করি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে। আল্লাহর রহমত, তাদের সবাইকে উদ্ধার করা গেছে।’

মুসা ও তার দলকে উদ্ধারের গোটা প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকার অনুভূতি প্রসঙ্গে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমরা দায়িত্বের জায়গা থেকে এ কাজটি করি। দুর্গতদের পাশে সবসময় দাঁড়ানো উচিত। নয় বছর হলো সংসদ সদস্য হয়েছি। রাজনীতি করি আরও বেশি দিন। তবে এরও আগে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থাতেও চেষ্টা করেছি সবার পাশে দাঁড়াতে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কাগজে-কলমে দায়িত্বে মধ্যে পড়ে, তা কিন্তু নয়। আমাদের রুলজ অব বিজনেস অ্যানালাইজ করলে দেখবেন— কোনও প্রবাসী বাংলাদেশি দেশের বাইরে বিপদে পড়লে তার সহায়তায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় কাজ করে। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনও ম্যান্ডেট নেই। এটা অফিশিয়াল কোনও বিষয় নয়। কিন্তু মানুষের উপকারের ইস্যুতে আমরা কেউই গণ্ডির মধ্যে থাকতে চাই না। এ ধরনের কাজ আমরা অতীতেও করেছি। সব সমস্যার সমাধান করা যায়, তা না। অনুভূতির কথা জানতে চাইলে বলব, সমাধান হলে ভালো লাগে। উদ্যোগ সফল না হলে খারাপ লাগে, কখন হতাশও লাগে।

x

Check Also

নতুন গ্যাসকূপ সন্ধানের খবরে আনন্দের জোয়ারে ভাসছে ভোলাবাসী

  ভোলা, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭ (বাসস) : জেলার বোরহানউদ্দিনে শাহবাজপুর গ্যাসফিল্ডের নতুন গ্যাসকূপ সন্ধানের খবরে ...