সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী কায়দায় বর্বরতা!

(কে এই আ’লীগ নেতা মাহাবুব?)
সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী কায়দায় বর্বরতা!
এবার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক মো. নুরুল আলম চৌধুরী নামের এক সাংবাদিক হামলা ও সন্ত্রাসী কায়দায় বর্বরতার শিকার হয়েছেন। আহত সাংবাদিককে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) ও তার পরিবারের সহায়তায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্বরতার শিকার সাংবাদিকের মুখ, নাক, ঘার, কোমড়সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম হয়েছে। এই ঘটনায় রাতেই খুলশী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। ১৪নং লালখান বাজারের মতিঝর্ণা এলাকার একটি ১৩ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এই হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি নগরীর ১৪নং লালখান বাজার ওয়ার্ডের মতিঝর্ণা এলাকার মৃত সোলাইমান ড্রাইভারের ছেলে আলাউদ্দিনের আপন ছোট ভাই আমজাদ হোসেন বক্কা তাদের ভাড়া ঘরে থাকা ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ঘর থেকে ডেকে মতিঝর্ণাস্থ সাত্তার রনির মার পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে বক্কাসহ ১২ জন পালাক্রমে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে মতিঝর্ণা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, জঙ্গি মদদদাতা হিসেবে পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী কথিত আ’লীগ নেতা মাহাবুব ও তার ছেলে সন্ত্রাসী জাহেদ ধর্ষণকারী ১২ জনকে নিজেদের ঘরে ডেকে এনে প্রত্যেকজন থেকে ধর্ষণের দায়ে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করে। এরপর মাত্র ১৩ হাজার টাকা দিয়ে ধর্ষিত কিশোরীর পরিবারকে চুপ থাকতে বলে তারা। বিষয়টি মেনে না নেয়ায় ওই মেয়েসহ তার পরিবারকে নানানভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আত্মগোপনে রাখে সন্ত্রাসী মাহাবুব ও তার সহযোগীরা।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে মাহাবুব, তার ছেলে জাহেদ, তৈয়ব, বাবু ও মেয়ে শিউলী, মাহাবুবের স্ত্রী, স্থানীয় সন্ত্রাসী মিজান প্রকাশ কালো মিজানসহ অজ্ঞাত আরো ৫-৭ জন সাংবাদিক নুরুল আলমের উপর হামলা চালায়। এসময় তারা সাংবাদিককে বেঁধে গাছের ডাল দিয়ে এলোপাতারিভাবে পায়ে, কোমড়ে ও ঘাড়ে আঘাত করতে থাকলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকের বুকে পা রেখে তাকে নানানভাবে পরিহিত কাপড় খুলে উপস্থিত শতাধিক মানুষের সামনেই নির্যাতন করে। উল্লেখিতরা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হওয়ায় এসময় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখায়নি। পরে সাংবাদিকের মা ও স্ত্রী সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে পায়ে ধরে ছেলে/স্বামীর প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে তাকে রক্ষা করে।
পরে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী’র নির্দেশনায় সিইউজে’র যুগ্ম সম্পাদক স্বরূপ ভট্টাচার্য, সদস্য বিষু রায় চৌধুরী ও আব্দুর রউফ পাটোয়ারি আহত সাংবাদিককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
কে এই মাহাবুব
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজ সেবক এবং অধিবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, মাহাবুব মতিঝর্ণা এলাকার চিহ্নিত অপরাধী। সে এলাকায় মাদক ব্যবসা, পতিতা ব্যবসাসহ নানান অপরাধমূলক কাজে যুক্ত। তার ছেলে যুবলীগের নেতা পরিচয়ে বিশাল একটি বাহিনী গড়ে তুলেছে। সেই বাহিনীর আমজাদ হোসেন বক্কা, মুন্না, রাশেদ ও কাউসারসহ ১২ জন মিলে ১৩ বছরের ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এছাড়াও গত একমাস আগেও ধর্ষক আমজাদ হোসেন বক্কা তাদের ভাড়াটিয়া আরেক কিশোরীকেও স্বদলবলে ধর্ষণ করে। পরে কিছুদিন আগে ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে এবং এটিকে ধামাচাপা দিতে নানান ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষকদের একজনের সাথে বিয়ে পড়িয়ে দেয়। মাহাবুব স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও আদতে সে দলের কোনো নেতা নয়। লালখান বাজার মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটনার সাথে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলেও ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতাদের সহযোগিতায় সে রক্ষা পায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহাবুব আ’লীগ নেতার পরিচয়ের আড়ালে জঙ্গিদের সাথে যোগাযোগ, সহযোগিতাসহ মদদ দিয়ে থাকে। এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে গঠন করে মাহাবুব বাহিনী। এই বাহিনী তার ছেলে সন্ত্রাসী জাহেদ বাহিনী হিসেবেও পরিচিত।
১৪নং লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম বলেন, মাহাবুব আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই, তবে দলের সমর্থক। মাহাবুব ভালো না খারাপ সেই বিষয়ে আমি কিছু বলবো না, তবে তার ছেলেরা খুবই খারাপ সেটা আমি বলতে পারি।
এপ্রসঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর এএফ কবির আহমেদ মানিক বলেন, সাংবাদিক নুরুল আলম চৌধুরী আমার এলাকার বাসিন্দা। তার উপর যে হামলা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন জানান, হামলার ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবহিত হয়েছি। আমাদের থানা থেকে এসআই আলমগীরকে চমেকে পাঠিয়ে আমরা সত্যতা পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে হামলাকারীদের গ্রেফতার করা হবে। আসামিরা কোনো ধরণের ছাড় পাবে না।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

আল-হাসনাইন ফাউন্ডেশনের ঈদ বস্ত্র বিতরণকালে বক্তারা প্রতিবেশী দরিদ্রের কোন খবর না নিলে কিয়ামতের ময়দানে কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে

এতিম অসহায়, অন্ন-বস্ত্রহীন মানুষের প্রতি সদয় হওয়ার জন্য রাসুলে করিম (দ.) উপদেশ দিয়েছেন- নিজে পেট ...