চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন টার্মিনাল হচ্ছে সীতাকুণ্ডে

মিরসরাই নয়, সীতাকুণ্ডে হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন টার্মিনাল! এটির নাম হতে পারে সীতাকুণ্ড টার্মিনাল। বঙ্গোপসাগরের প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় জেটি নির্মাণ করে ৮ থেকে ৯ মিটার ড্রাফটের ছয়টি জাহাজ যাতে একসাথে ভিড়তে পারে সেই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ইউনিয়নের বোট ঘাটে নির্মাণ হতে যাচ্ছে নতুন এই টার্মিনাল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি টিম মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড এলাকায় প্রাথমিক সমীক্ষা চালিয়ে এই জায়গাটি নির্ধারণ করে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবালের নেতৃত্বে বন্দরের একটি উচ্চ পর্যায়ের টিম গতকাল এলাকাটি পরিদর্শন করে। এসময় স’ানীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলমও উপসি’ত ছিলেন।
টার্মিনাল নির্মাণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল বলেন, ‘আমরা জায়গাটি পরিদর্শন করেছি । এখানে ভাটার সময় ৭ থেকে সাড়ে ৭ মিটার ড্রাফট ও জোয়ারের সময় প্রায় সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। মিরসরাই ইকোনমিক জোনকে টার্গেট করে আমরা একটি বড় জায়গা নেয়ার চিন্তা করছি।’
মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডের মাঝামাঝি এলাকায় বন্দর না টার্মিনাল হবে এ ধরনের একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল গত কয়েকদিন আগে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে। সেই সময় তিনি সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেছিলেন, ‘ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে একটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।’
নতুন এই স’ান পরিদর্শনের জন্য বন্দর চেয়ারম্যানের সাথে গেছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের ৬ উর্ধতন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, মিরসরাই থেকে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত সমুদ্র উপকূলে এর চেয়ে ভাল ন্যাচারাল ড্রাফট আর কোথাও নেই। এখানে ভাটার সময় ৭ থেকে সাড়ে ৭ মিটার ড্রাফট রয়েছে, এছাড়া জোয়ারের সময় তা আরো দুই থেকে তিন মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। মেইনটেনেন্স ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সহজেই এই ড্রাফট নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এখানে দেড় কিলোমিটার জায়গায় ৬টি জেটি নির্মাণ করা সম্ভব। এখান থেকে মিরসরাই ইকোনমিক জোনের দিকে ১১ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ এলাকা বন্দরের আওতায় নিয়ে আসা হতে পারে। আর সাগর পাড় দিয়ে একটি বিশেষ সড়ক নির্মাণ করা হতে পারে। এই সড়ক দিয়ে ইকোনমিক জোনে যেমন যাতায়াত করা যাবে তেমনিভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথেও যাতায়াত করা যাবে।
কথা হয় সীতাকুণ্ড উপজেলার নির্বাহি অফিসার নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়ার সাথে। তিনি বলেন, মুরাদপুরের এই ঘাট ছাড়া মিরসরাই পর্যন্ত জেটি করার মতো ড্রাফট নেই। তাই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে এখানেই টার্মিনাল করতে হবে।
টার্মিনাল করার জন্য চিহ্নিত জায়গার মালিকানায় কারা রয়েছে জানতে চাইলে নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘বন্দর যে জায়গা চিহ্নিত করেছে সেই জায়গাটির প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি খাস। আর বাকি জায়গা ব্যক্তি মালিকানায় থাকতে পারে। বন্দর যদি সেখানে জেটি করে তাহলে এই জায়গায় যাতে কেউ কোনো স’াপনা নির্মাণ না করে সেবিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
এখানে বন্দর হলে এলাকার অর্থনীতির চিত্র বদলে যাবে জানিয়ে স’ানীয় ৪ নম্বর মুরাদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহেদ হোসেন নিজামী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল সীতাকুণ্ড সদরের এই ইউনিয়নটি। এখন যদি এখানে বন্দর করা হয় তাহলে পাল্টে যাবে এই এলাকার মানুষের ভাগ্য।
উল্লেখ্য, মিরসরাই ইকোনমিক জোনকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে গত বছর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সীতাকুণ্ড-মিরসরাই এলাকায় কোনো বন্দর করা যায় কিনা খতিয়ে দেখতে। সেই আলোকে বন্দরের টিম গত বছর থেকে কাজ করেছে এবং ইতিমধ্যে তারা একটি প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। আর সেই প্রতিবেদনের পর এখন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পরিদর্শন করলো সীতাকুণ্ড সমুদ্র উপকূলের জায়গাটি।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

সীতাকুন্ডে আবারো পাহাড় ধসে ৫ জনের মৃত্যু…!

সীতাকুন্ড প্রতিনিধি—২১/০৭/১৭ইং(দুপুরে) সীতাকুন্ডে আবারো পাহাড় ধসে ৫ জনের মৃত্যু. হয়েছে বলে খবর পাওযা গেছে । ...