কোহলিকে নিয়ে আমিরের ‘মাইন্ড-গেম’

ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল। অথচ তার আগে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই হবে না! মাঠের বাইরের বাকযুদ্ধে উত্তপ্ত হবে পরিবেশ! তা হচ্ছেও। দুই দেশেরই সাবেক ক্রিকেটাররা টুইটার, ফেসবুক, টেলিভিশন, পত্রপত্রিকায় বিবৃতি-যে যেভাবে পারছেন কথার হুল ফোটাচ্ছেন। তবে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইটা প্রথম শুরু করলেন মোহাম্মদ আমির। পাকিস্তানি খেলোয়াড় শুরুতেই আঘাতটা হেনেছে একেবারে মোক্ষম জায়গায়, ভারতীয় দলের মাথায়। প্রশংসার সুরে মাইন্ড-গেমটা তিনি খেলেছেন সরাসরি ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে নিয়ে। বলেছেন, এই ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ কোহলি নির্ভর! কথার মারপ্যাচে আমির বুঝিয়ে দিয়েছেন, কোহলিকে দ্রুত আউট করতে পারলেই জয়ের পথ পেয়ে যাবে পাকিস্তান!

কোহলি বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান, এটা সবারই জানা। ভারত অধিনায়ক এবারের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। ৪ ম্যাচে ২৫৩ রান। গড় চোখ কপালে উঠার মতো, ২৫৩! ৪ ম্যাচের মধ্যে কোহলি আউট হয়েছেন মাত্র একবার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে আউট হয়েছিলেন শূন্য রানে। টুর্নামেন্টে ভারতের একমাত্র হারটাও সেই ম্যাচেই। আমিরের খোঁচাটা সেদিকে ইঙ্গিত করেই। নয়তো শুধু কোহলিই নয়, ভারতের দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা দুজনেই আছেন আগুণে ফর্মে। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ দুই সংগ্রাহক তারাই। এ ছাড়াও আছেন যুবরাজ সিং, সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি, হার্দিক পান্ডিয়া, কেদার যাদবরা।

কিন্তু ফাইনালের আগে প্রতিপক্ষ অধিনায়ককে বাড়তি চাপে রাখতেই আমির কোহলিকে বানিয়ে দিচ্ছেন ভারতের ‘একমাত্র’ ব্যাটিং স্তম্ভ। চোটের কারণে ২৫ বছর বয়সী আমির সেমিফাইনালে খেলতে পারেননি। তবে এরই মধ্যে তিনি ফিট হয়ে গেছেন বলে খবর। রোববার ওভালের ফাইনালে আমির খেলবেন বলেও খবর। তবে খেলুতে পারুন না পারুন, প্রতিপক্ষের মাথায় বাড়তি চাপের বোঝা চাপাতে তো সমস্যা নেই!

আমির তাই শুধু ব্যাটসম্যান কোহলিকে নয়, খোঁচা মেরেছেন অধিনায়ক কোহলিকে নিয়েও। কোহলি অধিনায়ক হওয়ার পর এটাই প্রথম আইসিসি টুর্নামেন্ট। রোববার তার ফাইনাল। প্রথম বলে ওভালের ফাইনালে অধিনায়ক কোহলি এমনিতেই অনেক চাপে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন আমির, ‘ভারত দল বিরাট কোহলির উপর নির্ভরশীল। তাছাড়া সে এমনিতেই চাপে থাকবে। কারণ অধিনায়ক হিসেবে এই প্রথম বড় কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলবে সে। কোনো সন্দেহ নেই, তার উইকেটটি আমাদের অনেক এগিয়ে দেবে।’

তা এগিয়ে দেবেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কোহলিকে পাকিস্তানি বোলাররা ফেরাতে পারবে তো? গ্রুপপর্বের ম্যাচে কিন্তু কোহকি থামাতে পারেননি আমিররা। ভারত অধিনায়ক অপরাজিত ছিলেন ৮১ রানে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারত তার আগের ম্যাচটি খেলেছিল ২০১৫ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে। অ্যাডিলেডের সেই ম্যাচেও কোহলি করেছিলেন সেঞ্চুরি। কোহলির ১০৭ রানের ইনিংসের কাছেই সেই ম্যাচে হেরে যায় পাকিস্তান।

তাই কোহলি নিয়ে যতিই মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেলুন, ভেতরে ভেতরে চাপে থাকবেন আমিররাও।

x

Check Also

প্রধান মন্ত্রী মানবতার আশ্রয়টি বিশ্বে মাদার অফ হিউম্যানিটি বিরল অর্জন …!

১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উদ্যাপন বাবুল হোসেন বাবলা:চট্টগ্রাম/১০ডিসেম্বর হিউম্যান রাইটস অফ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ...