সংবাদ সম্মেলনে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি


মহাসড়কের স্কেলে চাদাঁবাজি ও পুলিশি হয়রানী বন্ধসহ চট্টগ্রাম বন্দরে
প্রতিনিধি প্রবেশাধিকার চায়, সমাধানে গড়িমসি করলে আন্দোলন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের স্কেল-এ প্রকাশ্য চাদাঁবাজি ও অহেতুক হয়রানী বন্ধ, চট্টগ্রাম বন্দরে ট্রান্সপোর্ট প্রতিনিধি প্রবেশের অনুমতি ও ট্রাক, কভার্ডভ্যানকে পুলিশের চাদাঁবাজি থেকে রক্ষার দাবীতে আন্তঃজিলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ‘ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি’ গতকাল বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সভাপতি হাজী মনির আহম্মদ। সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব দীন মোহাম্মদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, আন্তঃজিলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি ১৯৮৩ইং সাল থেকে চট্টগ্রাম তথা সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচলকৃত ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান এবং চট্টগ্রামের পরিবহন সংস্থা সমূহের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। এই সংগঠনের মাধ্যমে আমরা ট্রান্সপোর্ট ও পরিবহন মালিক এবং চালকদের পাশাপাশি পরিবহন ব্যবসার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছি। মহাসড়কে পণ্য ডাকাতি, চালকদের হত্যা, অপহরণ, পুলিশের হয়রানীসহ সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিরলস সংগ্রাম করে চলেছি। তার পরিপ্রেক্ষিতে আজকাল মহাসড়কে চুরি-ডাকাতি, চালক অপহরণ ও হত্যা অনেকাংশে কমে এসেছে।
লিখিত বক্তবে তিনি আরো বলেন, সারা দেশব্যাপি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আন্তঃজিলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির এগারোশত সদস্যের প্রায় পাঁচ হাজারেরও অধিক ট্রাক ও কভার্ডভ্যানের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টন মালামাল পরিবহন করে থাকে যার মধ্যে মালামালসমূহ কাষ্টম তথা সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধিগণ সাধারণ অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত ড্রাইভারের হাতে বুঝিয়ে দেন কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে, আমাদের গাড়ির চালকগণ নামমাত্র কাগজপত্র বুঝিয়ে নিলেও কমবেশি মালামাল বুঝে নেওয়ার মতো পারদর্শি নয়, সেই সুযোগে অসাধূ কর্মকর্তা ও সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধিরা কোন না কোনভাবে মালামাল খোঁয়া যাওয়ার অজুহাতে চালক বা ট্রান্সপোর্ট প্রতিনিধিকে হয়রানী করে থাকে। যার জন্য আমাদের মালিক সমিতি তথা ট্রান্সপোর্ট মালিকদের একজন দক্ষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশের প্রবেশাধিকার একান্ত আবশ্যক এটি সময়ের দাবী।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, নিউমুড়িং বন্দর আরসিসি গেইট থেকে ফকির হাট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে বন্দর থেকে বোঝাইকৃত ট্রাক ও কভার্ড ভ্যানের তালা কেটে প্রকাশ্যে মালামাল ছিনতাই হয়। সেখানে ডিউটিরত পুলিশ রহস্যজনকভাবে নিরবভূমিকা পালন করে। ঐ স্থান থেকে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ও বড়ঘোনা পৌর সভার জন্য আমদানীকৃত পানির মিটার এখনো উদ্ধার হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মালামাল আনা-নেওয়ার একমাত্র পথ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। সেই মহাসড়কে মিরসরাই-এ পরিবহনের ওজন নিয়ন্ত্রনের জন্য সরকারীভাবে একটি স্কেল বসানো হয়েছে। উক্ত স্কেলটি সরকারী ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করার কথা থাকলেও অঘোষিতভাবে একটি সংঘবদ্ধ অসাধু লোকজন উক্ত স্কেল পরিচালনা করে আসছে। সে স্কেলে প্রতিনিয়ত আমাদের পণ্যবোঝায় ট্রাক কভার্ডভ্যান সমূহ চাদাঁবাজি ও হয়রানরি শিকার হচ্ছে। উক্ত চাদাঁবাজির কার্যক্রম খোলামেলাভাবেই (ওপেন সিক্রেট) পরিচালিত হচ্ছে। উক্ত স্কেলের হয়রানীর অভিশাপ থেকে পরিবহন মালিকদের রক্ষা করার জন্য বঙ্গবন্ধু সেতুর অনুরুপ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে স্কেলটি পরিচালনা করলে একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে লাভবান হবে অন্যদিকে ট্রাক-কভার্ডভ্যান মালিকগণ হয়রানী থেকে মুক্তি পাবে বলে মনে করি। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্যসমূহ আনয়নের ক্ষেত্রে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক কভার্ডভ্যান চলাচলের সময় চট্টগ্রামসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় মহাসড়কে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের প্রতিনিয়ত চাঁদা পরিশোধ করতে হয়। তাদের দাবীকৃত চাদাঁ পরিশোধে ব্যর্থ হলে গাড়ির চালক ও মালিককে অহেতুক নানাবিধ হয়রানী করা হয়। সন্ত্রাসীদের শারিরীক হয়রানী থেকে বাচাঁর জন্য গাড়ির চালকগণ প্রতিটি স্থানে অবৈধ চাদাঁ পরিশোধে বাধ্য হয়। যার দরুণ পরিবহনের নির্ধারিত ভাড়া হতে অতিরিক্ত ভাড়া পণ্যের মালিকদের কাছ থেকে আদায় করতে বাধ্য হন পরিবহন মালিক বা চালকরা। সেই অতিরিক্ত ভাড়ার চাপ অবশেষে সাধারণ মানুষের উপর বর্তায়। তাই মহাসড়কে সন্ত্রাসীর অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং পুলিশের চাদাঁবাজি বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের যথাযথ হস্তক্ষেপ একান্ত জরুরী।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অর্ন্তভুক্ত এলাকায় অবস্থিত। উক্ত বন্দর থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টন আমদানীকৃত পণ্য এবং দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উৎপাদিত রপ্তানীকৃত পণ্য এই বন্দরের মাধ্যমে আনা-নেওয়া হয়। উক্ত পণ্যসমূহ পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম ট্রান্সপোর্ট বা পরিবহন সংস্থা। সে কারণে প্রতিটি ট্রান্সপোর্টের ট্রেড লাইসেন্স করার সময় অতীতে সিটি কর্পোরেশন বার্ষিক ৫০০/(পাচঁশত) ফি নিলেও বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য পরিশোধ করতে হয় ১০,০০০/(দশ হাজার) টাকা। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
ট্রাক কভার্ডভ্যান মালিকগণ প্রতিনিয়ত নানাবিধ হয়রানীর শিকার হচ্ছেন যার ফলে অনেক ট্রান্সপোর্ট মালিক তাদের ব্যবসা প্রতিষ্টান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন, বহু প্রতিষ্ঠান লোকসানে পতিত হয়েছে, অসংখ্য পরিবহন শ্রমিক বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে দিন যাপন করছে, অসংখ্য গাড়ি ব্যাংকের ঋণের দায়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় বন্ধ রয়েছে। সবকিছু বিবেচনা করে আমরা আন্তঃজিলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কভার্ডভ্যান মালিক সমিতি উল্লেখিত সমস্যা সমূহ সমাধানের দাবীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আলহাজ্ব দীন মোহাম্মদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, উল্লেখিত দাবীর স্বপক্ষে মতামত গ্রহনের জন্য চট্টগ্রাম চেম্বারসহ পরিবহন সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সংস্থার সাথে মতবিনিময়ের পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং দপ্তরের প্রধানকে স্মারকলিপির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালাব। ন্যায্য ও যৌক্তিক এই দাবীর আহ্বানে যথাযথ কর্তৃপক্ষ যদি সমস্যা সমূহ সমাধান করতে গড়িমসি করেন তাহলে আমরা আগামীতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সাংগঠনিক কর্মসূচি দিতে বাধ্য থাকব।
তিনি বলেন, অজ্ঞাত পরিচয়ে কিছু কিছু মানুষ আমাদের সংগঠনের নাম ব্যবহার করে নিজেদেরকে এই সংগঠনের নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন দপ্তর তথা সাধারণ ট্রান্সপোর্ট মালিকগণকে ধোঁকা দিয়ে আসছে। তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান রইল।
সংবাদ সম্মেলনে আন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সমিতির কার্যকরী সভাপতি আজাদ দোভাষ, সহ-সভাপতি মো: কামাল উদ্দিন, নাসির মিঞা, আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ দস্তগীর, ছালেহ আহম্মদ, আবদুল মাবুদ, শামসুল ইসলাম, আবদুল জাহিদ,আবদুল হক, মো: ফয়সাল অভি, খোরশেদ আলম লিটন, ফরহাদুল হাসান মোস্তফা, মো: দেলোয়ার হোসেন প্রমূখ।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

ট্রেনে কাটা দূর্ঘটনা এড়াতে রেল পুলিশের অভিযান চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় ০৩ দিনে আটক ১৬১

চট্টগ্রামঃ ২৩ অক্টোবর ২০১৬ সোমবারঃ ট্রেনে কাটা দুর্ঘটনা এড়াতে গত ৩ মাস ধরে জনসচেতনতা মূলক ...