দুর্বল মোহামেডানকে সবল করার চেষ্টা

গত ১৪ বছর ধরে ফুটবলে লীগ শিরোপা নেই ঢাকা মোহামেডানের। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে অবস্থাতো আরো ভয়াবহ। স্বাধীনতা কাপের পর ফেডারেশন কাপেও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে ঢাকার এই ঐতিহ্যবাহী দলটি। সর্বশেষ লিগে অল্পের জন্য রেলিগেশন এড়ায় ঐতিহ্যবাহি এই্ ক্লাবটি। ১২ দলের মধ্যে হয় দশম। যা একে বারেই বেমানান মোহামেডানের সঙ্গে।

অথচ ঢাকা  মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব প্রতিষ্ঠা লাভের পর প্রথম উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে ১৯৫৬ সালে। ঢাকা ফুটবল লীগে মোহামেডান অপরাজিত রানার্সআপ হয়। সেই থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি জনপ্রিয় এ দলটির। পরের বছরই লীগ শিরোপা ঘরে তোলে তারা। আসতে থাকে একের পর এক সাফল্য। স্বাধীনতার পূর্বেই সাত সাত বার লীগ চ্যাম্পিয়ন হয় মোহামেডান। স্বাধীনতার পর প্রথম দুই বছর পেছনের দিকে থাকলেও আবার গর্জে ওঠে জনপ্রিয় এ দলটি। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় মোহামেডান এবার লীগের দ্বিতীয় পর্ব খেলে কোনও হেড কোচ ছাড়াই! সহকারী কোচ মিজানুর রহমান ডন ও ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু চালান দলকে। মাঠে ম্যানেজার বাবুকেই দেখা যায় অঘোষিত কোচের ভূমিকায়! পেশাদারী ফুটবলে কোচ ছাড়া দল, সেই দলটি মোহামেডান, এমন দৃশ্য বিরল।

ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর হচ্ছে প্রিমিয়ার ফুটবল লীগ। আর দেশের সবচেয়ে বড় এবং ঐতিহ্যবাহী দুটি ফুটবল ক্লাবের একটি হচ্ছে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড। পাকিস্তান আমলে সাত বার এবং বাংলাদেশ আমলে ১২ বার লীগ জিতেছে ‘ব্ল্যাক এ্যান্ড হোয়াইট’রা। অথচ বিস্ময়কর ব্যাপার তারা সর্বশেষ লীগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ১৫ বছর আগে, ২০০২ সালে!

মোহামেডান এর আগে অনেক বারই লীগে তারা খারাপ ফল করেছে। কিন্তু এবারের মতো এত জঘন্য পারফরম্যান্স আর কখনও করেনি তারা। এ জন্য অবশ্য দায়ী দলটির কৃর্তপক্ষ। তাদের সাংগঠনিক ব্যর্থতা, অদক্ষতা, দূরদৃষ্টি এবং সদিচ্ছার অভাবেই এমন লজ্জাজনক রেজাল্ট হয়েছে নবম পেশাদার লীগে। এর আগে ২০০৮-০৯ মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগে মোহামেডান পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছিল। এটাই ছিল তাদের সবচেয়ে বাজে লীগ-রেজাল্ট। তবে ২০০৬-০, ২০০৮ এবং ২০০৯ মৌসুমে টানা তিন বার রানার্সআপ হয়েছিল তারা। ওই তিনবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তাদের চির প্রতিদ্বন্দ্বী ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। পেশাদার লীগ চালু হবার পর এখনও কোন শিরোপা জিততে পারেনি ব্ল্যাক এ্যান্ড হোয়াইটরা। এছাড়া বিপিএলে মোহামেডান ২০১০-১১ এবং ২০১৪-১৫ মৌসুমে দু’বার তৃতীয় হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ফেডারেশন কাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ে মৌসুমে মোহামেডানের যাত্রা শুরু। এরপর স্বাধীনতা কাপেও একই অবস্থা।

দলের এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে সোমবার মতিঝিলে অবস্থিত মোহামেডান ক্লাবের বোর্ডরুমে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা মোহামেডানের দুরবস্থা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ, বাজে অবস্থা কাটিয়ে উঠতে আশাবাদ এবং বিভিন্ন দিক নিদের্শনামূলক পরামর্শ দেন।

যেখানে উপস্থিত ছিলেন মোহামেডানের স্থায়ী ও বর্তমান সদস্যরা। এছাড়া ছিলেন মোহামেডানের হয়ে খেলা একাধিক সাবেক-তারকা ফুটবলারও। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন মোহামেডানের গভর্নিং বডির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুনিরুল হক চৌধুরী, খেলোয়াড় আব্দুস সালাম মুশেদী, বাদল রায়, ইলিয়াস হোসেন এবং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভুঁইয়া প্রমুখ।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড মহারন শুরু কাল, দু‍‍`দলে যারা খেলবেন

আগামীকাল শুরু হচ্ছে মর্যাদার অ্যাশেজ সিরিজ। বৃহস্পতিবার ব্রিসবেনের গ্যাবায় পাঁচ ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্ট ...