এই না হলে পাকিস্তান!

‘আমাদের হারানোর তো কিছু ছিল না’- সরফরাজ আহমেদের এই একটি কথায় বলা হয়ে গেল সব। ঔদ্ধত্যে নয়, পা মাটিতে রেখে প্রকাশ করলেন পাকিস্তান অধিনায়ক ঐতিহাসিক জয়ের অনুভূতি।

সত্যিই তো, এই পাকিস্তানের হারানোর কিছু ছিল না। সেমিফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারে কিনা, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে এই ছিল হিসাব-নিকাশ। রং হারিয়ে সোনালী দিন হাতড়ে বেড়ানো আনকোরা একটা দল সেরাদের সেরা টুর্নামেন্টে আর কতদূরই বা পারবে যেতে! সেমিফাইনাল পর্যন্তও ধরা হয়নি যাদের, তারা ফাইনালে ভারতের মতো শক্তিশালী দলকে নিয়ে এভাবে ছেলেখেলায় মেতে উঠবে, পাকিস্তানে পাঁড় সমর্থকরাও হয়তো ভাবেননি। অথচ হিসাবের খাতা উল্টিয়ে বিজয় কেতন উড়িয়ে পাকিস্তান আবারও প্রমাণ করল ক্রিকেটের ২২ গজে তারা কতটা ‘আনপ্রেডিক্টেবল’।

যুগে যুগে, সময়ের পালা বদলে কত যে বাঁক বদল হয়েছে পাকিস্তানের ক্রিকেটের, তার হিসাব দেওয়া কঠিন। ইমরান খানের যুগ হোক কিংবা ইনজামাম-উল-হক, মিসবাহ-উল-হক হয়ে এখনকার সরফরাজ আহমেদের পাকিস্তান, কাউকে নিয়ে আগে থেকে কোনও ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না। যায়নি এবারও। ইংল্যান্ডের মাটিতে ‘বি’ গ্রুপে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কাকে টপকে পাকিস্তানের সেমিফাইনালে ওঠাটাই ছিল চ্যালেঞ্জের।

ইতিহাসও সায় দিচ্ছিল না পাকিস্তানের পক্ষে। ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসরের শিরোপা দূরে থাক, আগে কখনও ফাইনালেও ওঠা হয়নি যাদের, তাদের নিয়ে বাজি ধরাটা একটু কঠিনই। ফাইনালের আগেও বাজিকরদের বিচারে পাকিস্তানের চেয়ে জয়ের পাল্লা ভারি ছিল ভারতের দিকে। আর আগের আসরের চ্যাম্পিয়নদের পক্ষে বাজি ধরার কারণও ছিল। এই ভারতের বিপক্ষে হেরেই তো চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মিশন শুরু করেছিল পাকিস্তান।

কিন্তু ‘মহান অনিশ্চয়তার খেলা’ এই ক্রিকেটে ‘দিন যার, রাজত্ব তার’। ক্রিকেট দেবতার কলমে কেনিংটন ওভালের ফাইনাল ভাগ্য লেখা হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের পক্ষে। তাই গোটা টুর্নামেন্টে ব্যাটিংয়ে ভোগা পাকিস্তান স্কোরে জমা করে ৩৩৮ রান। বিপরীতে ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষদের রান বন্যায় ভাসানো ভারত কিনা অলআউট হয় মাত্র ১৫৮ রানে! যাতে ক্রিকেট তার অপূর্ব রূপের প্রকাশ ঘটিয়ে আরেকবার ভক্তদের ভাসিয়ে যায় সীমাহীন উত্তেজনা-রোমাঞ্চের সাগরে।

১৯৯২ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল কিংবা ২০০৯ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টির আসর- পাকিস্তান ফেভারিট ছিল না কোনোবারই। ছিল না এবারও। তারকা কোনও ব্যাটসম্যান নেই, সোনালী যুগের সেই বোলিংয়ের সঙ্গে তুলনা করলে এবারের বোলিংও আহামরি কিছু ছিল না। ছিল যা, তা হলো জয় করার প্রচণ্ড আকাঙ্খা। প্রত্যাশার চাপ ছিল না, ছিল না আবেগের স্রোতে ভেসে যাওয়ার কোনও উপলক্ষ। কিন্তু এই পাকিস্তানও যে ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠতে পারে, সেই বিশ্বাস ছিল প্রতিটি খেলোয়াড়ের মনে।

বিশ্বাস থাকলে নাকি সবকিছুকেই জয় করা যায়। আর এটা তো ২২ গজের লড়াই। তাই দক্ষিণ আফ্রিকা ছিটকে যায়, স্বাগতিক ইংল্যান্ডও আত্মসমর্পন করে অসহায়ভাবে। আর ফাইনালে শক্তিশালী ভারত হয়ে যায় ‘পুঁচকে’ দল!

তখন ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তানের বিজয় নিশান ওড়ায় অপেক্ষায় চেয়ে থাকে খোলা আকাশ। কেনিংটন ওভালের আতশবাজির আলোয় আলোকিত হয় রাতের পাকিস্তান। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম শিরোপা জয় বলে কথা।

সত্যি, এই না হলে পাকিস্তান!

x

Check Also

প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলতে পারায় হতাশ অস্ট্রেলিয়া

দুইটি টেস্ট খেলতে বাংলাদেশ সফরে এসেছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। মূল সিরিজের আগে দুই দিনের একটি ...