৪৭ এমপির ফ্ল্যাটে বসবাস করেন যারা-

কাজের লোক, ব্যক্তিগত সহকারী আর ড্রাইভারের দখলে রয়েছে এমপিদের ফ্ল্যাট। টানা তিন বছর ধরেই তারা বসবাস করছেন এমপিদের বরাদ্দ নেয়া ফ্ল্যাটগুলোতে। এসব ফ্ল্যাটে থাকার সুবাদে সরকারের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ভিআইপি মর্যাদায় দিনযাপন করছেন তারা। এরকম ৪৭ জন ভাগ্যবানের সন্ধান পেয়েছে সংসদ কমিটি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সম্প্রতি ওই কমিটি একটি তালিকা তৈরি করে। ওই তালিকায় দেখা গেছে, ৬ জন এমপির ফ্ল্যাটে থাকেন তাদের বাড়ির কাজের লোক। ব্যক্তিগত সহকারীর দখলে রয়েছে ২৮ জন এমপি’র ফ্ল্যাট। এছাড়া ২ জন এমপি’র ফ্ল্যাটে থাকেন অফিসের লোক, ১জন এমপি’র ফ্ল্যাটে গাড়ির ড্রাইভার, নির্বাচনী এলাকার লোক থাকেন ১ জন এমপি’র ফ্ল্যাটে, পিএসের পরিবার থাকেন আরেক এমপি’র ফ্ল্যাটে, এক এমপি’র ফ্ল্যাটে থাকেন আত্মীয়, বরাদ্দ নিয়েও তিন এমপি বন্ধ রেখেছেন তাদের ফ্ল্যাট, বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রীর ভাই থাকেন আরেক এমপি’র ফ্ল্যাটে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে এলে তিনি কড়া ভাষায় এর সমালোচনা করেন। অবিলম্বে ওইসব এমপিদের ফ্ল্যাট ছাড়ার নির্দেশ দেন। এরপরই নড়েচড়ে বসে সংসদ কমিটি। ওই কমিটির সভাপতি হিসেবে আছেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ। কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, মো. আব্দুস শহীদ, নূর-ই-আলম চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ মোছা. মাহাবুব আরা বেগম গিনি প্রমুখ। গতকাল সংসদ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে ওই তালিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে সরকারদলীয় চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যারা এমপি হিসেবে বরাদ্দ নেয়া বাসায় থাকেন না, তাদের বাসা ছেড়ে দিতে হবে। সেই নির্দেশ বাধ্যতামূলক। আমর?া এমপিদের চিঠি দিয়েছি। এর মধ্যে একজন মন্ত্রী রয়েছেন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে চিঠির জবাব দিতে বলা হয়েছে। এরপর উত্তর না পেলে স্পিকারের নেতৃত্বে ওইসব এমপিকে ডেকে বলবো বাসা ছেড়ে দিতে। আশা করি, এরপর আর কেউ না থেকে বাসা দখলে রাখবেন না। আ.স.ম ফিরোজ বলেন, অনেক এমপি আমাদের চিঠির জবাব দিয়েছেন। কেউ বলেছেন বাসায় থাকি, কেউ বলেছেন ফ্যামিলি থাকে। আবার কেউ বলেছেন ছেড়ে দেব। এখন পর্যন্ত ৪ জন এমপি বলেছেন তারা ছেড়ে দেবেন। কমিটির কার্যপত্রে দেখা যায়। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল  ইসলাম বাবু ফ্ল্যাটে রেখেছেন তার কাজের লোককে। ১ নং ভবনে তার ফ্ল্যাট নম্বর ১/১০৪। একেএম ফজলুল হক, তার ফ্ল্যাটে থাকেন ব্যক্তিগত সহকারী। মো. আনোয়ারুল আজীম (আনার)-এর ফ্ল্যাটে থাকেন ব্যক্তিগত সহকারী, নিজাম উদ্দিন হাজারীর ফ্ল্যাটে থাকেন কাজের লোক। মো. ইউনুস আলী সরকারের বাসায় থাকেন এলাকার লোক, কাজী কেরামত আলীর বাসায় থাকেন অফিসের লোক, মো. আলী আসগরের বাসায় থাকেন ব্যক্তিগত সহকারী, তাহজীব আলম সিদ্দিকীর বাসায় থাকেন ব্যক্তিগত সহকারী, মো. আব্দুল ওয়াদুদের বাসায় থাকেন ব্যক্তিগত সহকারী। ভবন-২ এ দেখা যায় ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের বাসায় কাজের লোক থাকেন, দিদারুল আলমের বাসায় ব্যক্তিগত সহকারী, শেখ আফিল উদ্দিনের বাসায় ব্যক্তিগত সহকারী থাকেন, মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বাসায় থাকেন ব্যক্তিগত সহকারী, এনামুল হকের বাসায় অফিসের লোক থাকেন, কামরুল আশরাফ খানের বাসায় থাকেন ব্যক্তিগত সহকারী,  বেগম লুৎফা তাহেরের বাসায় কাজের লোক থাকেন, আবু সালেহ মোহাম্মদ সাঈদের বাসায় ব্যক্তিগত সহকারী থাকেন, মো. আমির হোসেনের বাসায় থাকেন ব্যক্তিগত সহকারী, শিরিন নাইমের বাসায় থাকেন গাড়িচালক, শেখ হেলালের বাসায় থাকেন পিএস-এর পরিবারবর্গ, কাজী রোজীর বাসায় থাকেন ব্যক্তিগত সহকারী, লায়লা আরজুমান বানুর বাসায় ব্যক্তিগত সহকারী থাকেন, উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বাসায় থাকেন কাজের লোক, বেগম মেরিনা রহমানের বাসায় ব্যক্তিগত সহকারী থাকেন। ৪ নং ভবনে মন্ত্রী ছায়েদুল হকের বাসা বন্ধ থাকে। অধ্যাপক ডা. এম আমানউল্লাহর বাসায় আত্মীয় থাকেন, পংকজ নাথ-এর বাসায় ব্যক্তিগত সহকারী থাকেন, শওকত আলীর বাসায় ব্যক্তিগত সহকারী থাকেন, মো. আব্দুল্লাহর বাসায় থাকেন ব্যক্তিগত সহকারী, মন্ত্রী মো. শাজাহান খানের বাসা বন্ধ থাকে, প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং-এর বাসা বন্ধ থাকে। ভবন-৫ এর ফ্ল্যাটের মধ্যে মো. একাব্বর হোসেনের বাসায় ব্যক্তিগত সহকারী থাকেন, ওমর ফারুক চৌধুরীর বাসায় ব্যক্তিগত সহকারী থাকেন, এইচ এম ইব্রাহীমের বাসায় নিজে থাকেন না, বেগম জেবুন্নেছা আফরোজের বাসায় ব্যক্তিগত সহকারী থাকেন, মৃণাল কান্তি দাসের বাসায় থাকেন ব্যক্তিগত সহকারী, আলী আজমের বাসায় ব্যক্তিগত সহকারী থাকেন, ধীরেন্দ্র দেবনাথের বাসায় ব্যক্তিগত সহকারী থাকেন, ফখরুল ইমামের বাসায় ব্যক্তিগত সহকারী থাকেন, জাহাঙ্গীর কবির নানক নিজে থাকেন না, নূরনবী চৌধুরীর বাসায় ব্যক্তিগত সহকারী থাকেন, আফসারুল আমীনের বাসায় ব্যক্তিগত সহকারী থাকেন, বেগম আয়েশা ফেরদাউসের বাসায় নিজে থাকেন মাঝে মধ্যে ব্যক্তিগত সহকারী থাকেন, শামীম ওসমানের বাসায় ব্যক্তিগত সহকারী থাকেন, মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের বাসায় ব্যক্তিগত সহকারী থাকেন, শেখ হাফিজুর রহমানের বাসায় ব্যক্তিগত সহকারী থাকেন এবং শেখ ফজলে নূর তাপসের বাসায় বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রীর ভাই পরিবার নিয়ে থাকেন। গতকাল কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, মো. আব্দুস শহীদ, নূর-ই-আলম চৌধুরী, হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি, পঞ্চানন বিশ্বাস, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মো. আসলামুল হক এবং তালুকদার মো. ইউনুস।

x

Check Also

ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ)হচ্ছে মুসলিম মিল্লাতের ঐক্যের প্রতীক,সূফি মিজান

হোসেন বাবলা:১৯নভেম্বর বন্দর নগরীতে নগর গাউছিয়া কমিটির উদ্যোগে পবিত্র মাহে রবিউল আউয়াল উপলক্ষে স্বাগত জানিয়ে ...