হেবার দলিলে এক হাজার ঘুষ মহেশপুরে ঝিনাইদহে চাঁদাবাজী বন্ধ হয়নি দলিল লেখক সমিতির

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় দলিল লেখক সমিতির নামে অবৈধ সিন্ডিকেট গঠন করে কৃষক বা জমির মালিকদের কাছ থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজীর সাথে জড়িতদের নাম ঠিকানা সংম্বলিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়ার পরও থেমে নেই সমিতির চাঁদাবাজী। বরং আগের মতোই চলছে সেরেস্তা খরচের নামে জোর পুর্বক টাকা আদায়।

মহেশপুরের দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন কালুহুদা গ্রামের আসাদুলের কাছ থেকে হেবার ঘোষনা করতে এক হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ঝিনাইদহ জেলা রেজিষ্ট্র্রি অফিসের রেকর্ড কিপার আমির হোসেন অভিযোগ করেন, পরিচয় দেবার পরও দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির এক রকর জোর করেই টাকা নেয়। তিনি এই টাকা ফেরৎ চান। জাকির এ ভাবে প্রতিদিনই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ।

উল্লেখ্য, গত সোমবার ঝিনাইদহের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (সি.জে.এম) আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ জাকির হোসেন চাঁদাবাজীর সাথে যারা সম্পৃক্ত আছে তদন্ত করে তাদের নাম ঠিকানা সংম্বলিত প্রতিবেদন আগামী ১৪ ফেব্রয়ারী তারিখে পেশ করার নির্দেশ দেন। জনস্বার্থে দেওয়া আদেশে আদালত উল্লেখ করেন, ঝিনাইদহ জেলার সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসগুলোতে দলিল লেখক সমিতির নামে সিন্ডিকেট গঠন করে দাতা গ্রহীতাদের জিম্মি করে অবৈধ ভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সমিতি নামধারী চাঁদাবাজদের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। সরকারী একটি দপ্তরে সেবা নিতে এসে সেই দপ্তরের কর্মকর্তাদের নাকের ডগায় কোন সমিতির নামে চাঁদাবাজী আইনের চরম লংঘন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে এ রূপ চাঁদাবাজীর সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা আবশ্যক। আদেশের কপি ঝিনাইদহ জেলা রেজিষ্টারসহ ৬ উপজেলার সাব-রেজিষ্টারদের কাছে প্রেরন করা হলেও দলিল লেখক সমিতির অবৈধ মিশন থেমে নেই।

ঝিনাইদহ সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সভাপতি আক্তার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আলম, শৈলকুপায় দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নান্নু মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, হরিণাকুন্ডুতে সভাপতি ওয়াজেদ আলী ও সম্পাদক বিশারত আলী, মহেশপুর একতা দলিল লেখক সমিতি নামে সভাপতি জাকির হোসেন ও সম্পাদক তাজুল ইসলাম, কালীগঞ্জে সভাপতি মোঃ আব্দুল হক ও সাধারণ সম্পাদক নাছির চৌধূরী, কোটচাঁদপুরে সভাপতি ইসমাইল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার সমিতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে। এই সমিতি বেআইনী ভাবে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে পৌরসভা এলাকায় প্রতি লাখে ১৬ হাজার ও ইউনিয়নে নিচ্ছে ১৫ হাজার করে আদায় করছেন।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর সাব-রেজিষ্ট্রি দলিল লেখক সিমিতির সাধারন সম্পাদক আসাদুল আলম বলেন, আমরা সরকার থেকে কোন টাকা পায় না। সমিতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা দুস্থ ও অসহায় দিলল লেখকসহ সবাই নিচ্ছি। এটাকে চাঁদাবাজী বা জোর করে নেওয়া বলে না। তিনি দাবী করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরাও দেশের উন্নয়নে অংশীদার হচ্ছি।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

কাবুলে আত্মঘাতি বোমা হামলা ॥ নিহত ২৪, আহত ৪২

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সোমবার শক্তিশালী গাড়ি বোমা হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত ও অপর ৪২ ...