আলো দেখতে যাচ্ছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট

দফায় দফায় ফাইল চালাচালির পর এবার আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে ‘পুলিশ ব্যুরো অব কাউন্টার টেরোরিজম’ নামের বিশেষ ইউনিট। এই আলোর সন্ধান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন বলেছেন- তখন সারাদেশে এই বিশেষায়িত ইউনিট গড়ে উঠবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এতোদিন একটি বিশেষ ইউনিট চালিয়েছে। তবে প্রস্তাবিত বিশেষ ইউনিটটি গঠিত হবে সারাদেশের জন্য।

জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্ট সংকট মোকাবেলায় প্রযুক্তিসমৃদ্ধ, কার্যকরী অস্ত্রে সজ্জিত, দ্রুত মোতায়েনযোগ্য ও সু-প্রশিক্ষিত বিশেষ ইউনিট গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে পুলিশ। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে জমা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে এই বিশেষ ইউনিট গঠিত হতে পারে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘বর্তমানে প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনের লক্ষ্যে গতানুগতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাকে পুনর্গঠিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ইউনিট প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত এই ইউনিটটির কাজ সম্পর্কে বলা হয়েছে, জনসমাগম হয় এমন এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যাপক বিধ্বংসী কার্য প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজন ঘটনা-নির্দিষ্ট আগাম তথ্য সংগ্রহ, পূর্বাপর ঘটনার বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিকিউরিটি/থ্রেট ম্যাট্রিক্স প্রণয়ন, আয়োজক ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় এবং তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্তকরণ এবং সর্বোপরি অনুষ্ঠান সংক্রান্ত জঙ্গি এবং সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর আগ্রহ-সূত্র উদঘাটন।

এসব কাজ করতে গিয়ে জনসমাগম হওয়া এলাকায় ফিজিক্যাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে সিসি ক্যামেরা, গোপন/প্রকাশ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, ফ্রিকোয়েন্সি জ্যামিং, মোবাইল মনিটরিংসহ যোগাযোগ-প্রযুক্তির ব্যবহার, কৌশলগত অবস্থানের সু-প্রশিক্ষিত কর্মী সংক্রান্ত কাজ করবে প্রস্তাবিত ইউনিটটি।

জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জনগণকে জিম্মি করে বা জিম্মি করা ব্যতীত হত্যাসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালালে তা দ্রুত আয়ত্তে আনার জন্য অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় ও কার্যকরী অস্ত্রে সজ্জিত সু-প্রশিক্ষিত এবং দ্রুত মোতায়েনের জন্য এই বিশেষ ইউনিট কাজ করবে। তবে মূল পুলিশি কার্যক্রম থেকে এই ইউনিট মুক্ত থাকবে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ১৫ নভেম্বর ‘পুলিশ ব্যুরো অব কাউন্টার টেরোরিজম’ নামক একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠনে তিন হাজার ১২৫টি নতুন পদ সৃষ্টি করার একটি প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে ২০১১ সালের ২৩ আগস্ট প্রস্তাবটি সংশোধিত করে ৯৬২টি নতুন পদ সৃষ্টির অনুরোধ জানিয়ে পুনরায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় পুলিশ হেডকোয়াটার্স থেকে।

২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ৭৮৫টি পদ সৃজনের জন্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়। সর্বশেষ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ৬০০টি পদ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন ধরনের ১০৬টি যানবাহন ও ১১টি সরঞ্জামাদি যুক্ত করে প্রস্তাব পাঠানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এই বিশেষ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব নিয়ে মন্ত্রণালয়ের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই এই বিশেষ ইউনিট গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এ দিকে গত ২৩ জানুয়ারি পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পুলিশের কাজের ক্ষেত্র আজ বিস্তৃত হয়েছে সাইবার ক্রাইম, মানি লন্ডারিং, মাদক পাচার, পণ্য চোরাচালন, নারী-শিশু পাচার এমনকি জলজ-বনজ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে। স্থীতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ শ্রদ্ধা নিবেদনে অনলাইন জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন

ডেক্স রিপোট:১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চিটাগং অনলাইন জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের এবং অনলাইন পত্রিকা ক্রাইম ...