‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা, বিশ্ব-বাণিজ্যে পরিবর্তনের আভাস

৮০-এর দশকে চালু হওয়া নব্য উদারবাদী অর্থব্যবস্থা যখন যুক্তরাষ্ট্রসহ সারাবিশ্বে ব্যর্থতার নজির স্থাপন করেছে, ঠিক তখনই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নামের সংরক্ষণশীল অর্থনীতির রূপরেখা নিয়ে মার্কিন রাজনীতির মঞ্চে হাজির হন আবাসন ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভয়াবহ বৈষম্য উৎপাদনকারী নব্য উদারবাদের জন্মভূমি যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তবাজারের অসারতা প্রমাণ করতে সমর্থ হন তিনি। আর সে কারণেই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্যমুক্তির স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন আমেরিকানরা। আর ওই নীতিতে শ্বেতাঙ্গ দরিদ্র আমেরিকানদের আস্থার কারণেই ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে সমর্থ হন। তবে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’কে কোনোভাবেই নব্য উদারবাদী অর্থ ব্যবস্থার রিপ্লেসমেন্ট ভাবতে পারছেন না অর্থনীতিবিদেরা। তাদের মতে, এই অর্থব্যবস্থার কোনও গন্তব্যই নেই। তারপরও যুক্তরাষ্ট্র যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুপক্ষীয় সম্পর্কের চেয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই গুরুত্ব দিতে যাচ্ছে, তখন বিশ্বের অনেক দেশই নিজ-নিজ স্বার্থ সংরক্ষণে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ আর নতুন জোট গঠনের চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছে। ট্রাম্পের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বিপন্নতা তৈরি করেছে, তা পুরনো অর্থনৈতিক সম্পর্ক বদলে দিচ্ছে বলেও আভাস মিলেছে। আভাস মিলেছে বিশ্ববাণিজ্যে একটি পরিবর্তনের সম্ভাবনারও।
নব্য উদারবাদী নীতির কথিত মুক্তবাজার ও এর অসারতার মার্কিন জমিন
সেই আশির দশকের রিগ্যান-থ্যাচার যুগে ওই দুই শীর্ষনেতার প্রত্যক্ষ প্রেরণায় আবির্ভাব হয় এই নব্য উদারবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার। লাতিন আমেরিকার মতো কিছু ব্যতিক্রম কথা বাদ দিলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে এখনও চলছে ওই অর্থনীতির শাসনব্যবস্থা। সেই ব্যবস্থার ব্যর্থতা এখন গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগতভাবে দুনিয়াজুড়ে প্রমাণিত। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বেসরকারি সহায়তা সংস্থা অক্সফাম প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, ২০১৬ সালে অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়ে বিশ্বজুড়ে সম্পদগত বৈষম্য বেড়েছে। পৃথিবীতে বর্তমানে ধনী-গরিবের মধ্যে পার্থক্য বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে। অক্সফাম প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বিশ্ব-জনসংখ্যার দরিদ্রতম অর্ধেক মানুষের সমান সম্পদ কুক্ষিগত রয়েছে মাত্র আট জন ধনী ব্যক্তির হাতে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও নব্য উদারবাদের অভিঘাত ভয়াবহ। বার্কলের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার এক হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে গত আট বছরে ১ শতাংশ পরিবার এই সময়ে অর্জিত সব অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ৫২ শতাংশের সুফল করায়ত্ত করেছে। ২০০৮-এর মন্দার প্রভাবে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ঋণ শোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রায় এক কোটি মানুষ বসতবাড়ির মালিকানা হারান। এমনকি ২০১৫ সালেও ১১ লাখ পরিবারের ঋণের কারণে বসতবাড়ি নিলামের মুখে ছিল।
নব্য উদারবাদের ব্যর্থ জন্মভূমিতে সংরক্ষণশীলতার মন্ত্র ও ট্রাম্পের উত্থান
নির্বাচনকালীন বিভিন্ন বুথ ফেরত জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শ্বেতাঙ্গ দরিদ্র ভোটারদের টার্গেট করেছিলেন সদ্য দায়িত্ব নেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কাল থেকে সেই রিগ্যানযুগের ব্যর্থ ও বিপন্ন নব্য উদারবাদের মুক্তবাজার অর্থনীতির সমালোচনা হাজির করেন তিনি। রক্ষণীশল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে বৈষম্যপীড়িত শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন দেখান। অভিষেক ভাষণে নতুন বাণিজ্য কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের বক্তৃতার ধারাবাহিকতায় ২১ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে একটি ‘শক্ত ও ন্যায্য চুক্তি’র কথা বলা হয়। মার্কিন অর্থনীতির উন্নতি ও লাখ লাখ মানুষের চাকরি ফিরে পেতে এই চুক্তিকে কাজে লাগাতে চান তিনি। ট্রাম্পের শপথের কিছু সময় পর দেওয়া হোয়াইট হাউসের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, যেসব দেশ বাণিজ্য চুক্তি ভঙ্গ করছে এবং আমেরিকান কর্মীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্মসংস্থান, বেকারত্ব দূর করা আর সমাজের মধ্যে বিরাজমান বৈষম্য কমানোর অর্থনৈতিক ‘মিরাকল’ না ঘটাতে পারলে ট্রাম্প নিশ্চিত ব্যর্থ হবেন। কেননা, নির্বাচনে জিততে তিনি শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের ব্যবহার করেছিলেন বিভক্তির সূত্রে।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি মেনে রক্ষণশীল ধারার পুঁজিবাদী অর্থনীতিকে আমেরিকার নতুন অর্থনৈতিক পলিসি আকারে গ্রহণের পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউনাইটেড স্টিল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট লিও জেরার্ড বলেছেন, বাণিজ্য উদারীকরণের বিরুদ্ধে যে অবস্থান ট্রাম্প নিয়েছেন, তা মার্কিন শিল্প খাতের অনেকেরই সমর্থন পেয়েছে। এমনকি ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থক হিসেবে পরিচিত, এমন অনেকেই রয়েছেন এ দলে।
ঘরে-বাইরে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নামের সংরক্ষণশীলতার অন্তঃসারশূন্যতা
ভয়াবহ বৈষম্য উৎপাদনকারী এই ব্যবস্থা এরই মধ্যে অর্থনীতিবিদদের একটা বড় অংশের মধ্যে ব্যর্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’কে কোনোভাবেই নব্য উদারবাদী অর্থ ব্যবস্থার রিপ্লেসমেন্ট ভাবতে পারছেন না অর্থনীতিবিদেরা। একে স্রেফ ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন নীতি’ মনে করছেন অর্থ-বিশ্লেষকরা। কেউ কেউ ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনকে ‘মূর্খ’ বলতেও ছাড়ছেন না। এই অর্থব্যবস্থার যেকোনও গন্তব্যই নেই, সে কথাও উঠে এসেছে অর্থনীতি বিশারদ ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যের মধ্য দিয়ে।
তবে বাণিজ্য খাতের সংরক্ষণশীলতার নীতি এনে শিল্পখাতের মুষ্টিমেয় অংশের সমর্থন পেলেও এই ব্যবস্থা সার্বিকভাবে বিপর্যয় ডেকে আনবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। আশঙ্কা রয়েছে বাণিজ্য যুদ্ধ আরও বিস্তৃত এবং স্পষ্ট হওয়ার। জানুয়ারির শেষ নাগাদ নিউ ইয়র্কভিত্তিক গ্লোবাল মার্কেটস অ্যাডভাইজরি গ্রুপের বিশ্লেষণ থেকে জানা যাচ্ছে, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নামের সংরক্ষণশীল নীতির কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে মার্কিন অর্থনীতি। সংস্থার একজন বিশেষজ্ঞ পিটার কেনি। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য, অর্থনীতি, কর এবং প্রবিধানের মতো বিষয়গুলোতে ট্রাম্পের যে দৃষ্টিভঙ্গি তার সম্ভাব্য বিপর্যয় সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন তারা।’ সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ আর এপির বিশ্লেষণ বলছে, আদেশের প্রভাবে মন্থর হয়ে পড়তে পারে মার্কিন অর্থনীতি। বিশেষ করে দেশটির শীর্ষ দুই রফতানিনির্ভর শিল্প পর্যটন ও উচ্চশিক্ষায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের দুই বাণিজ্য-শত্রু চীন আর মেক্সিকো। চীনের সঙ্গে সীমান্ত কর আরোপের পরিকল্পনা জানান দিয়েছেন ট্রাম্প এরই মধ্যে। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ ও নাফটা থেকে সরে আসার ঘোষণার পর পরই অভিবাসন-সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন তিনি। কাম্বারল্যান্ড অ্যাডভাইজরসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ডেভিড কোটোক বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈশ্বিক বিনিময়ের দু’টি ইতিবাচক দিক পণ্য ও পরিষেবা উভয়কেই পিছিয়ে দিচ্ছেন।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, ট্রাম্পের এসব নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-পরবর্তী পরিস্থিতি তৈরি করবে। সেসময় কঠোর নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেশটিতে ভ্রমণ কমে গিয়েছিল। এদিকে বহু উচ্চপ্রযুক্তির কোম্পানি ট্রাম্পের অভিবাসননীতির বিরোধিতা করেছে। কোম্পানিগুলো জানায়, এ সিদ্ধান্ত উচ্চদক্ষতাসম্পন্ন প্রতিভা নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় তাদের পিছিয়ে রাখবে। অ্যাপলের সিইও টিম কুক মনে করেন, অভিবাসন ছাড়া অ্যাপলের অস্তিত্বই থাকবে না। অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস সিরীয় অভিবাসীর সন্তান ছিলেন।
বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে ও স্থানীয় উৎপাদকদের রফতানি আরও প্রতিযোগিতামূলক করার জন্য সাধারণত আমদানি করা পণ্যের ওপর সীমান্ত করারোপ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে কোন দেশের পণ্যের চাহিদা কেমন, তার ওপর নির্ভর করে আরোপিত সীমান্ত করের প্রভাব। ডয়েচে ব্যাংকের অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত কর-সংক্রান্ত নীতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কে পতন ঘটাবে।
নতুন বাণিজ্য সম্পর্কের ডাক
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিজ বলেন, ‘ট্রাম্প উন্নত মানের অবকাঠামো নির্মাণ, প্রতিরক্ষা খাতে উচ্চ শুল্কছাড় এবং উচ্চ মাত্রায় বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাকে জাদুবিদ্যার অর্থনীতিই বলতে হবে।’ স্টিগলিৎজের মতে, ট্রাম্প রিগ্যান আমলের পশ্চাৎপদ অর্থনীতিকেই ঊর্ধ্বে তুলে ধরছেন। তবে ট্রাম্প তার অর্থনীতিতে আরও দুটি মারাত্মক অস্ত্র যুক্ত করেছেন— চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ এবং লাখো মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ছিনিয়ে নেওয়া। স্টিগলিৎজের দাবি, ট্রাম্প যে ক্ষুব্ধ মার্কিনিদের ভোটে জয়ী হয়েছেন, তারাও তার ওই আগ্রাসী অর্থনীতির শিকার হবেন। ট্রাম্প ওই ভোটারদের ক্ষোভকে ব্যবহার করেছেন বলে উল্লেখ করেন এই খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ।
ওদিকে এখনও যারা মুক্তবাজার ব্যবস্থায় সুফল পাচ্ছেন, সেই দেশগুলো ক্রমাগত একজোট হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে ক্রমেই বাণিজ্যের ‘বিশ্বযুদ্ধের’ আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কর্মকর্তা মার্ক লিওনার্দ এ প্রসঙ্গে বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে অন্যদের এক কঠিন টক্কর বাঁধতে যাচ্ছে। তিনি তার আমেরিকা ফার্স্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নে চীনসহ অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে উদ্দেশ্যহীনভাবে ভূ-রাজনৈতিক লড়াই উসকে দিতে যাচ্ছেন।
এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুপাক্ষিক সম্পর্কের চেয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই গুরুত্ব দিতে যাচ্ছে, তখন বিশ্বের অনেক দেশই নিজ নিজ স্বার্থ সংরক্ষণে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ আর নতুন জোট গঠনে চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছে। এমন পটভূমিতে গত সপ্তাহে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তারা উভয়েই ব্যবসায়িক সম্পর্ক মজবুত করার বিষয়ে আলোচনা করেন।
ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, জার্মানি ও জাপান বিশ্ব মুদ্রা বিনিময় বাজারকে প্রভাবিত করে ব্যবসা-বাণিজ্যে নিজেদের দখলদারিত্ব কায়েম করতে চাচ্ছে। ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তেব্যের প্রতিক্রিয়ায় জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ও জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল নিজেদের মধ্যে মৈত্রী গড়ায় তৎপর হয়েছেন। একইসঙ্গে তারা ট্রাম্পের অভিযোগ অস্বীকারও করেছেন। সবমিলিয়ে অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক ভূমিকার জবাবে দুনিয়ার অপরাপর শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোও একই পথে ধাবিত হবেন অচিরেই।

Check Also

টুইটার ছেড়ে দিচ্ছেন সনু নিগম

সম্প্রতি ‘আজান’ বিতর্কে জড়িয়ে ভারতীয় গায়ক সনু নিগম এখন টুইটার থেকেই বিদায় নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। …

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply