চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়েও বাউবির শিক্ষার্থীদের কর্মসূচী


কাজী ইব্রাহিম সেলিম : গত মঙ্গলবার ২ মে ২০১৭ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়(বাউবির)শিক্ষার্থীরা কাজকর্ম বাদ দিয়ে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে সকাল ৯ টা থেকে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছেন। সকাল ১১ টার দিকে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গ্রহণ করেন। বাউবির কতৃপক্ষ ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে তিনি শিক্ষার্থীদের আশ^স্ত করেন। জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল শুক্রবারও অসংখ্য শিক্ষার্থী স্লোগান দিতে থাকেন ১. অভিলম্বে শিক্ষার্থী হয়রানি বন্ধ কর, করতে হবে আমাদের এই দাবি মানতে হবে, মানতে হবে, মানতে হবে। ২. জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় থেকে এ+ পাওয়া শিক্ষার্থীকে উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয় অনুপস্থিত আর ফেল দেখাবেন তা হবে না, তা হবে না-উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়ের এই জটিলতা মানি না, মানব না। ৩. শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়লে কার কি আসে যায়- সনদপত্র সংশোধনীর মতো সাধারণ একটি কাজ ছয় মাসেও কেন হয় নাই! এইসব স্লোগান দিয়ে ডিসিহিল, চেরাগী পাহাড় মোড় হয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, গত বছরে এসএসসির ফলাফল প্রকাশ হলে অসংখ্য শিক্ষার্থীর অনুপস্থিত আর ফেল এসেছে। গত নভেম্বর মাসে অভিযোগ পাটানোর ছয়মাস পর অভিযোগের উত্তর এসেছে পরীক্ষায় অনুপস্থিত, ফেল, ১৪ সালের রেজাল্ট, কিন্তু রেজাল্ট আসার কথা পনের সালের এভাবে নানা সমস্যা। এক শিক্ষার্থী জানান, “পূর্বে শিক্ষার্থীর কলে পরীক্ষা বিভাগ বলেছেন, “তদন্ত চলছে সনদপত্র সংশোধন হলে যাবে।” গত ১১ এপ্রিল ১৭ পরীক্ষা বিভাগে শিক্ষার্থী আবার ফোন করলে বলেন, “এসএসসির সনদপত্র সংশোধন হয়েছে, এইচএসসিরটা পরে হবে।” সেই শিক্ষার্থীকে ১৩ এপ্রিল ১৭ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক বদরুল হায়দার চৌধুরী বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রাণালয় থেকে বাউবিতে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সেজন্য, বাউবির প্রধান কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের নিয়ে বোর্ড বসেছে, ভিসি স্যার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালককে ফোনে বলেছেন, “শিক্ষার্থীর সমস্যাগুলো নিয়ে সেই শিক্ষার্থীর সাথে ভিসি স্যার কথা বলতে চান।” শিক্ষার্থী জানান, “এসএসসির সনদপত্র সংশোধন হয়েছে বলে কথা দিয়েছেন পরীক্ষা বিভাগ, তাই সেই কথার সাথে কাজের মিল রেখেই সেটি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পরীক্ষা বিভাগের। তবে বাউবির সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি শিক্ষার্থীর সমস্যার কথা শুনার জন্য সেই শিক্ষার্থীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বিধায় তিনি (ভিসি মহোদয়) শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির পথ সুগম করতে আন্তরিক হবেন, এই আশাই ভিসি মহোদয়ের সাথে দেখা করতে গাজীপুর যেতে গাড়ি ভাড়া দিয়ে অর্থ খরচ হলেও যাবেন শিক্ষার্থী। ২ মে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিচালক শিক্ষার্থীর কল নম্বর রাখেন, ভিসি স্যার যেই দিন সময় দিতে পারবেন সেইদিন শিক্ষার্থীকে কল করে গাজীপুরে যেতে বলবেন। আরেক শিক্ষার্থী জানান, “তার রেজাল্ট অনুপস্থিত ও ফেল এসেছে অসচেতনতার কারণে। তানাহলে সে ফেল করার মত শিক্ষার্থী নয়, সে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে ৬২৩ এবং এইচএসসিতে জিপিএ: ৪.৪৬, পেয়ে পাস করেছে। বাউবিতেও এখই রকম নাম্বার পেয়ে পাস করার কথা। সেজন্য, তিনি তার প্রকৃত ফলাফল প্রকাশ করার জন্য কতৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছেন।
লিখা ও ছবি : কাজী ইব্রাহিম সেলিম, কবি ও সাংবাদিক

x

Check Also

১৫ ডিসেম্বর ষ্টীলমিলস্ স্কুলের পুনর্মিলনী

দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ চিটাগাং স্টীল মিলস হাই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের পুনর্মিলনী আগামী ১৫ই ডিসেম্বর ...