কাশ্মির অভিযানের শুরুতেই ‘জঙ্গি হামলা’র কবলে ভারতীয় বাহিনী, নিহত ১

কাশ্মিরজুড়ে শুরু হওয়া বিস্তৃত চিরুনি অভিযান শুরুতেই প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। অভিযান শুরুর দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় রাইফেল বাহিনীর এক গাড়িতে হামলা হয়েছে। ভারতীয় বাহিনীর দাবি, এটি জঙ্গি কর্মকাণ্ড। হামলায় একজন বেসামরিক ভারতীয় নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬২ রাষ্ট্রীয় রাইফেলের ৪ সদস্য।
পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই ও ব্যাংকের টাকা লুটপাটের পর শুরু হওয়া এই অভিযানে ভারতের সেনাবাহিনী, পুলিশ ওই অন্যান্য সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা অংশগ্রহণ করেছেন। এক সেনা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, এটি গত ১৫ বছরে কাশ্মিরে চালানো ভারতীয় বাহিনীর সবচেয়ে বড় অভিযান।  ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেছেন, কাশ্মিরকে ভারতের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। আর ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ অভিযানকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার রাতে কাশ্মিরের সোপিয়ানে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা হামলা চালিয়ে পুলিশের ৫টি রাইফেল ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া কাশ্মির উপত্যকায় অন্তত ৩টি ব্যাংকের টাকা লুট করে তারা। এর প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয় চিরুনি অভিযান। সন্ধ্যায়  সৈনিকদের বহনকারী  ৬২ রাষ্ট্রীয় রাইফেলের এক গাড়ি ইমাম সাহাব এলাকা পার হওয়ার সময় হামলার কবলে পড়ে। একে জঙ্গি হামলা বলে দাবি করছে ভারতীয় বাহিনী। হামলায় এক বেসামরিক পথচারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন রাষ্ট্রীয় রাইফেলের ৪ সৈনিক।

এক সেনা কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘কাশ্মিরে গত ১৫ বছরে চারপাশ ঘেরাও করে এ মাত্রার অভিযান চালানো হয়নি। এ অভিযানের লক্ষ্য হলো জঙ্গিদের ওপর চাপ তৈরি করা এবং সুরক্ষিত অঞ্চলগুলো থেকে তাদেরকে বের করে আনা।’ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৪ হাজার সদস্য নিয়ে কাশ্মিরের বিভিন্ন জায়গায় চলছে এই অভিযান। জম্মু ও কাশ্মিরের সোপিয়ানে ঘিরে ফেলা হয়েছে ২০টি গ্রামকে। জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা এসপি পানি ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এটি নজিরবিহীন অভিযান’।
সম্প্রতি নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে জম্মু-কাশ্মিরের আঞ্চলিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ও সেখানকার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ মন্তব্য করেছিলেন, ‘আজ আমরা সরকারের নীতির পতন দেখতে পাচ্ছি।’ তিনি সরকারকে ‘ঘুম থেকে উঠতে’ বলে সতর্ক করেছেন, ‘কাশ্মিরে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ভারত।’ এই মন্তব্যের কয়েকদিনের মাথায় বড় আকারের এই অভিযান শুরু হলো।

দিল্লিতে সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত সাংবাদিকদের জানান কাশ্মিরে ভারতীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন ‘উপত্যকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ব্যাংক লুট ও পুলিশের ওপর হামলা ও নিহতের প্রতিক্রিয়ায় এ তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।’ নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই ওই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চলছে
এরইমধ্যে সোপিয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার দায় স্বীকার করেছে হিজবুল মুজাহিদিন।
গত কয়েকদিন ধরে একের পর এক জঙ্গি হামলার মোকাবিলায় শুরু হওয়া অভিযানে আকাশপথেও নজরদারি চালাচ্ছে ড্রোন, হেলিকপ্টার। সোপিয়ানের বাসিন্দারাও বলছেন, গত দুই দশকের মধ্যে তারা এতো বড় অভিযান দেখেননি। মোহাম্মদ আকরাম খান নামে শিরমাল এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘এই প্রথম আমাদের এলাকায় এতো বড় অভিযান হলো।’ সুগান এলাকা বাসিন্দা গুলজার আহমেদ বলেন, ‘সেনারা মধ্যরাতের দিকে আমাদের গ্রামে আসে। সকালে বেশ কয়েকজন সেনা ও পুলিশ আমার বাড়িতে ঢোকে এবং প্রত্যেকটি রুমে তল্লাশি চালায়। আমাদের গ্রামের অন্য বাড়িতেও একইরকম করে তল্লাশি চালানো হয়েছে।’

x

Check Also

সমকামিতা ইস্যুতে বলি তারকাদের তোপের মুখে রবিশঙ্কর

‘সমকামিতা এক ধরনের প্রবণতা। এটা চিরস্থায়ী নয়।’ এমন কথায় তোপের মুখে পড়লেন শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর। ...