ভারতীয় বোর্ডের ভাগে কমছে ১২৭২ কোটি টাকা!

ধরুন আপনার আয় হওয়ার কথা ছিল ৪৫০ মিলিয়ন ইউএস ডলার। সেটাই হয়ে যাচ্ছে ২৯০ মিলিয়ন! এ তো আর এক-দু শ টাকার ব্যাপার নয়। হিসাব যে কোটি কোটি টাকার! কথার কথা নয়, আইসিসির নতুন প্রস্তাবিত নীতিতে এক হাজার ২৭২ কোটি ৪০ লাখ টাকা হারাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।

২০১৪ সালে পাস হয়েছিল ‘তিন মোড়ল’ নীতি। ‘বিগ-থ্রি’ নীতিতে ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আইসিসির সম্ভাব্য আয়ের ভাগ বণ্টনের একটা বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, আগামী ৮ বছরে আইসিসির আয়ের ২৭.৪ শতাংশই যাবে বিসিসিআই, ইসিবি ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছে। ভাগ বাঁটোয়ারাটাও ছিল অদ্ভুত। অস্ট্রেলিয়া পাবে ২.৭ ভাগ অর্থ, যুক্তরাজ্যের ভাগে ৪.৪ ভাগ। আর ভারত একাই নিয়ে নেওয়ার কথা ২০.৩ ভাগ! এত দিন এ নিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় যে তত্ত্বটা ছিল, ৮ বছরে আইসিসি থেকে ভারত নিয়ে নেবে ৫৭১.৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার (বাংলাদেশি মূল্যমানে সেটা চার হাজার ৫৪৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা)!
তবে কাল জানা গেছে, ৫৭১.৫ মিলিয়ন নয়; অঙ্কটা আসলে ৪৫০ মিলিয়ন ইউএস ডলার (তিন হাজার ৫৭৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা)। এই পরিমাণ টাকা নিশ্চিত পাওয়ার কথা ছিল বিসিসিআইয়ের। কিন্তু নতুন যে অর্থনৈতিক মডেল পাস হতে যাচ্ছে, সেখানে বিসিসিআইয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে মাত্র ২৯০ মিলিয়ন ডলার বা দুই হাজার ৩০৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক ঝটকায় বিসিসিআইয়ের ভাগের অঙ্কটা কমে গেল ১ হাজার ২৭২ কোটি ৪০ লাখ টাকা! অবশ্য অর্থ বণ্টনের পরিমাণটা কীভাবে ঠিক হচ্ছে সেটা বলা হয়নি এখনো।
সে জন্যই গতকাল দুবাইয়ে বিসিসিআই চেষ্টা করেছে যেকোনো উপায়ে এই প্রস্তাব পাস হওয়া আটকাতে। জিম্বাবুয়ে ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকায় ও শ্রীলঙ্কাকে নিজেদের পাশে পাওয়ায় ভোটাভুটিতে শেষ ফলাফল ছিল ৭-২। আর এতেই সাহস পাচ্ছে বিসিসিআই। কারণ, আইসিসির যেকোনো প্রস্তাব পাস হতে হলে কমপক্ষে তিন-চতুর্থাংশ ভোট পেতে হয়। এপ্রিলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যখন নেওয়া হবে তার আগেই আর্থিকভাবে দুর্বল বোর্ডগুলোকে নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করবে বিসিসিআই। জিম্বাবুয়ের মতো বোর্ডগুলোকে বিসিসিআই কোনো লোভনীয় প্রস্তাবও দিতে পারে ভোট টানার জন্য।
ভারতীয় বোর্ডের এক কর্মকর্তা তো বলেই দিয়েছেন, ‘৮-২ ভোটের প্রাধান্য দরকার ওদের। আর চার সদস্য যদি প্রস্তাবের বিপক্ষে থাকে তাহলে এটা কখনো পাস হবে না। আমরাই জিতব।’
নতুন প্রস্তাবে বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট আগের তুলনায় অনেক বেশি আয় করবে। আগের প্রস্তাবে বাংলাদেশের পাওয়ার কথা ছিল মাত্র ৫৪৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট পেত আরও কম, ৫২৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কান বোর্ডের পাওয়ার কথা ছিল ৬৪৬ কোটি টাকা। তবু শ্রীলঙ্কা বোর্ড ভারতের পক্ষেই আছে। জিম্বাবুয়েও তাদের ইচ্ছা জানাচ্ছে না। তবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিজেদের পক্ষে টানার আশা ছাড়েনি বিসিসিআই, ‘বাংলাদেশ কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাড়তি একটা ম্যাচ মানেই আর্থিকভাবে ওদের জন্য অনেক বড়। ওদের সঙ্গে ভারত শুধু চার বছরে একবার খেললেই হবে এবং তাদের জন্য আয়ের অনেক বড় উৎস।’

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

মেসির স্বপ্নপূরণ, নাম লেখালেন ইতিহাসের পাতায়

সর্বশেষ লা লিগার ম্যাচে আতলেটিকোর বিপক্ষে ম্যাচে গোল না পেলেও বার্সার হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে লিওনেল ...