প্রতিবাদ কর্মসূচি দিচ্ছে বিএনপি!

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের ‘প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে প্রতিবাদ কর্মসূচি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
সোমবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

মঙ্গলবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে ২০ দলের বৈঠক শেষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া বিএনপি নেতারা।

খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বরচন্দ্র রায়।

নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে গত ১৮ নভেম্বর রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৩ দফা প্রস্তাব পেশ করেন।

দফাগুলোর মধ্যে ছিল- ১) ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন, ২) প্রধান নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন কমিশনারদের খুঁজে বের করতে পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন, ৩) বাছাই কমিটির আহ্বায়ক হবেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মক্ষম একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি ‍যিনি বিতর্কিত নন এবং অবসর সময়ে সরকারের কোনো লাভজনক পদে আসীন হননি, ৪) বাছাই কমিটির অন্য সদস্যরা হবেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, ৫) বাছাই কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য দুই জন ও চারজন নির্বাচন কমিশনারের জন্য ৮ জনের নামের তালিকা দেবেন। এই তালিকা থেকে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশন ও চার জন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবেন, ৬) নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দল অথবা স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলোর মতৈক্যের ভিত্তিতে ইসি গঠন, ৭) কমিশনে অন্তত একজন প্রবীণ মহিলা কমিশনার রাখা, ৮) নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার বিধান কমিশনের আরপিওতে সংযোজন, ৯) নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অথবা স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলো ২ জন করে ব্যক্তির নাম বাছাই কমিটির কাছে প্রস্তাব করবে, ১০) বাছাই কমিটিই প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন, ১১) কেউ যদি দায়িত্ব পালনে অসম্মতি প্রকাশ করে তাহলে একই প্রক্রিয়ায় পুনরায় কমিশনার নিয়োগ, ১২) প্রধান কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনারদের হতে হবে দলনিরপেক্ষ, সর্বজন শ্রদ্ধেয় সৎ ব্যক্তি এবং ১৩) নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় গঠন।

সোমবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটি মনে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার দেওয়া এসব প্রস্তাব আমলে নেন নি রাষ্ট্রপতি।

যাদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে, তাদের প্রায় প্রত্যেকেই সরকারের অনুগত লোক। বিশেষ করে জামায়াত বিএনপির জোট আমলে ওএসডি থাকা মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা এম নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নিয়োগ দেওয়ায় এই ইসির ভবিষ্যৎ দেখে ফেলেছে বিএনপি।

চার নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে নিজেদের প্রস্তাব করা মাহবুব তালুকদার ছাড়া বাকি ৩ জনকে নিয়ে আপত্তি আছে বিএনপি। দলটি মনে করে এই নির্বাচন কমিশন দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

সুতরাং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় স্থায়ী কমিটির বেশিরভাগ নেতা  কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে মত দেন। কিন্তু দলের বর্তমান পরিস্থিতে হার্ডলাইনে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় আপাতত প্রতিবাদ কর্মসূচি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

তবে এ ব্যাপারে দলটির নেতারা মিডিয়ার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। বরং চেয়ারপারসনের প্রেসউইং কর্মকর্তাদের দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন মঙ্গলবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) ২০ দলের বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেবে বিএনপি জোট।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

২১ আগস্ট ১৫ আগস্টের অসম্পূর্ণ নীল নকশার অংশ

  চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, ১৫ ...