ডোন্ট ক্রাই আম্মু | মায়ের আনন্দাশ্রুও মুছে দিতে চাই এস এস সি-তে ভাল ফল করা মেহজাবিন

পুরো মুখ জুড়ে হাসি, কণ্ঠে উচ্ছ্বাস আর হাত নেড়ে মেয়েটি তার অনুভূতি প্রকাশ করছিল। তার সামনে অনেকগুলো গণমাধ্যমের প্রতিনিধি—কারও হাতে ক্যামেরা, কেউবা তার প্রতিক্রিয়া টুকছেন নোটবুকে। ভালো ফল করার উচ্ছ্বাস বলে কথা! মেয়েটির পাশে দাঁড়িয়ে আনন্দে চোখের জল ফেলেই যাচ্ছিলেন তার মা। উচ্ছ্বসিত মেয়েটির পাশাপাশি তার মায়ের সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের। কথা বলতে চাইলে কান্না লুকাতে পারেন না গর্বিত মা আমিনা সফি। তখন পাশ থেকে মেয়ে মোলিতা মেহজাবিন তার মাকে জড়িয়ে বলেন, ‘ডোন্ট ক্রাই আম্মু, আমি তো তোমার কথা রেখেছি।’

তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, মেয়ে মোলিতা মেহজাবিন এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ভিকারুননিসা নূন থেকে জিপিএ ফাইভ পেয়ে পাস করেছে, আর সে খুশিতেই মা আমিনা সফি কেবলি কেঁদে যাচ্ছেন, ফোন করে সবাইকে জানাচ্ছেন মেয়ের সাফল্যের কথা।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা হয় মা আমিনা সফি এবং মেয়ে মোলিতা মেহজাবিনের সঙ্গে। এই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে আরও অনেক মেয়ের সঙ্গে সেও জিপিএ-৫ পেয়েছে। প্রকাশিত ফল দেখে জানা গেছে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার পাস করেছে ৯৯.৯৪ শতাংশ ছাত্রী। এবার এই স্কুলে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৫৯৬ জন তবে একজন পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ায় পাসের হার একটু কমেছে। তবে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩৬৮ জন শিক্ষার্থী।

উচ্চ্বসিত মোলিতার সঙ্গে তার মা আমিনা সফি

এত উচ্ছ্বাস প্রসঙ্গে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোলিতা নিজেই বলে, অনেক কষ্ট করেছি, প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছি। এতো অসুস্থ ছিলাম যে, অনেকেই বলেছিল পরীক্ষা না দিতে, কিন্তু আম্মু বলেছে তুমি পরীক্ষা দাও। দেখো কী হয়, মূলত আব্বু আম্মু আর ছোট ভাইয়ের সাহসেই পরীক্ষায় বসি। তারপর তো আজ রেজাল্ট দিলো। আপনি কাঁদছেন কেন জিজ্ঞেস করতেই মা আমিনা সফি বলেন, গত দেড় মাস ধরে এক বিছানায় ঘুমিয়েছি আমরা, ওর সঙ্গে সমান তালে রাত জেগেছি। বরং মেয়ে যখন ঘুমিয়ে যেত তখনও আমি জেগে থাকতাম, সময় মতো ওকে ঘুম থেকে ‍তুলে পাশে বসে থাকতাম যেন আবার ঘুমিয়ে না পড়ে। আমিনা বলেন, দুই ছেলেমেয়েকে হাতে ধরে স্কুলে-কোচিং এ নিয়ে যেতাম, আত্মীয়-স্বজনের বাসায় যাওয়া বাদ দিয়েছিলাম, সেই সময়টুকুও আমি ছেলেমেয়েকে নিয়ে থেকেছি। প্রচণ্ড অসুস্থ মেয়েকে মানসিক শক্তি দিয়েছি পরীক্ষার আগে, সেই মেয়ে আমার কষ্টের মূল্য দিয়েছে, আমি হাসতে পারছি না, কেবলই কান্না পাচ্ছে বলেই আবার চোখের কোণ মোছেন তিনি।

ভবিষ্যতে কী হতে চাও প্রশ্নে মোলিতা বলেন, আমি অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। আমার পরিবারে অধিকাংশই চিকিৎসক, তাই একজন ইঞ্জিনিয়ারও দরকার।

তবে পরিবারে চিকিৎসক থাকার পরও চিকিৎসকই হতে চায় আরেক শিক্ষার্থী সুমাইয়া সুলতানা রিয়া। ভবিষ্যতে কী হতে চাও প্রশ্নে উচ্চকণ্ঠে হাসি দিয়ে রিয়া বলে, অবশ্যই চিকিৎসক। পরিবারের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক রয়েছেন, তাদের দেখেই এ নেশা চেপেছে। মানুষের সেবা করতে চাই। শহরে থাকতে চাই না, চিকিৎসক হয়ে গ্রামের মানুষের সেবা করতে চাই। তবে এবছর জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর হার কমে গিয়েছে, এতে করে আমার অনেক বন্ধুরাই জিপিএ-৫ পায়নি। তাদের ভেতর থেকে আমি ফাইভ পেলেও আনন্দটা মনমতো হচ্ছে না, বন্ধুদের মন খারাপ দেখে ঠিকমতো আনন্দ হচ্ছে না।

আজ মেয়ের এসএসসির রেজাল্ট দেবে বলে নিজের গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ফেলে মেয়েকে নিয়ে স্কুলে এসেছেন বাবা প্রকৌশলী সৈয়দ রফিকুল আলম। তিনি বলেন, তার মেয়ে সৈয়দা রিফাহ তাসফিয়া স্কুলের গোল্ড মেডেল পাওয়া মেয়ে। মেয়ে যে গোল্ডেন জিপিএ পাবে সেটা তার প্রত্যাশাই ছিল। তাই কোনও টেনশন না করে মেয়েকে নিয়ে এসেছেন রেজাল্ট নিতে। পাশে দাঁড়িয়ে মুখ ভরা হাসি নিয়ে মেয়ে রিফাহ বলেন, সে ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হতে চায়।

x

Check Also

চট্টগ্রাম ইভটিজিং এর চিত্র ধারণকালে চট্টগ্রামে আলোকচিত্রীর ক্যামরা ভাংচুর

১৫ নভেম্বর বুধবার -২০১৭ চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে এক আলোকচিত্রীর ক্যামরা ভাংচুর করেছে একটি বিদ্যালয়ের ছাত্ররা। ...