‘রাজনীতিবিদদের গুলিতেই মারা যাচ্ছি আমরা!’ -মানববন্ধনে রাবি শিক্ষক

দৈনিক সমকালের সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুল হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিভাগের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুসতাক আহমেদ বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, সারা দেশে পেশাজীবীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। আবার কোথাও সাংবাদিকদের হত্যা করা হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে। শুধু হত্যাই না, সেই হত্যার বিচারও আমরা পাচ্ছি না। যে জন্য হত্যাকারীরা সাহস পাচ্ছে।’

বিভাগের শিক্ষক মো. আবদুল্লাহীল বাকী বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা বলেন, তাঁরা জনগণের জন্য কাজ করেন। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, যাঁরা রাজনীতিবিদ, তাঁদের গুলি খেয়ে আমরা মারা যাচ্ছি! সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন এগুলো নতুন কোনো ঘটনা না। এগুলো ধারাবাহিকভাবে চলছে। আমি এই হত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হুসাইন মিঠুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিহুর রহমান, প্রভাষক মামুন আ. কাইয়ুম ও সমকালের রাজশাহী ব্যুরোপ্রধান সৌরভ হাবিব।

এ মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি কায়কোবাদ খান, বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সমকাল সহৃদ সমাবেশের উপদেষ্টা মুস্তাফিজ রনি।

গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মীরুর ছোট ভাই হাসিবুল হক পিন্টু শাহজাদপুর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মারপিট করেন। পরে মেয়রের বাসা থেকে পুলিশ পিন্টুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে বিজয় মাহমুদকে মারপিটের ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি মেয়রের বাসার সামনে পৌঁছালে কতিপয় লোক মেয়রের বাসা লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ে। একপর্যায়ে মেয়র তাঁর ব্যক্তিগত শটগান থেকে গুলিবর্ষণ করেন।

এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলি ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুলসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়।

গুরুতর আহত সাংবাদিক শিমুলকে প্রথমে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তী সময়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় গতকাল দুপুরে বগুড়া থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে দুপুর ১টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় এলাকায় শিমুল মারা যান।

সাংবাদিক শিমুলের মৃত্যুর খবর শুনে শোক সইতে না পেরে গতকাল সন্ধ্যায় তাঁর নানি রোকেয়া বেগম (৯০) মারা যান। এমনিতেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।

এদিকে শিমুল হত্যার বিচার দাবিতে শাহজাদপুরে আজ আধা বেলা হরতাল পালিত হয়েছে। শিমুল হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামি আওয়ামী লীগ নেতা কে এম নাসির উদ্দীনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

চট্টগ্রাম ইভটিজিং এর চিত্র ধারণকালে চট্টগ্রামে আলোকচিত্রীর ক্যামরা ভাংচুর

১৫ নভেম্বর বুধবার -২০১৭ চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে এক আলোকচিত্রীর ক্যামরা ভাংচুর করেছে একটি বিদ্যালয়ের ছাত্ররা। ...