কেমন হওয়া চাই ‘ভালবাসা দিবস’ এর উপহার?

‘ভালোবাসা’ চারটি বর্ণের শব্দ হলেও এর ব্যাপ্তি অনেক। মনকে চুরি করার ক্ষমতা রাখে এ ভালোবাসা। ভালোবাসা ঘিরে জড়িয়ে আছে যেমন অনেক গল্প কিংবা করুণ কাহিনী, তেমনি আছে সফলতার ইতিবৃত্তও। যুগে যুগে ভালোবাসা প্রকাশে ভিন্নতা এলেও ভালোবাসা আছে তার নিজের জায়গাতেই। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেক কিছুতেই পরিবর্তন এসেছে। শুধু পরিবর্তন আসেনি ভালোবাসাতে। ভালোবাসা একটি মানবিক আর আবেগকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা।

যা কেবল প্রকাশ পায় বিশেষ একজন মানুষের জন্য। সে মানুষটি হতে পারে বাবা মা, প্রেমিক-প্রেমিকা কিংবা অন্য কেউ। ভালোবাসার পরিধি শুধু প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এমন তো কোনো কথা নেই। আর এ ভালোবাসাকেই মনের গহিনে সাজিয়ে রাখতে আর তাকে একটি বিশেষ দিনে বিশেষ মানুষটির সঙ্গে উদযাপন করার জন্য বছরের একটি দিনকে উৎসব আনন্দের সঙ্গে পালন করা হয়। আর সেই দিনটি হচ্ছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস যা আমাদের সবার কাছে প্রচলিত ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে।

লাল রঙের শাড়ি কিংবা হাতে লাল টকটকে গোলাপ নিয়ে প্রিয় মানুষটির হাত ধরে সারা দিন পছন্দের জায়গাগুলোতে ঘুরে বেড়ানো। প্রিয় মানুষটি পরতে পারে লাল পাঞ্জাবি কিংবা তার প্রিয়ার পছন্দের কোনো রঙের পোশাক। খোঁপায় ফুলের ছোট্ট মেলা কিংবা মাথায় হাজার ফুলের গোল মুকুটের মতো বেড়ি পরে সারা দিন ঘুরে বেড়ায় তরুণ-তরুণীরা। এ যেন ভালোবাসাময় চারদিক। তবে এ ভালোবাসা দিবসটি কোথা থেকে এলো এটি জানতে চায় অনেকে।

ভ্যালেন্টাইনস ডে’ অর্থাৎ ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে অনেক ধরনের কাহিনী জানা যায়। প্রধান যে কাহিনীটি প্রচলিত আছে, তা হল- রোমান একজন খ্রিস্টান পাদরি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নাম অনুসারে। তিনি ছিলেন একজন পাদরি এবং একই সঙ্গে একজন চিকিৎসক। কিন্তু সেই সময় রোমানদের দেবদেবীর পূজার বিষয়টি মুখ্য ছিল। তারা ক্রিশ্চিয়ান ধর্মে বিশ্বাসী ছিল না।

ক্রিশ্চিয়ান ধর্ম প্রচারের অভিযোগে ২৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমের দ্বিতীয় সম্রাট ক্লডিয়াসের আদেশে ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছিল। তিনি যখন জেলখানায় বন্দি ছিলেন, তখন ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে জেলের জানালা দিয়ে চিঠি ছুড়ে দিত। বন্দি থাকা কালে জেলারের অন্ধ মেয়ের চিকিৎসা করে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন।

মেয়েটির সঙ্গে তার যোগাযোগ ঘটে চিঠিতে। মৃত্যুর আগে মেয়েটিকে লেখা এক চিঠিতে তিনি জানান তার ভালোবাসার কথা। চিঠির শেষে লেখা ছিল ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন। অনেকের মতে, সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নাম অনুসারেই পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন। আরও একজন ভ্যালেন্টাইনের নাম পাওয়া যায় ইতিহাসে।

রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস যুদ্ধের জন্য ভালো সৈন্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ওই রাজ্যের যুবকদের বিয়ে করতে নিষেধ করেন। কিন্তু এ ভ্যালেন্টাইন নিয়ম ভেঙে প্রেম করেন, তারপর বিয়ে করেন। ফলে তার মৃত্যুদণ্ড হয়। আদিকালে রোমানরা মনে করত ১৪ ফেব্রুয়ারিকে পাখিরা তাদের জীবনসঙ্গী খুঁজে নিত। তাই তারা এ দিনটিকে ভালোবাসা দিবসের জন্য উপযুক্ত মনে করত। এসব বিভিন্ন ঘটনাকে সামনে রেখেই বিশ্বজুড়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ পালিত হয়। এ জন্য বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হয় অসংখ্য ডিজাইনের কার্ড, ফুলসহ আরও অন্যান্য উপহার সামগ্রী। দিন দিন এর ব্যাপ্তি বেড়েই চলেছে।

ভালোবাসাকে তাই বরণ করাও হয় নানাভাবে নানা আঙ্গিকে। উপহারের মধ্যে থাকে নানা ধরনের চকলেট আর গিফট প্যাকেট আর কার্ড। ভালোবাসা দিবসের সবচেয়ে উল্লেযোগ্য উপহার হচ্ছে ভ্যালেন্টাইন ডে কার্ড। এটি হতে পারে সাধারণ কার্ড কিংবা মিউজিক কার্ড।

কোনো কোনো কার্ডে ভয়েজ রেকর্ডার থাকে। যাতে থাকে প্রিয় মানুষটিকে কিছু বলে চমকে দেয়ার উপায়, আবার কিছুতে থাকে হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন বলা। তবে কার্ডের যখন প্রচলন ছিল না তখনও মানুষ তাদের ভালোবাসা একইভাবে প্রকাশ করত। তাদের মাধ্যম ছিল তামার পাত কিংবা কাঠের মধ্যে খোঁদাই করা বার্তা। ১৯৩৬ সাল থেকে প্রথম ভালোবাসা কাগজে লিখে প্রকাশ করার প্রচলন শুরু হয়। রোমের ইএম ক্রুমক্রিয়াতিকে দেয়া হয় প্রথম ভালোবাসার কার্ড।

এখন ভালোবাসার কার্ডের সঙ্গে দেয়া হয় পছন্দের মানুষের প্রিয় চকোলেট। কখনও বক্সে কিংবা কখনও তা নিজের হাতে নানাভাবে সাজিয়ে। এসব চকোলেট কিংবা উপহার দেয়ার জন্যও আছে নানা ধরনের উপহারের বক্স। যাতে আপনি অনায়াসে আপনার পছন্দের উপহারটি তার কাছে পাঠাতে পারবেন। এ বক্সগুলো হয়ে থাকে কাপড়ের কখনও কাগজের আবার হার্ড বোর্ডের। এর মাঝে থাকে পুঁতির কাজ, স্টোনের কাজ আবার প্রিয় মানুষের নাম নানাভাবে লেখা।

আপনি অর্ডার দিয়েও এমন বক্স আপনার মনের মতো করে বানিয়ে নিতে পারেন। যা দিয়ে আপনি আপনার প্রিয় মানুষটিকে অবাক এবং সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্ত করতে পারবেন আপনার না বলা ভালোবাসার কথা। এর পাশাপাশি আপনি আপনার প্রিয়াকে দিতে পারেন হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন লেখা ডল পুতুল। বর্তমানে যা ভিষণভাবে জনপ্রিয়। এর সঙ্গে সঙ্গে হার্ট শেপের ছোট ছোট লাল রঙের কুশন, আর ছোট ছোট রং-বেরঙের পুতুল। যা ব্যাগে কিংবা রুমে অনায়াসে সাজিয়ে রাখা সম্ভব। কোথায় পাবেন

যমুনা ফিউচার পার্ক, আড়ং, হলমার্ক, আজিজ সুপার মার্কেট, মাস্কট প্লাজাসহ আপনার আশপাশের যে কোনো শপিং মলগুলোতে।

দাম : বিভিন্ন আকার আর উপহারগুলোর ধরনের ওপর দামের রয়েছে ভিন্নতা। কার্ডের দাম পড়বে ৬০-৮০০ টাকা, পুতুল ১২০-১৫ হাজার ৫০০, মিউজিক্যাল হার্ট ৬৫-৮৯৫, চকলেট বক্স ৭৫-৬০০ টাকা, মিউজিকাল কার্ড পড়বে ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টকার মধ্যে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়্যা’ছবিতে শাকিব-বুবলি

বিনোদন প্রতিবেদক: পরপর দুই জোড়া ছবি উপহার দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন শবনম বুবলি। এবার বেশ কয়েক ...