পুলিশের সামনেই সাংবাদিককে গুলি ছোড়েন মেয়র মিরু (ভিডিও)

পুলিশের উপস্থিতিতেই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরু প্রকাশ্যে গুলি ছোড়েন। মিরুর ছোড়া ওই গুলিতেই বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ছবি তুলতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল। এরপর শুক্রবার বগুড়া থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার পথে দুপুরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে দু’টি ভিডিওতে সরাসরি মেয়র মিরুকে গুলি করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওর ১ মিনিট ৪ সেকেন্ডের সময় ভিডিওতে বন্দুক হাতে মিরুর উপস্থিতি দেখা যায়।
জানা গেছে, শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে বৃহস্পতিবার মারধর করার অভিযোগে তার সমর্থক আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ মেয়র মিরুর বাড়ি ঘেরাও করে। এতে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
একটি ভিডিওটিতে দেখা যায়, দু’পক্ষের সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল। ভিডিওতে লাঠি হাতে বেশ কয়েকজন যুবককে দৌড়াতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে কমপক্ষে ছয় রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এসময় মেয়র হালিমুল হক মিরুকে বন্দুক হাতে গুলি করতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কোনও পক্ষকে থামাতে পারেনি।
ভিডিওতে কেবল মেয়র মিরু-ই নয়, এ ঘটনায় জড়িত থানা আওয়ামী লীগের সদস্য কে এম নাসিরকেও দেখা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আজ নাসিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ভিডিওতে পরের দিকে আহত সাংবাদিক শিমুলকে বহন করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
এদিকে, আজ শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন বলেছেন, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলের (৪২) মৃত্যু পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর গুলিতেই হয়েছে। আব্দুল হাকিম শিমুলের জানাজা-পূর্ব এক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সংসদ সদস্য স্বপন এমন মন্তব্য করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতাকর্মীর বরাত দিয়ে সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন বলেন, ‘পৌর মেয়র মিরু নিজে তার শটগান দিয়ে বাড়ি থেকে পর পর পাঁচটি গুলি করেন। এর একটি শিমুলের চোখে ও মাথায় বিদ্ধ হয়। শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোনও দ্বন্দ্ব বা বিভেদ নেই। মেয়র নিজে ও তার দুই ভাই এবং তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে পৌর শহরে সন্ত্রাস করছিলেন। সাংবাদিক শিমুল পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় মেয়রের নিজের শটগানের গুলিতে নিহত হন। আমরা এ ঘটনার জন্য মেয়রের গ্রেফতার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কমল কুমার দেবনাথ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা সব ধরনের প্রমাণ সংগ্রহে কাজ করছি।’ ফেসবুকে ছড়ানো ভিডিও প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নজরে যা কিছু এসেছে তা আমরা তদন্ত সাপেক্ষে যাচাই-বাছাই করে দেখব। এরকম কোনও ভিডিও আমি দেখিনি।’
ঘটনার পর থেকে মিরু পলাতক বলেও দাবি করেন কমল কুমার দেবনাথ।
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে। মেয়রকে এখনও পাওয়া যায়নি। আমরা চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে কোনও ভিডিও থাকলে সেগুলো আমরা তদন্তের জন্য সংগ্রহ করব।’
মিরাজ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘মূল রাস্তায় যে ব্যারিকেড ছিল ঘটনার দিন পুলিশ সেটি ওঠানোর জন্য কাজ করছিল। মেয়রের বাসা গলির ভিতরে। সেখানে পুলিশ পরে গিয়েছে।’

ভিডিওটি দেখুন-

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

বাংলাদেশ হজ্বে বায়তুল্লাহর হজ্ব প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে বক্তাগণ হজ্ব নবী (সা.)-এর উম্মতের জন্য এক দুর্লভ প্রাপ্তি

বাংলাদেশ হজ্বে বায়তুল্লাহ- এর হজ্ব প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. আ. ক.ম. ...