পাকিস্তানি দাপটে ‘ধ্বংসস্তূপে’ ভারত

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল। মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান। আগে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান টিম ইন্ডিয়ার সামনে ছুড়ে দিয়েছে ৩৩৯ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় ভারত।

লন্ডনের কেনিংটন ওভালে টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বিরাট কোহলি। ফখর জামান ও আজহার আলির মধ্যকার সেঞ্চুরি জুটির ওপর ভর করে মজবুত ভিত পায় সরফরাজের দল। এরপর অন্যান্যদের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৩৮ রানের পাহাড় গড়ে পাকিস্তান।

৩৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় ভারত। মোহাম্মদ আমিরের করা প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে দারুণ ইনসুইংয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন রোহিত। সঙ্গী শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করে রিভিউ না নিয়েই সাজঘরের দিকে হাঁটা দেন ভারতীয় ওপেনার। এরপর আমিরের করা তৃতীয় ওভারে কোহলি ফিরে গেলে চরম বিপর্যয়ে পড়ে টিম ইন্ডিয়া। এরপর শিখর ধাওয়ানকে আউট করে ভারতকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন আমির।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৯ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৩ রান। মহেন্দ্র সিং ধোনি ০ ও যুবরাজ সিং ৬ রান নিয়ে ব্যাট করছেন। রানের খাতাই খুলতে পারেননি রোহিত। কোহলি আউট হয়েছেন ৫ রান করে। শিখর ধাওয়ান ২১ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

প্রথম ওভারে রোহিত ফিরে যাওয়ার পর ভারত তাকিয়ে ছিল রান তাড়ায় ‘মাস্টার’ কোহলির দিকে। কিন্তু দলকে চরম হতাশ করেন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক। আমিরের করা তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আজহার আলির ‘বদান্যতায়’ বেঁচে যান কোহলি। কিন্তু পরের বলেই পয়েন্টে শাদাব খানের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে দলকে বিপদে ফেলে সাজঘরে ফেরেন কোহলি।

শুরুতেই ২ উইকেট হারানোর পর ধাওয়ান ও যুবরাজের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল ভারত। কিন্তু সেই স্বপ্নে হানা দেন আমির। এই পাকিস্তানি পেসারের করা নবম ওভারের শেষ বলে ধাওয়ানের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে উইকেটের পেছনে সরফরাজের হাতে বল জমা পড়লে ব্যাকফুটে চলে যায় টিম ইন্ডিয়া।

এর আগে টপ ও মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় ৩৩৮ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তান। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরি করা ফখর ১০৬ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১১৪ রানের ঝলমলে ইনিংস উপহার দেন। তার ওপেনিংয়ের সঙ্গী আজহার রানআউট হওয়ার আগে ৭১ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৫৯ রান করেন। এছাড়া বাবর আজম ৫২ বলে ৪৬ এবং হাফিজ ৩৭ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে করেন ৫৭ রান।

ভারতের হয়ে একটি করে উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার, হার্দিক পান্ডিয়া ও কেদার যাদব।

ভারতের বিপক্ষে এর আগে সর্বোচ্চ ৩২৯ রান করে হেরেছিল পাকিস্তান। ২০১২ সালে এশিয়া কাপের ম্যাচে ঢাকায় পাকিস্তানের ৩২৯ রান তাড়া করে জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া। অবশ্য এর আগে ২০০৪ সালে ৩২৯ রান করে শেষ হাসি হেসেছে পাকিস্তানই।

ওভালের ইতিহাসও কথা বলছে পাকিস্তানের হয়ে। কেনিংটন ওভালে সর্বোচ্চ ৩২২ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড রয়েছে। চলমান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে ৩২২ রান তাড়া করে জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। ওভালে ৩০০ প্লাস রান তাড়া করে জয়ের আর মাত্র তিনটি উদাহরণ রয়েছে। তবে কোনো দলই ৩২২ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কোনো দল সর্বোচ্চ ৩২২ রান তাড়া করে জিতেছিল (ভারতের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা)। পাকিস্তানকে হারাতে হলে তাই নতুন ইতিহাসই গড়তে হবে কোহলির দলকে।

ভারতীয় একাদশ: রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিং, এমএস ধোনি, কেদার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ভুবনেশ্বর কুমার ও জসপ্রিত বুমরাহ।

পাকিস্তান একাদশ: আজহার আলি, ফখর জামান, বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ আমির, শাদাব খান, হাসান আলি ও জুনায়েদ খান।

x

Check Also

ঈদের পরেই মাঠে ফিরছেন বিজয়

ঘরোয়া লিগে ভালো পারফর্ম করা সত্ত্বেও দীর্ঘ দিন ধরে দলের বাইরে জাতীয় দলের উইকেটরক্ষক ও ...