গাজীপুরের কালীগঞ্জে প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে কাজে ফিরলেন চিকিৎসকরা

মুহাম্মদ আতিকুর রহমান (আতিক), গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি ঃ
রোগীর সাধারণ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের কালীগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও হাসপাতাল ভাঙচুর করা হয়। এতে তিন চিকিৎসক আহত হন।

ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে ৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জরুরি বিভাগসহ সকল প্রকার চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখেন চিকিৎসকরা।

৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। এ সময় আহত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে সঠিক বিচারের প্রতিশ্রুতি দিলে পুনরায় জরুরি বিভাগসহ সকল প্রকার চিকিৎসাসেবা শুরু করেন চিকিৎসকরা।

৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কলিঙ্গা গ্রামের বাবুল মিয়াকে (৪৫) কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে স্বজনরা।

তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিতে পরার্মশ দেয়া হয়। অন্য এক রোগী নিয়ে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় থাকায় রোগীর স্বজনদের বিকল্প অ্যাম্বুলেন্স বা গাড়ির ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়। গাড়ি ব্যবস্থা চেষ্টাকালে রাত ৮টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাবুল মিয়ার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে রোগীর স্বজনরা নিজেদের সরকারদলীয় লোক পরিচয়ে বাবুল মিয়ার চাচা শ্বশুর কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া গ্রামের আক্তার মোল্লা, ফয়সাল, জুলহাস, মামুন, সুমন, মাসুম, রূপগঞ্জ উপজেলার কলিঙ্গা গ্রামের অপু, কাশেম ভেন্ডার, অজ্ঞাত ৪-৫ জন সহযোগী নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা চালান।

এ সময় তারা কক্ষের দরজা-জানালা, কম্পিউটার, চেয়ার-টেবিল ও চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন। বাধা দিলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মীর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ইনডোর চিকিৎসক আশীষ কুমার বণিক ও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোঃ আব্দুল মোতালিবকে মারধর করা হয়।

এর প্রতিবাদে ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জরুরি বিভাগসহ সকল প্রকার চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখেন চিকিৎসকরা।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আহত মীর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, ঘটনার পর পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকিকে জানানো হয়েছে। তিনি দোষীদের গ্রেফতারে থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিবল্পনা অফিসার ডাঃ মোহাম্মদ ছাদেকুর রহমান আকন্দ বলেন, আমাদের দাবি ছিল দোষী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা। তারা গ্রেফতার হয়েছে এবং হচ্ছে। এ অবস্থায় দোষীদের উপযুক্ত বিচারে প্রতিমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি পেয়ে সবাই কাজে ফিরেছে।

কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আলম চাঁদ জানান, এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মোহাম্মদ ছাদেকুর রহমান আকন্দ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। সেই মামলায় থানা পুলিশ মামুন ও আক্তার মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে। বাকিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে; এক টিকিটে এশিয়ার দশটিরও বেশি দেশ ভ্রমণ

ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলওয়ের কথা শুনেছেন অনেকেই। এটা নিয়ে হয়েছে মুভি, বই। হয়েছে ভ্রমণ কাহিনী। চীন থেকে ...