আইরিশ ও দশ আঙ্গুলের ছাপ দিয়েই স্মার্ট কার্ড নিতে হবে

আইরিশ ও দশ আঙ্গুলের ছাপ ছাড়া স্মার্ড কার্ড বিতরণের প্রস্তাব দেওয়া হলে তা নাকচ করে দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার ইসি সচিব ও এনআইডি উইয়েং সঙ্গে ইসির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৯ কোটি নাগরিকের হাতে স্মার্ট কার্ড পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে। নানা জটিলতায় এ কাজে স্থবিরতা আসায় বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিল ইসি সচিবালয় ও জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ।

এ বিষয়ে ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে স্মার্ট কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে আইরিশ ও দশ আঙ্গুলের ছাপ ছাড়াই স্মার্ড কার্ড বিতরণ করার প্রস্তাব আমরা এবং এনআইডির উইং কমিশন বৈঠকে উপস্থাপন করি। কিন্তু আজ এ প্রস্তাব কমিশন বৈঠকে বাতিল করা হয়।

তিনি জানান, বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা একই পদ্ধতিতে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করেছেন। এ দুটো ফিচার নেওয়া হলে ব্যক্তির সঠিকতা যাচাই আরও সুনিশ্চিত থাকে।  গোয়েন্দা দপ্তর এ দুটো ফিচার রাখার পক্ষে। সব মতামত পর্যালোচনা করে আঙ্গুলের ছাপ ও আইরিশ বাদ দিতে চাইছে না কমিশন। সেক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন যাতে আর বিলম্ব না হয় তা বিবেচনা করে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে কাজ করা হবে।

ইসি সচিব জানান, এ সময়ের মধ্যে ৯ কোটি নাগরিককে স্মার্ট কার্ড দিতে না পারলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্যে বিশ্ব ব্যাংকের কাছে প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক দফা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের এ প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতির সুযোগ নেই। এখন নির্ধারিত সময়ে এ কাজ সারতে কারিগরি কাজ বাড়ানো হবে। তা না হলে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর জন্য বলা হবে। স্মার্ট কার্ড কখনো বন্ধ হবার নয়। এ জন্যে পরবর্তীতে সরকারি অর্থায়নে বিতরণ কাজ চলবে বলে জানান তিনি।

গত বৃহস্পতিবার ইসি সচিব বলেছিলেন, স্মার্ট কার্ড বিতরণের কার্যক্রম দ্রুত বৃদ্ধি করতে ভোটারদের আইরিশ ও দশ আঙ্গুলের ছাপ বাদ দেওয়া হচ্ছে। কমিশন অনুমোদন দিলে আমরা কাজ শুরু করব। তখন আইরিশ ও দশ আঙ্গুলের ছাপ ছাড়াই ভোটারদের স্মর্ট কার্ড বিতরণ করা হবে।

নাগরিকদের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ফ্রান্সের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে ইসি। আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহেন্সিং অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্পের আওতায় বিশ্ব ব্যাংক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা।

৩ অক্টোবর রাজধানীতে স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু হয়। ছয় মাসে আইরিশ ও দশ আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে বিতরণ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৯৬৩ জন নাগরিক নিজেদের স্মার্ট কার্ড নিয়েছেন; যা বিতরণযোগ্য  ভোটারের ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

রাজধানীর পাশাপাশি কুড়িগ্রামে বিতরণ শুরুর পর মার্চে চট্টগ্রামে ও এপ্রিলে রাজশাহীতেও কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কুড়িগ্রামে বিতরণ হয়েছে ৬১ দশমিক ২৪ শতাংশ; চট্টগ্রামে ৫৮ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং রাজশাহীতে ৮০ দশমিক ১৫ শতাংশ বিতরণ হয়েছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ১৭ লাখ।

x

Check Also

ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ)হচ্ছে মুসলিম মিল্লাতের ঐক্যের প্রতীক,সূফি মিজান

হোসেন বাবলা:১৯নভেম্বর বন্দর নগরীতে নগর গাউছিয়া কমিটির উদ্যোগে পবিত্র মাহে রবিউল আউয়াল উপলক্ষে স্বাগত জানিয়ে ...