নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি

২০১৯ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশি ও আন্তর্জাতিক চাপে ক্ষমতাসীনরা এক তরফা নির্বাচন করতে পারবে না বলে ধারণা বিএনপি’র। তবে কোনো আন্দোলন না হলে ক্ষমতাসীনরা নিজেদের অধীনেই নির্বাচন করার চেষ্টা করবে। তাই নির্বাচনে অংশ গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিএনপি’কে আন্দোলনে নামতে হবে এই বিশ্বাসে আন্দোলনের আগেই নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ করতে চায় বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে প্রার্থী বাছাই, প্রচার দল গঠন, ইশতেহার তৈরি, এমনকি রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইতোমধ্যেই ভেতরে- ভেতরে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও চলছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজে এটা দেখভাল করছেন। প্রার্থীবাছাই ও শক্তিশালী প্রচার দল গঠনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের ৫১টি দল সারাদেশে সফর শুরু করেছেন। সফরে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মিসভার মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে একটি ধারণা নেবেন এবং স্থানীয় নেতাদের দ্বন্দ্ব-কোন্দল মেটানোর চেষ্টা করবেন। ঢাকায় ফিরে প্রতিটি দল প্রতিবেদন আকারে স্থানীয় নেতাদের অবস্থান সম্পর্কে দলের চেয়ারপারসনকে জানাবেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে, আগামী ১০ মে হোটেল ওয়েস্টিনে বিকেল সাড়ে চারটায় সংবাদ সম্মেলন করে ‘ভিশন-২০৩০’ নামে দীর্ঘমেয়াদের রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা উপস্থাপন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কী করবে, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হবে এই সংবাদ সম্মেলনে। পরিকল্পনা প্রকাশের পর তা একটি পুস্তিকা আকারে সারাদেশে বিতরণ করবে বিএনপি। ফলে এটা স্পষ্ট যে দেলটি এখন নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, দলটি ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রীর একক কর্তৃত্ব খর্ব করে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা, জাতীয় সংসদকে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট করে প্রান্তিক গোষ্ঠী ও নেতৃস্থানীয় পেশাজীবীদের শাসনকাজে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, গণভোট চালু, সব কালা-কানুন বাতিল, দলীয়করণমুক্ত দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের যোগ্যতা ও পদ্ধতি সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন, দুর্নীতির সঙ্গে আপস না করা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা ও তদারকি শক্তিশালী করা, সন্ত্রাসী ও জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, দেশের মাটিতে অপর কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা মেনে না নেয়া, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা ইত্যাদি কাজের একটি রূপরেখা ঘোষণা করা হতে পারে ‘ভিশন ২০৩০’ এর ঘোষণায়।

সূত্র: দৈনিক যায়যায়দিন।

x

Check Also

ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ)হচ্ছে মুসলিম মিল্লাতের ঐক্যের প্রতীক,সূফি মিজান

হোসেন বাবলা:১৯নভেম্বর বন্দর নগরীতে নগর গাউছিয়া কমিটির উদ্যোগে পবিত্র মাহে রবিউল আউয়াল উপলক্ষে স্বাগত জানিয়ে ...