(কিশোরীকে জিম্মি করে জামিনের চেষ্টা!) ধর্ষক জাহেদের জামিন না মঞ্জুর

চট্রগ্রাম আদালত প্রতিবেদকঃ১৪ফেব্রুয়ারী:

আলোচিত ১৪ বছরের কিশোরী ‘কান্না’কে গণধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত লালখান বাজারের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও বহু ধর্ষণসহ অপকর্মের হোতা মো. জাহেদ আদালতে কিশোরী ও তার পরিবারকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ও জিম্মি করে আদালতে জামিনের আবেদন করে। গতকাল রবিবার আদালতে ধর্ষক ও সন্ত্রাসী জাহেদের জামিন আদালত না মঞ্জুর করেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রে মো. আল-ইমরান খান’র আদালত এই আদেশ দেন।
একাধিক সূত্র ও কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কিশোরী ‘কান্না’ (ছদ্মনাম) ও তার পরিবার যাতে হাতছাড়া না হয়, সে জন্য জাহেদের পিতা ও এই ধর্ষণ ঘটনাকে গোপন করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে ধর্ষিতা ও ধর্ষিতার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার অন্যতম উদ্যোক্তা এবং এই ঘটনার তথ্য অনুসন্ধানকারী সাংবাদিক নির্যাতন মামলার প্রধান আসামি সন্ত্রাসী জাহেদের পিতা মাহাবুব ও তার বাহিনীর সদস্যরা ধর্ষিতা কিশোরীর পরিবারকে নানানভাবে ভয়-ভীতি এবং জিম্মি করে রেখেছে। স্থানীয় একাধিক অধিবাসী জানিয়েছেন, গণধর্ষণের শিকার কিশোরী ও তার পরিবার এমনিতেই বিপর্যস্ত।
এরমধ্যে ধর্ষকদের একজন বাদে সবাই পলাতক। পলাতক ধর্ষকরা কারাবন্দী সন্ত্রাসী জাহেদের পিতা স্থানীয়ভাবে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী এবং অবৈধ কর্মকান্ডের জন্য আলোচিত মাহাবুবের সহযোগিতায় ধর্ষিতার পরিবারকে জিম্মি করে রেখেছে। গতকাল রবিবার তাদের নিজস্ব বাহিনীর হুমকি, মেরে ফেলার ভয় এবং পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার ভয় দেখিয়ে জাহেদের জামিনের আবেদন করা হয়। আবেদনপত্রে কিশোরীর হলফনামাও সংযুক্ত করা হয়। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, কিশোরী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাদের সাথে পুলিশ ও অভিযুক্ত সন্ত্রাসীরা ছাড়া আর কেউই দেখা কিংবা কথা বলতে পারছে না।

কিশোরীর নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে সিএমপি কমিশনার মো. ইকবাল বাহার জানান, ভিকটিমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা তাকে ভিকটিম সার্পোট সেন্টারে নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করবো। যদিও এই বিষয়ে আমাদের আদালতের নির্দেশনা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জানুয়ারি রাত ৯ টায় লালখান বাজারের মতিঝর্ণাস্থ সাত্তাইজ্জার মার পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে ৯ জন মিলে ১৪ বছরের কিশোরী ‘কান্না’কে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে। ঘটনার পর দিন হতে দৈনিক প্রিয় চট্টগ্রাম ও দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকা নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে এই ধর্ষণ ঘটনাকে সামনে আনার কাজ করে। প্রথম দিকে স্থানীয় থানা পুলিশ এই ধরণের ঘটনার কোনো অস্তিত্ব নেই, ‘কান্না’ নামের কোনো কিশোরী কিংবা তার পরিবারের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে বার বার সংবাদকর্মীদের জানান।

ঘটনার প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক সংবাদ এবং এই ধর্ষণ ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হামলার শিকার হন দৈনিক সাঙ্গুর নিজস্ব প্রতিবেদক মো. নুরুল আলম চৌধুরী। এই হামলা চালায় মতিঝর্ণার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী মাহাবুব, তার ছেলে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী জাহেদ ও তার পরিবারসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা। এই ঘটনায় ওই দিনই খুলশী থানায় সাংবাদিক নির্যাতনের মামলা (নং ০২) করা হয়। সাংবাদিকের উপর হামলার প্রেক্ষিতে সন্ত্রাসী মো. জাহেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই গত ৪ ফেব্রুয়ারি খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশের বিশেষ টিম ধর্ষণ ঘটনার সত্যতা খুঁজে পায়। বেড়িয়ে আসে ধর্ষণকারীদের নামও। উক্ত ধর্ষণ ঘটনা ধামাচাপা, বিনিময়ে অর্থ বাণিজ্য করার অপরাধে জাহেদকে ধর্ষণ মামলার ১০ নম্বর আসামি করা হয়।

মামলায় ধর্ষক হিসেবে আসামি করা হয় মতিঝর্ণা এলাকার মো. দেলোয়ারের ছেলে রাশেদ (২২), রফিকুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ মুন্না (২০), আব্দুর রহমানের ছেলে মো. জনি, মো. হায়দারের ছেলে রবি (২১), নান্নুর ছেলে পারভেজ (২০), মান্নানের ছেলে মো. দিদার (২৩), পিতা অজ্ঞাত মো. সোহাগ (২০), মো. রবিউল (২২) ও হৃদয় (২২)। এরমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে মো. জনি ও সন্ত্রাসী জাহেদকে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

বিভিন্ন নদ-নদীর ৬৯ পয়েন্টে পানি হ্রাস পেয়েছে

ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ (বাসস) : দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর ৯০টি পানি সমতল স্টেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ...