ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে ২ সংস্থার বিরোধ

ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ নিয়ে সেতু কর্তৃপক্ষ ও রেলওয়ের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। সেতু কর্তৃপক্ষ চাইছে ঢাকা-চট্টগ্রাম সমান্তরালে সড়ক ও রেলপথে চলাচলের জন্য এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করতে। এতে আপত্তি জানিয়েছে রেলওয়ে। তাদের ভাষ্যÑ রেলপথ নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে, সেতু বিভাগ নয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথের দূরত্ব কমাতে দ্রুতগতির ট্রেনের জন্য নতুন রেললাইন নির্মাণ করা হবে। তাই নেওয়া হয় হাইস্পিড (উচ্চগতি) ট্রেন চলাচলের জন্য স্ট্যান্ডার্ড গেজ প্রকল্প। এরই অংশ হিসেবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইনের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রজেক্ট বাস্তবায়নে সম্প্রতি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে দ্রুতগতির রেলপথ নির্মাণ প্রক্রিয়াকালেই পৃথক প্রকল্প হাতে নিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। আহ্বান করা হয়েছে এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই)। তবে এতে আপত্তি জানিয়ে রেল মন্ত্রণালয় থেকে সেতু বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অবশ্য এর জবাবে সেতু বিভাগ সম্প্রতি জানিয়েছে, কেবল অবকাঠামো নির্মাণ করতে চায় সেতু কর্তৃপক্ষ, আর বাকি কাজ পরিচালনা করবে রেল কর্তৃপক্ষ। অবশ্য এ যুক্তিতেও রেল কর্তৃপক্ষ একমত পোষণ করেনি।

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরে হাইস্পিড তথা বুলেট ট্রেন চালুর নির্দেশ রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের বর্তমান দূরত্ব ৩২০ কিলোমিটার। প্রস্তাবিত রেল লাইনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩০ কিলোমিটার। বর্তমানে ঢাকা থেকে প্রথমে উল্টো পথে টঙ্গী, পুবাইল হয়ে ঘুরে কুমিল্লা দিয়ে চট্টগ্রাম যেতে হয়। দ্রুতগতির রেলপথটি যাবে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাধ্যমে। এতে করে যাত্রীদের সময় বাঁচার পাশাপাশি রেলেরও কমবে অপারেটিং ব্যয়। একইভাবে কমবে পরিবহন ব্যয়ও। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় অর্থে ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রপোজাল তৈরি করা হয়েছে। এ জন্য রেল মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবনাটি গত ২৯ জানুয়ারি পাঠানো হয় পরিকল্পনা কমিশনে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এরপর অর্থায়নসাপেক্ষে নেওয়া হবে মূল প্রকল্প।

এ পরিস্থিতিতে সেতু কর্তৃপক্ষের আওতায় নেওয়া পৃথক এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। সেতু কর্তৃপক্ষ চাইছে ঢাকা-চট্টগ্রাম সমান্তরালে সড়ক ও রেলপথ চলাচলের জন্য এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করতে। এ নিয়ে রেলের পক্ষ থেকে গত ১ ডিসেম্বর সেতু বিভাগকে চিঠি দিয়ে বলা হয়, সড়কপথের পাশাপাশি রেলপথ চলতে পারে না। এটি বাস্তবতাবিবর্জিত। বিশ্বের কোথাও এমন নজির নেই। তাছাড়া রেলপথ নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে, সেতু বিভাগ নয়।

রেল মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠির জবাবে ১৯ ডিসেম্বর সেতু বিভাগ থেকে বলা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় সড়কপথের পাশাপাশি উচ্চগতির রেল চলাচলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। পদ্মা সেতুর সমীক্ষার সময়ও সেতু এবং রেলপথসহ ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়েছিল। পদ্মা সেতুতে শুধু রেল লাইন বসানোর অবকাঠামো নির্মাণ করে দিচ্ছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সমীক্ষা চলাকালে রেলওয়েসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ নেওয়া হবে। বিস্তারিত কারিগরি ও আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে সড়কের পাশাপাশি উচ্চগতির রেলপথ নির্মাণ ফিজিবল হলে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করে দেবে সেতু কর্তৃপক্ষ। আর রেললাইন, স্টেশন নির্মাণ ও ট্রেন পরিচালনা করবে রেলওয়ে।

সেতু বিভাগের আওতায় রেল করিডরের অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, তারা (সেতু বিভাগ) ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে চাইছে। আমি মনে করি এটি ভায়াব্যল হবে না। কারণ সমান্তরালে সড়ক ও রেল চলতে পারে না। কোথাও এমনটি নেই।

আর হাইস্পিড ট্রেনের ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমীক্ষা ও ডিজাইনের পর রেলের উদ্যোগে বিভিন্ন দাতাসংস্থা বা অন্য উৎস থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। হাইস্পিড ট্রেন চালু হলে দুই ঘণ্টায় চট্টগ্রামে যাওয়া সম্ভব হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম দুই নগরীর বিমানবন্দর পর্যন্ত রেলপথে যাতায়াত করলে আকাশপথের চেয়ে এতে সময় সাশ্রয় হবে। এছাড়া সহজ হবে পণ্য পরিবহনও। কারণ রাতের একটা বড় অংশ যাত্রীদের যাতায়াতের তেমন প্রয়োজন হবে না। তখন ওই পথে চলবে পণ্যপরিবহন।

গত ২৩ অক্টোবর সেতু কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আহ্বান করা ইওআইয়ের একাংশে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা-চিটাগাং মাল্টি মোড়াল ট্রান্সপোর্ট করিডর উইথ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ইনক্লুডিং হাইস্পিড ট্রেন’। সেতু কর্তৃপক্ষের নেওয়া ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রকল্পের সঙ্গে হাইস্পিড ট্রেনের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করায় আপত্তি জানিয়েছেন রেলওয়ের প্রকৌশলীরা।

 

Check Also

আল্লাহকে গালি দেওয়া নারায়ণগঞ্জের সেই লাঞ্ছিত শিক্ষক শ্যামল কান্তি কারাগারে !

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথিত অভিযোগে লাঞ্ছনার শিকার বন্দরের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক …

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply